ইতিহাসের পটভূমিতে রাজগীর: ফিরে দেখা (Rajgir in the Background of History: A travelogue )
ইতিহাসের পটভূমিতে রাজগীর: ফিরে দেখা (Rajgir in the Background of History: A travelogue )
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 20 Jan 2025

এ ভ্রমণ বৃত্তান্ত আমার ছোটবেলার, আমি তখন পঞ্চম শ্রেণীতে পড়ি। বাবার এক বন্ধুর পরিবারের সাথে আমরা গিয়েছিলাম রাজগীর। বাবাকে কখনওই বেড়ানোর দীর্ঘ পরিকল্পনা করতে দেখিনি, হঠাৎ করেই ঠিক করে ফেলতেন, কখনও টিকিট কেটে এনে বাড়িতে এসে আমাদের নিয়ে রওনা হতেন। কাজেই এবারের রাজগীর যাওয়াও এর বিশেষ ব্যতিক্রম হলো না, দুই-তিন দিনের মধ্যেই বেরোনো। বলাই বাহুল্য বর্তমান সময়ের মতন দ্রুত যোগাযোগ ব্যবস্থা তখনকার দিনে ছিল না, বড়ো কোনো রেলওয়ে স্টেশনে, যেমন শিয়ালদা বা হাওড়া, লাইন দিয়ে টিকিট কাটা, লোক জনের মাধ্যমে খোঁজ খবর নিয়ে হোটেল ঠিক করা, হাতের কাছে উপযুক্ত কোনো অফিস বা দোকানে গিয়ে তা রিজার্ভ করার ব্যবস্থা করা ইত্যাদি। অনেক সময় তো আগে থাকতে হোটেল রিজার্ভ না করতে পারলে সেই স্থানে পৌঁছে আমাদের কোথাও দাঁড় করিয়ে বাবাকে হোটেল খুঁজে তারপর আমাদের নিয়ে গিয়ে তুলতেন। তবে তারও একটা মজা ছিল, জায়গাটা কেমন হবে, লোকজন কেমন, খাওয়া-থাকা-ঘোরা ইত্যাদি পুরো বিষয়টা কল্পনা করতে করতে যাত্রার পূর্বের দিনগুলি কাটতো। উৎসাহ, আনন্দ আর উত্তেজনা মিলে একটা অদ্ভুত অনুভূতির সৃষ্টি হতো। বড়ো মামার একটি ‘ভ্রমণসঙ্গী’ ছিল, সেটি নিয়ে আসা হলো, তখন ‘ভ্রমণসঙ্গী’র হাত ধরেই মানুষ দেশটাকে চিনতো, এই বইটি ছিল ভ্রমণের অত্যাবশ্যকীয় একটি উপাদান। কিছুদিন আগে যখন কোভিড-১৯ মহামারীর জন্যে লক-ডাউন হয়েছিল, শুনলাম বড়মামা সকাল থেকে সেই ভ্রমণসঙ্গীর একখানি আধুনিক সংস্করণ নিয়ে একটার পর একটা ভ্রমণ পরিকল্পনা করে যাচ্ছেন। যাইহোক, আমি ফিরি সেই রাজগীর ভ্রমণের কাহিনীতে। মোবাইল ফোন তখন ছিলোনা, কাজেই হাওড়া স্টেশনের বড়ো ঘড়ির তলার খুব গুরুত্ব ছিল, সবাই সবাইকে ওই জায়গাটার কথা বলে রাখতো সাক্ষাৎ-এর স্থান হিসেবে। এখন বোধহয় এই স্থানটির গুরুত্ব এই প্রসঙ্গে কিছুটা কমেছে। আমরাও পূর্ব নির্দেশিত স্থানটিতে যথা সময়ে পৌঁছে গেছিলাম। দূরপাল্লার রেল গাড়িগুলি ছিল লাল রঙের, আমাদেরও লাল রঙের পূর্বা এক্সপ্রেস সকাল ৮ টায় রওনা হলো। এই রেল ভ্রমণ আরও একটা কারণে