মৌচাকের পণ্য (Beehive products)
মৌচাকের পণ্য (Beehive products)
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 1 August 2026
পূর্ববর্তী ব্লগে (https://jibonjatrarjournal.co.in/blog/honey/ ) আমি মধু বিষয়ে আলোচনা করেছি। আমাদের দেশে অধিকাংশ মৌমাছিপালক মধুকেই তাঁদের প্রধান পণ্য হিসেবে দেখেন, আর কিছু পরিমান মোম উৎপন্ন হয়। এইসকল মৌমাছিপালকদের কেউ এপিস সেরেনা (Apis cerana) পালন করেন, কেউ এপিস মেলিফেরা (Apis mellifera) পালন করেন, আবার কেউ দুটিই পালন করেন। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন শস্যের ফুলের প্রাপ্যতা অনুসারে বৎসরের বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন স্থানে এঁরা মৌমাছির বাক্সগুলোকে নিয়ে যান – একে মাইগ্রেটরি বিকিপিং (Migratory beekeeping) বলা হয়। আবার কেউ কেউ একটি নির্দিষ্ট স্থানে মৌমাছি পালন করেন। মৌমাছি কিন্তু কেবলমাত্র মধু বা মোম উৎপাদন করে না বরং আরও অনেক বস্তু উৎপন্ন করে, যেমন এরা ফুলে ফুলে ঘুরে পরাগ (Bee pollen) সংগ্রহ করে মৌচাকে নিয়ে আসে, কর্মী মৌমাছি (নার্স) রয়্যাল জেলি (Royal jelly), প্রপলিস (Propolis) প্রস্তুত করে, এদের শরীরে ভেনম (Bee venom) থাকে- এগুলিও কিন্তু পণ্য হিসেবে ব্যবহার করা যায়।
মৌমাছি দ্বারা সংগৃহীত ফুলের পরাগ- বি-পোলেন (Bee-pollen) – প্রোটিন সমৃদ্ধ, আবশ্যক সকল অ্যামিনো অ্যাসিড এতে বর্তমান, সমগ্র তেলের পরিমান কম হলেও ওমেগা-৩ (ω-3) আলফা-লিনোলেনিক অ্যাসিডের (α-linolenic acid) অনুপাত উল্লেখযোগ্য, এবং পুষ্টিগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ পদার্থে (Minerals) ভরপুর। বি-পোলেনকে আন্তর্জাতিক বাজারে একটি “সুপারফুড” (Superfood) হিসেবে গণ্য করা হয়। এটি স্বাস্থ্য-পরিপূরক, এনার্জি বার, বেকারি পণ্য এবং স্বাস্থ্যকর পানীয় তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। রয়্যাল জেলি (Royal jelly), যা বিভিন্ন জৈব সক্রিয় উপাদানে সমৃদ্ধ, অ্যান্টি-এজিং প্রসাধনী, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিকারী পণ্য এবং স্বাস্থ্য টনিক তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। মৌমাছির খাদ্যের উৎস ও খাদ্য উপাদান রয়্যাল জেলির রাসায়নিক এবং পুষ্টিগত বৈশিষ্ট্যকে প্রভাবিত করে। প্রোপলিসের (Propolis) অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল (Antimicrobial), অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি (Anti-inflammatory) এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট (Antioxidant) বৈশিষ্ট্যের কারণে এটি ওষুধ, মুখের পরিচর্যা সামগ্রী, ত্বক পরিচর্যা পণ্য এবং হার্বাল প্রস্তুতিতে ব্যবহৃত হচ্ছে।
উন্নত দেশগুলিতে যেমন জাপান, চীন, জার্মানি, নিউজিল্যান্ড এবং যুক্তরাষ্ট্র-এ মৌমাছি পালন বা এপিকালচার শুধুমাত্র মধু উৎপাদনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। সেখানে মৌচাক থেকে প্রাপ্ত বিভিন্ন উপাদান যেমন বি-পোলেন, রয়্যাল জেলি, প্রোপলিস, মোম এবং বি-ভেনম ব্যবহার করে নানা ধরনের মূল্য সংযোজিত (value-added) পণ্য তৈরি করা হয়। এইসব উপাদান নিউট্রাসিউটিক্যাল (Nutraceutical), কার্যকরী খাদ্য (Functional food), প্রসাধনী, ফার্মাসিউটিক্যাল (Pharmaceutical), খাদ্য-পরিপূরক, ত্বক পরিচর্যা সামগ্রী এবং স্বাস্থ্যবর্ধক পণ্যে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