স্মরণীয় হয়ে রয়েছে আমার কাছে। আমাদের গন্তব্য বক্তিয়ারপুর, সেখান থেকে গাড়িতে করে যাওয়ার কথা রাজগীর। ঠিক মনে করতে পারিনা কোন স্টেশন, তবে তখন দুপুর হয়ে গিয়েছে, গাড়ি স্টেশনে দাঁড়ালে লোকজন অসংরক্ষিত টিকিট নিয়ে সংরক্ষিত কামরাতেও উঠে পড়ছেন, দেখতে দেখতে খুবই ভিড় হয়ে গেলো কামরাটা। যে সকল যাত্রী শুয়ে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন, তাঁদেরও উঠে বসতে হলো, আসনগুলি তো পূর্ণ হলই, এমনকি চলাচলের রাস্তাতেও মানুষ বসে পড়লেন। মুহূর্তে সংরক্ষিত কামরাটি অসংরক্ষিত কামরাতে পরিণত হলো। কিন্তু অবাক হওয়ার কিছুটা তখনও বাকি ছিল। কিছুক্ষণ পর দেখলাম লোকজন গাড়ির চেন টেনে টেনে মাঝে মাঝেই নেমে যাচ্ছেন, বোঝা গেলো এইভাবে যাতায়াত করতে তাঁরা অভ্যস্ত। কিন্তু আমরা এই প্রকার চিত্রে অভ্যস্ত ছিলাম না, কাজেই অবাক হয়ে দেখতে লাগলাম। বৃহৎ ভারতের একটি চিত্র এইভাবে আমার সামনে উঠে এসেছিলো, তখন হয়তো তা আমি বুঝতে পারিনি তবে আজ তা আমি উপলব্ধি করতে পারি। যাইহোক নির্ধারিত সময়ের থেকে একটু দেরি করেই গন্তব্যে পৌঁছলো গাড়ি, লোকজন কাটিয়ে, ব্যাগ পত্র নিয়ে আমরা হুড়মুড় করে নামলাম বক্তিয়ারপুর জংশন স্টেশনে। বক্তিয়ার খিলজির নামে এই স্টেশন, এ কথায় কিছুক্ষণ পরে আসছি। এবার গাড়ি ঠিক করতে হবে। চারিদিকে হাঁকডাক, স্টেশনেই উঠে এসেছেন গাড়ির চালক, হোটেলের দালাল সবাই। আমাদের এক সহযাত্রী একটি গাড়িতে উঠে বসলেন, উনিও যাবেন রাজগীরে, উনিই আমাদের ডাকলেন সেই গাড়িতে। এই সহযাত্রীটির একটি হোটেল রয়েছে রাজগীরে, এটা আমাদের জন্যে বেশ ভালো হলো, আমরা ওখানেই উঠলাম। হোটেলের দোতলায় আমাদের দু’টি ঘর দেওয়া হয়েছিল। দোতলায় মেঝেতে এক জায়গায় বড় একটা অংশে কোনো ঢালাই নেই, সুন্দর কতকগুলি লোহার রড বেড়ার মতন করে শোয়ানো রয়েছে, সেখান থেকে একতলায় রিসেপশন-র জায়গাটি দেখা যায়, এটি ছিল আমার আকর্ষণের একটি কেন্দ্র। প্রায়ই সেই স্থানের পাশে গিয়ে আমি দাঁড়াতাম আর বিষ্ময়ে তাকিয়ে থাকতাম। যখন রাজগীরে এসে পৌঁছলাম তখন সন্ধ্যে হয়েছে, আমরাও ক্লান্ত, কাজেই ঐদিনের মতন রাত্রিকালীন আহার সেরে বিশ্রাম।
পরদিন ভোরে ঘুম ভাঙলো। আজকে বেড়াতে বেরোবো। প্রাতঃরাশ সেরে একটি টাঙ্গা ঠিক করা হলো। ঘোড়ায় টানা টাঙ্গাগুলিতে পিঠোপিঠি মোট চারটি করে আসন ছিল, দুটি সামনের দিকে মুখ করা আর দু’টি পিছন দিকে মুখ করা। এই টাঙ্গা ছিল আমাদের রাজগীর ভ্রমণের অপর একটি আকর্ষণ। এই বাহনটিতে চড়েই আড়াই হাজার বছর পূর্বের ইতিহাসের অন্দরে আমাদের প্রবেশ, কান পাতা রাজগৃহের গল্পে, নিজেদেরই ইতিহাসের সাথে আরো একবার নিজেদের পরিচয় করানো। ষোড়শ মহাজনপদের এক জনপদ মগধ। বর্তমানের এই রাজগীর, অতীতের ‘রাজগৃহ’, সেই মগধের বৃহদ্রথ, প্রদ্যোৎ এবং তারপর হার্যঙ্ক বংশের রাজধানী। প্রায় ৪০ কিলোমিটার দীর্ঘ সাইক্লোপিয়ান দেওয়ালটি বহিঃশত্রুর হাত থেকে নগরকে রক্ষা করার উদ্দেশ্যে রাজা বৃহদ্রথ নির্মাণ করেছিলেন। রাজা বৃহদ্রথের পুত্র জরাসন্ধ, মহাকাব্য মহাভারতে উল্লেখিত একটি বহু পরিচিত চরিত্র। শক্তি, সামর্থ্য এবং পরাক্রমে অতুল জরাসন্ধের জন্ম ও জীবনের কাহিনী আজও লোকমুখে প্রচলিত। স্থানীয় বিশ্বাস এই স্থানে তিনি শারীরিক কসরত করতেন, তাই এই স্থান জরাসন্ধের আখড়া বলে পরিচিত। এখানে ইতিহাস মিশে গেছে মহাকাব্যে। স্রষ্টার কল্পনা, দর্শন, ইতিহাস একত্রেই প্রবাহিত হয়ে চলেছে।
বৃহদ্রথ বংশের (১৭০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ থেকে ৬৮৩ খ্রিস্টপূর্বাব্দ) পর মগধ শাসন করেছিলেন প্রদ্যোৎ (Pradyota) বংশের রাজারা (৬৮২ খ্রিস্টপূর্বাব্দ থেকে ৫৪৪ খ্রিস্টপূর্বাব্দ)। তারপর মগধের সিংহাসন আরোহন করেন রাজা বিম্বিসার (৫৪৪ খ্রিস্টপূর্বাব্দ থেকে ৪৯১খ্রিস্টপূর্বাব্দ), হার্যঙ্ক (Haryanka) বংশের প্রতিষ্ঠাতা। আজকের রাজগীর, রাজা বিম্বিসারের রাজধানী তখন পরিচিত ছিল গিরিব্রজ নামে। বিম্বিসার ছিলেন পরাক্রমী এবং কূটনীতি বিষয়ক জ্ঞানী একজন রাজা। নানা প্রদেশের সাথে বৈবাহিক সূত্রে তিনি বন্ধুত্ব স্থাপন করেন। তাঁর প্রথম স্ত্রী কোশালা দেবী ছিলেন কোশলের রাজকুমারী, বিবাহ সূত্রে বিম্বিসার উপহার হিসেবে কাশী লাভ করেন। এই বিবাহের ফলে মগধ আর কোশলের মধ্যে যে দীর্ঘ শত্রুতা ছিল তা বন্ধুত্বে রূপান্তরিত হয়। রাজা বিম্বিসারের দ্বিতীয় স্ত্রী চেল্লানা ছিলেন বৈশালীর রাজা চেতকের কন্যা তথা লিচ্ছবী বংশের রাজকন্যা। বলাই বাহুল্য এই বিবাহ সূত্রে দু’টি প্রদেশের মধ্যে সখ্যতা দৃঢ় হয়েছিল। বিম্বিসারের তৃতীয় স্ত্রী ছিলেন পাঞ্জাবের মদ্র বংশীয় কন্যা ক্ষেমা। এইভাবে রাজা বিম্বিসার বিভিন্ন শক্তিশালী প্রদেশের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলেছিলেন। অঙ্গ প্রদেশটিও তিনি যুদ্ধের মাধ্যমে জয় করেছিলেন এবং