বিশ্বব্যাপী প্রাকৃতিক ও স্বাস্থ্যসম্মত পণ্যের চাহিদা বৃদ্ধির ফলে এইসব মৌজাত পণ্যের বাজার দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষত চীন, তাইওয়ান ও থাইল্যান্ড রয়্যাল জেলি উৎপাদন ও রপ্তানিতে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে, আর ইউরোপ ও আমেরিকায় প্রোপলিস-ভিত্তিক পণ্যের বিশাল বাজার গড়ে উঠেছে। এই বহুমুখী ব্যবহার উন্নত দেশগুলিতে এপিকালচার শিল্পকে অধিক লাভজনক ও টেকসই করে তুলেছে।
অন্যদিকে, ভারতে এপিকালচার এখনও মূলত মধু-কেন্দ্রিক (Honey centric)। যদিও ভারতের সমৃদ্ধ উদ্ভিদ বৈচিত্র্য, অনুকূল জলবায়ু এবং বিশাল কৃষিনির্ভর জনগোষ্ঠী রয়েছে, তবুও বি-পলেন, রয়্যাল জেলি এবং প্রোপলিসের মতো উচ্চমূল্যের মৌজাত পণ্যের বাণিজ্যিক ব্যবহার এখনও অত্যন্ত সীমিত। অধিকাংশ মৌমাছিপালক শুধুমাত্র মধু ও মোম সংগ্রহ করেন। সচেতনতার অভাব, প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণের ঘাটতি, বাজার ব্যবস্থার দুর্বলতা, সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াকরণ অবকাঠামোর অভাব এবং ভোক্তাদের সীমিত জ্ঞান এই মৌমাছি পালনের বিকাশে বড় বাধা হিসেবে কাজ করছে।
এই অব্যবহৃত সম্ভাবনা ভারতের গ্রামীণ অর্থনীতি ও টেকসই জীবিকায়নের (Sustainable livelihood) জন্য এক বিশাল সুযোগ। আন্তর্জাতিক বাজারে বি-পলেন, প্রোপলিস এবং রয়্যাল জেলির মূল্য মধুর তুলনায় অনেক বেশি। সঠিকভাবে সংগ্রহ, প্রক্রিয়াকরণ এবং বাজারজাতকরণ করা গেলে মৌমাছিপালক বা মৌচাষিদের আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে। পাশাপাশি, এইসব মৌজাত পণ্যের উপর ভিত্তি করে ক্ষুদ্র শিল্প, নারী স্বনির্ভর গোষ্ঠী, উপজাতি সম্প্রদায় এবং গ্রামীণ উদ্যোক্তাদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।
অতএব, ভারতে টেকসই মৌমাছিপালনের (Sustainable apiculture) উন্নয়নের জন্য বহুমুখী মৌজাত পণ্যের ব্যবহার বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি। এজন্য বৈজ্ঞানিক প্রশিক্ষণ, সচেতনতা বৃদ্ধি, প্রযুক্তিগত সহায়তা, গবেষণা উদ্যোগ, বাজার উন্নয়ন এবং সরকারি নীতিগত সহায়তা প্রয়োজন। গবেষণা প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয়, সরকারি সংস্থা এবং বেসরকারি শিল্পকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে যাতে মৌচাষিরা বি-পোলেন, প্রোপলিস এবং রয়্যাল জেলির মতো পণ্যের উৎপাদন ও মূল্য সংযোজন সম্পর্কে উৎসাহিত হন। মৌজাত পণ্যের বহুমুখী ব্যবহার শুধুমাত্র এপিকালচারকে অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক করবে না, বরং গ্রামীণ কর্মসংস্থান, নারী ক্ষমতায়ন, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং টেকসই কৃষি উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এইভাবে বহুমুখী এপিকালচার ভবিষ্যতে টেকসই জীবিকা ও পরিবেশ সংরক্ষণের একটি শক্তিশালী মাধ্যম হয়ে উঠতে পারে।
Blogs