পুত্র অজাতশত্রুকে সেই স্থানের প্রধান (Governor/ গভর্নর) নিযুক্ত করেন। অঙ্গ প্রদেশ দখলের মাধ্যমে গঙ্গা নদীপথের উপর যে বন্দর ছিল, তিনি তার দখল পান। এই জয় রাজা বিম্বিসারকে প্রভাবশালী করে তোলে। রাজা বিম্বিসারের সমকালীন এক বিদগ্ধ চিকিৎসক ছিলেন জীবক। যিনি স্বয়ং গৌতম বুদ্ধের এবং রাজা বিম্বিসারের ব্যক্তিগত চিকিৎসক ছিলেন। জীবক তক্ষশীলায় ঋষি আত্রেয় পুনর্বসুর নিকট সাত বৎসর চিকিৎসা শাস্ত্র অধ্যয়ন করেছিলেন। প্রাচীন ভারতবর্ষে উচ্চ শিক্ষার উৎকর্ষতার বহু নিদর্শন রয়েছে। ভারতবর্ষ যে উচ্চ শিক্ষার অন্যতম উর্বর পীঠস্থান ছিল তা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, বিদ্বান ব্যক্তিবর্গ এবং তাঁদের সৃষ্টির মাধ্যমে বোঝা যায়। টাঙ্গা আপনাকে নিয়ে চলবে রাজা বিম্বিসারের ধনরাশি ভান্ডারের উদ্দেশ্যে, যা স্বর্ণ ভান্ডার বলে পরিচিত। কত লোককথা প্রচলিত রয়েছে এই বিষয়ে। কথিত আছে, আজ পর্যন্ত এই বিপুল ধনরাশি উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। পথে দর্শন করে নিতে পারেন মনিয়ার মঠ।
অজাতশত্রু সিংহাসন আরোহন করে রাজত্ব করেন ৪৯১ খ্রিস্টপূর্বাব্দ থেকে ৪৬১ খ্রিস্টপূর্বাব্দ সময়কাল পর্যন্ত। তিনি রানী কোশালার পুত্র না রানী চেল্লানার পুত্র তা নিয়ে মতপার্থক্য রয়েছে। অজাতশত্রুর জন্ম নিয়েও নানান কাহিনী বা লোককথা আজও প্রচলিত রয়েছে। রাজা বিম্বিসারের অন্তিম পরিণতি ছিল মর্মবিদারক। বৌদ্ধ মতে, পুত্র অজাতশত্রু তাঁকে সিংহাসনচ্যুত করেন, বন্দী করেন এবং হত্যা করেন। এই কারাগার, যা বিম্বিসার কারাগার বলে পরিচিত, আজ একটি দ্রষ্টব্য। বিজয়ীর অহংকারের অট্টহাস্য, বিজিতের লাঞ্ছনার নানা কাহিনী আজও গুঞ্জরিত হয় তার প্রাচীরে, প্রকোষ্ঠে। শোনা যায়, কারাগারে অবরুদ্ধ রাজা বিম্বিসার গৃদ্ধকুট শিখরে ধ্যানমগ্ন বুদ্ধদেব-কে প্রত্যক্ষ করে শান্তিলাভ করতেন। রোপওয়ে থেকে এই শিখরটি দেখা যায়, কেউ যদি শান্তিস্তূপ ট্রেল ধরে হেঁটে বিশ্বশান্তিস্তূপে যান তবে চলার পথে দেখে নিতে পারেন গৃদ্ধকুট শিখর। হয়তো এই বেদনাদায়ক ঘটনার জন্যেই অজাতশত্রুর জন্মসংক্রান্ত অগৌরবের কাহিনী প্রচলিত। তবে আবার জৈন মতে রাজা বিম্বিসার আত্মহত্যা করেছিলেন। অজাতশত্রুর শাসনকালে হার্যঙ্ক বংশের সাম্রাজ্যের পরিধি বিস্তৃতিলাভ করে। তিনি সমগ্র গণ সংঘের সাথে যুদ্ধে লিপ্ত হন, বৈশালী রাজ্য দখল করেন, প্রতিবেশী রাজ্যগুলিকে পরাস্ত করেন। অজাতশত্রুর দুর্গের স্থানটি আজ দ্রষ্টব্য। অজাতশত্রু রাজগৃহের পরিবর্তে রাজধানী চম্পাতে স্থানান্তরিত করেন। পরবর্তী সময়ে তিনি পাটুলিপুত্র নগরী নির্মাণ করেছিলেন, এই নগরী হয়ে উঠেছিল ভারতবর্ষের ইতিহাসের এক প্রাণকেন্দ্র। রাজা অজাতশত্রু যুদ্ধে পারদর্শী ছিলেন, তবে কতটা আদর্শবাদী বা বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিয়েছিলেন তা দ্বিধার অবকাশ রাখে। ৪১৩ খ্রিস্টপূর্বাদে হার্যঙ্ক বংশের অবসানের পরে শিশুনাগ বংশ এবং তার পরবর্তী সময়ে নন্দ বংশের উৎপত্তি হবে। তবে তা আবর্তিত হবে পাটলিপুত্র বা বর্তমানে যে স্থান পাটনা নামে পরিচিত তাকে কেন্দ্র করে।
গৌতম বুদ্ধ এবং মহাবীর জৈন ছিলেন হার্যঙ্ক বংশের সমসাময়িক। বর্তমান রাজগীর শহরের থেকে দক্ষিণ-পশ্চিমে প্রায় ২ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত সপ্তপর্ণী গুহা। ভগবান বুদ্ধ নির্বাণের পূর্বে কিছুকাল এই স্থানে অতিবাহিত করেছিলেন। গৌতম বুদ্ধের পরনির্বাণের পর প্রথম বুদ্ধিস্ট কাউন্সিল এই স্থানেই অনুষ্ঠিত হয়েছিল। গৌতম বুদ্ধের দুই শিষ্য আনন্দ এবং উপালীকে উক্ত কাউন্সিলে বুদ্ধদেবের বাণী ও শিক্ষা পরবর্তী প্রজন্মের জন্যে সংকলন করার অনুরোধ করা হয়। এখানে আসার পথে পড়বে জরাসন্ধের বৈঠকখানা, শ্বেতাম্বর জৈন মন্দির। রাজগীর ভ্রমণের আর একটি আকর্ষণ রোপওয়ে, এর আকর্ষণ এতটাই ছিল যে আমরা দু’দিন রোপওয়ে-তে চড়েছিলাম। রোপওয়ে-তে করে পৌঁছতে হয় রত্নগিরিতে অবস্থিত বিশ্বশান্তিস্তূপে। তখন সব ক’টি আসন ঘেরা এবং সামনে ধরবার হাতল ছিল না। কয়েকটি মাত্র ছিল এরূপ নিরাপদ। বাকি আসনগুলি ঘেরা ছিল না, একপাশে কেবলমাত্র একটি লোহার হাতল ছিল।
এছাড়াও ঘুরে নিতে পারেন রাজগীর হেরিটেজ মিউজিয়াম, বেণুবন, মাখদুম কুন্ড, শ্রী লক্ষ্মী নারায়ণ মন্দির, ব্রহ্মা কুন্ড, সূর্য কুন্ড, দিগম্বর জৈন মন্দির ইত্যাদি। যাঁরা বন্য প্রকৃতি ও বন্য প্রাণী ভালোবাসেন, তাঁদের জন্যে রাজগীরে রয়েছে বেশ কয়েকটি সাফারি, সময় ও সুযোগ মতন দেখে নিতে পারেন পন্ত ওয়াইল্ড লাইফ স্যাংচুয়ারিটিও। তবে সেই যাত্রায় আমরা এগুলি দর্শন করিনি। পর্যটনস্থান হওয়ার দরুন রাজগীর শহরে ইতস্তত ছড়িয়ে রয়েছে অনেক ট্যুরিস্ট সার্ভিসের দোকান। এখন থেকেই পেয়ে যাবেন পাওয়াপুরী কিংবা নালন্দা ঘোরার বাস। আমরাও সেই মতন বাসে করেই ঘুরেছিলাম এই