Our Latest Blogs
ভারতবর্ষে সুস্থায়ী বা টেকসই মৌমাছিপালনের জন্যে মধুর পাশাপাশি অন্যান্য মৌজাত দ্রব্যগুলির উৎপাদন এবং ব্যবহারের দিকে মনোনিবেশ করা প্রয়োজন।
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 1 August 2026
মৌমাছি পালন আমাদের দেশে প্রচলিত। ভারতীয় জ্ঞান ব্যবস্থায় (Indian Knowledge System) মধু উল্লেখযোগ্য স্থান গ্রহণ করেছে, খাদ্য উপকরণ এবং প্রধানত এর ঔষধিগুণের জন্যে। এখন এই ব্লগে এই বিষয়ে একটু আলোচনা করা যাক।
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 7 May 2026
পূর্ববর্তী ব্লগটিতে আমি সুস্থায়ী খাদ্য ও পুষ্টি সুরক্ষায় ঐতিহ্যগত জ্ঞান কেন আবশ্যিক সেই বিষয়ে আলোচনা করেছি। সেখানে প্রধানত আমি কারণগুলিকে উল্লেখ করেছি, তবে বিশদে উদাহরণ সহযোগে সেগুলি বর্ণনার অবকাশ এখনও রয়েছে, সে বিষয়ে আমি পরে অবশ্যই লিখবো। বর্তমান ব্লগটিতে আমাদের দেশের পরিপ্রেক্ষিতে কি কি উপায়ে সুস্থায়ী খাদ্য এবং পুষ্টি সুরক্ষায় এই ঐতিহ্যবাহী খাদ্যগুলি উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে পারে সেই বিষয়ে আলোচনা করবো।
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 27 Jan 2025
বর্তমান আলোচনায় প্রথম প্রয়োজন ঐতিহ্যগত জ্ঞান (বা Traditional Knowledge) কি সেটা বোঝা। ঐতিহ্যগত জ্ঞান বলতে বোঝায় সঞ্চিত জ্ঞান, অনুশীলন, দক্ষতা, উদ্ভাবন এবং প্রজ্ঞাকে যা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে কোনো সম্প্রদায় বা সমাজের মধ্যে সময়ের সাথে সাথে প্রবাহিত হয়।
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 27 Jan 2025
মাছে -ভাতে বাঙালী। খাদ্য নির্বাচনের সূত্র মেনেই জলবহুল বাংলায় অনাদিকাল থেকেই মাছ বাঙালীর খাদ্য হিসেবে গুরুত্ব পেয়েছে। মাছ চিরকালই বাঙালির রসনাকে তৃপ্ত করার পাশাপাশি পুষ্টি প্রদান করে এসেছে।
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 27 Jan 2025
পূর্ববর্তী ব্লগে পরাগসংযোগকারী কীট-পতঙ্গ নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করেছিলাম (অনুগ্রহ করে পড়ুন খাদ্য এবং পুষ্টি নিশ্চয়তায় পরাগ-সংযোগকারীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা)। বর্তমান ব্লগটিতে কীট-পতঙ্গ ছাড়া অন্য কয়েকটি প্রাণী নিয়ে আলোচনা করবো যারাও পরাগায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 27 Jan 2025
কীট-পতঙ্গ, বিশেষত পরাগ বহনকারী বা পরাগ-সংযোগকারী কীট-পতঙ্গ (Pollinator), আমাদের খাদ্য উৎপাদনের জন্যে অপরিহার্য। যে সকল খাদ্যশস্য আমরা খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করি তার প্রায় ৭৫% পরাগ-সংযোগকারী প্রাণীদের উপর নির্ভর করে, এই সকল পরাগ-সংযোগকারী প্রাণীদের মধ্যে কীট-পতঙ্গ উল্লেখযোগ্য।
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 26 Jan 2025
ইতিপূর্বে খাদ্যের রূপান্তরের সম্বন্ধে একটি ব্লগে আমি সবিস্তারে আলোচনা করেছি। বর্তমানেও এর ধারা অব্যাহত। এর পিছনে একাধিক কারণ রয়েছে, যেমন অর্থনৈতিক উন্নতি বা আয় বৃদ্ধি, নগরায়ন, এবং অবশ্যই বিশ্বায়ন। বর্তমান আলোচনাটি আমি সীমাবদ্ধ রাখবো খাদ্য ব্যবস্থার উপরে বিশ্বায়নের প্রভাবের বিষয়ে।
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 26 Jan 2025
আমরা আমাদের খাদ্যের দিকে একটু তাকাই, দেখবো খাদ্য উৎপাদন হচ্ছে, তা ব্যবহার হচ্ছে এবং অব্যবহৃত অংশ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এটা একটা সরলরেখার ন্যায় (Linear economy)। উৎপাদন-ব্যবহার-নষ্ট (Make-Take-Waste)। কিন্তু এই যে অংশটি ব্যবহার হচ্ছে না, তা উৎপাদন করতেও তো পয়সা লেগেছে। শুধু যে পয়সা লেগেছে, এমনটা নয়, জমি লেগেছে, জল লেগেছে, সার লেগেছে, আবার সেই অতিরিক্ত সার পরিবেশের উপর ঋণাত্মক প্রভাবও ফেলেছে - এ সকলই তো বৃথা গেলো, কোনো উপকার তো হলোই না, বরং অপকার হলো। কাজেই, এই উৎপাদন-ব্যবহার-নষ্ট (Make-Take-Waste) মডেলটি কার্যকরী হচ্ছে না। তবে কি করতে হবে? এই সরলরৈখিক সম্পর্কটিকে বৃত্তাকার সম্পর্কে (Circular economy) পরিণত করতে হবে।
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 26 Jan 2025
আনদং থেকে সাড়ে ন'টার বাসে রওনা হয়ে পূর্ব সোলে (Dong Seoul) এসে পৌঁছলাম প্রায় দুপুর সোয়া এক'টায়। সেখান থেকে ট্যাক্সি নিয়ে সোজা রেস্তোরাঁ।
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 26 Jan 2022
পূর্বের একটি ব্লগে আমি (বাস্তুতন্ত্রের সেবা প্রদান এবং খাদ্য) বাস্তুতন্ত্র কিরূপে আমাদের খাদ্য সংস্থান বিষয়ে পরিষেবা প্রদান করে সেই সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করেছি। এই ব্লগটিতে বর্তমানে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে যে খাদ্য সংকট উৎপন্ন হচ্ছে তার মোকাবিলা বাস্তুতন্ত্রের উপর নির্ভর করে কিরূপে করা সম্ভব তার উপর আলোচনা করবো।
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 23 Jan 2025
'আঃ বড্ড দাম নিচ্ছ, তরকারীতে তো হাত দেওয়ার উপায় নেই গো'। খদ্দেরের অভিযোগ শুনে বিক্রেতা একগাল হেসে, 'আমরাও তো দাম দিয়ে কিনে আনি বাবু, কতটুকু আর লাভ থাকে! তবে মাল আমার এখানে এক্কেবারে টাটকা' এই বলে প্রয়োজনীয় সব্জিগুলি খদ্দেরকে গুছিয়ে দিয়ে দেয়।
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 22 Jan 2025
পূর্বে একটি ব্লগে আমি বন্য প্রাণী ও উদ্ভিদের সংরক্ষিত স্থান, বিভিন্ন প্রকারের জঙ্গলের বিষয়ে একটা প্রাথমিক ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। আজ আলোচনা করবো এই জঙ্গলের বন্য প্রাণ নিয়ে।
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 22 Jan 2025
পূর্বের ব্লগটিতে আমি বিভিন্ন প্রকার ফরেস্ট বা জঙ্গলের বর্ণনা করেছি। এই ব্লগটিতে আমি দক্ষিণ কোরিয়ার ফরেস্টের কয়েকটি ছবি দিলাম, বছরের বিভিন্ন সময় টেম্পারেট ফরেস্টের বিভিন্ন রূপ।
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 22 Jan 2025
আমাদের মধ্যে অনেকে রয়েছেন যারা জঙ্গলকে (ফরেস্ট/Forest) খুব ভালোবাসেন, প্রকৃতির হাতছানিতে, জীবজন্তু কিংবা উদ্ভিদের আকর্ষণে প্রায়ই, বা সপ্তাহান্তে, বেরিয়ে পড়েন জঙ্গলের উদ্দেশ্যে। আমার এই ব্লগের উদ্দেশ্য জঙ্গল সম্বন্ধে প্রাথমিক আলোচনা করা, বিভিন্ন প্রকার সংরক্ষিত স্থান (মূল উদ্দেশ্য- সংরক্ষণ), বিভিন্ন প্রকার জঙ্গলের (পরিবেশগত ভাবে) আলাদা আলাদা চরিত্র ইত্যাদি নিয়ে একটু চর্চা করা।
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 22 Jan 2025
এবার একটু সরীসৃপ (Reptiles; class: Reptilia) প্রাণীদের দিকে দৃষ্টিপাত করা যাক। আনদং-র চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ তাঁদের সংগ্রহে অনেক সরীসৃপ প্রাণী এখানে প্রদর্শনের জন্যে রেখেছেন।
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 22 Jan 2025
আনদং-এ আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্নিকটে, ১০ কিলোমিটার দূরত্বের মধ্যেই একটি ছোট চিড়িয়াখানা রয়েছে। আমরা সপ্তাহান্তে প্রায়ই সেখানে যাই।
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 22 Jan 2025
ইতিপূর্বে পুষ্টি সুরক্ষা ও খাদ্য সংস্থান সম্পর্কিত ৪ টি পর্ব লিখেছি, সেখানে মিলেট, শাক, ডাল ইত্যাদির বিষয়ে উল্লেখ করেছি। আজ এই পর্বে একটু অন্য প্রকারের খাদ্যের কথা উল্লেখ করবো, যা বহুলভাবে ব্যবহৃত হলেও অতটা পরিলক্ষিত হয় না। ফার্মেন্টেড ফুড (Fermented foods) বা সন্ধানীকৃত খাদ্য এবং পানীয়ের কথা বলছি।
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 20 Jan 2025
ঐতিহাসিক নীহাররঞ্জন রায় তাঁর 'বাঙালীর ইতিহাস' গ্রন্থে প্রাচীন বাংলায় বাঙালির খাদ্যতালিকায় ডালের অনুপস্থিতির কথা উল্লেখ করেছেন।
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 20 Jan 2025
বর্তমান পৃথিবীতে অন্যতম একটি সমস্যা হল 'মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট ডেফিসিয়েন্সি' (Micro-nutrient deficiency), যা অনেক সময় 'হিডেন হাঙ্গার' (Hidden hunger) বলেও পরিচিত।
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 20 Jan 2025
ভারতবর্ষ ২০২৩ সালকে আন্তর্জাতিক মিলেট বৎসর হিসেবে ঘোষণা করার প্রস্তাব করেছিল, যা ফুড এবং এগ্রিকালচার অর্গানাইজেশন (Food and Agriculture Organisation of United Nations) ও জাতিসংঘের (United Nations) সাধারণ পরিষদ অনুমোদন করেছে (FAO events)। আমরা এই পর্বে আমাদের দেশের পরিপ্রেক্ষিতে মিলেট নিয়ে আলোচনা করবো।
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 17 Jan 2025
পুষ্টি সুরক্ষা এবং খাদ্য সংস্থান- পর্ব-১: সূচনা (Nutrition Security and Food – Part-1: Introduction)
বর্তমান ভারতবর্ষের তথা পৃথিবীর অন্যতম প্রধান সমস্যা হলো অপুষ্টি। ভারতবর্ষের দিকে দৃকপাত করলে, ক্ষুধা এবং পুষ্টি সংক্রান্ত সমসাময়িক কালে যে সকল প্রতিবেদন উঠে আসছে তার কোনোটিই যে অতি আশাপ্রদ নয় এ কথা বলাই বাহুল্য। স্বাধীন ভারতবর্ষে দেশবাসীর খাদ্য সুরক্ষা হেতু একাধিক প্রকল্পের প্রবর্তন হয়েছে।
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 17 Jan 2025
খাদ্য থেকে পুষ্টি সংগৃহীত হয়, যার মাধ্যমে জীব প্রাণ ধারন করে। অতএব সকল জীবের ন্যায় মানুষের খাদ্য এবং পুষ্টির প্রয়োজনীয়তা অপরিহার্য। খাদ্য থেকে প্রাপ্ত শক্তি এবং খাদ্যগ্রহনের পর শারীরিক উপযুক্ততা জীবকে খাদ্য নির্ধারণে সহায়তা করে। আবার, আহার তালিকায় খাদ্যবস্তুর সংযোজন বা বিয়োজন হলো খাদ্যতালিকা বা আহারের রূপান্তর।
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 17 Jan 2025