দু’টি স্থান। রাজগীর থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত নালন্দা মহাবিহার, প্রাচীন ভারতবর্ষের উৎকর্ষতার এক অন্যতম উন্নত নিদর্শন। নন্দ (Nanda), মৌর্য (Maurya), শুঙ্গ (Shunga), কাণ্ব (Kanwa) ইত্যাদি বংশের অবসানের পর শুরু হয় গুপ্ত (Gupta) সাম্রাজ্য। শ্রীগুপ্ত এই সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা। গুপ্ত সাম্রাজ্যের উল্লেখযোগ্য রাজন্যবর্গের মধ্যে রয়েছেন সমুদ্রগুপ্ত, দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত বা বিক্রমাদিত্য। বিক্রমাদিত্য পশ্চিমের ক্ষাত্রপদের পরাজিত করেন। পশ্চিমে সিন্ধু নদ থেকে পূর্বে বাংলা, উত্তরে হিমালয়ের পাদদেশ থেকে দক্ষিণে নর্মদা নদী পর্যন্ত তাঁর সাম্রাজ্য বিস্তার করেছিলেন। শুধুমাত্র সাম্রাজ্য বিস্তার নয়, ইতিহাস তাঁকে স্মরণ করে একজন শিক্ষা ও সংস্কৃতির পৃষ্ঠপোষক হিসেবেও, তাঁর রাজসভা অলংকৃত করে যে নবরত্ন ছিলেন তা সর্বজন বিদিত। বিক্রমাদিত্যের পরে সিংহাসন আরোহন করেন প্রথম কুমারগুপ্ত। প্রথম কুমারগুপ্ত পঞ্চম শতকে এই নালন্দা মহাবিহার প্রতিষ্ঠা করেন। আজকের এই ধ্বংসাবশেষ ছিল সেই যুগের একটি প্রধান অধ্যয়ন কেন্দ্র। পৃথিবীর ভিন্ন প্রান্ত থেকে পন্ডিত, শিক্ষাবিদরা এই বিশ্ববিদ্যালয়ে আসতেন, থাকতেন এবং অধ্যয়ন করতেন। এঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন চীন থেকে ফা হিয়েন (৩৯৯ খ্রিস্টাব্দ থেকে ৪১২ খ্রিস্টাব্দ ), হিউ এন সাং (৬৩৭ থেকে ৬৪২ খ্রিস্টাব্দ), ইজিং (৬৭৩ খ্রিস্টাব্দ থেকে ৬৯৫ খ্রিস্টাব্দ), কোরিয়া থেকে হিয়ন জো (সপ্তম শতকের মধ্যভাগে), তিব্বত থেকে থন্মি সাম্ভটা (সপ্তম শতক) প্রমুখ। তাঁদের বর্ণিত এবং লিখিত দলিল থেকে এই মহাবিহার সম্বন্ধে জানা যায়।
বাংলায় তখন সেন বংশ (Sen) প্রবল পরাক্রমে রাজত্ব করছে। পাল বংশের (Pal) শেষ রাজা গোপালদেব পরাজিত হয়েছেন, রাজ্য থেকে পলায়ন করেছেন কিন্তু হৃত গৌরব পুনরুদ্ধারে সচেষ্ট হয়েছেন। বল্লাল সেনের কৌলিন্য প্রথা প্রবর্তনে, ব্রাহ্মণ্য প্রথার বাড়বাড়ন্তে সমাজ কুসংস্কারের পঙ্কিলতায় ধীরে ধীরে নিমজ্জিত হচ্ছে, বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী শ্রমণদের উপর নেমে আসছে অনাদর, বৌদ্ধমহাবিহারগুলি ধীরে ধীরে নিস্তেজ হয়ে পড়ছে। মগধে অবস্থিত এই ওদন্তপুরী মহাবিহারে তখন বসেছে আলোচনা, তাতে উপস্থিত মাত্র তিনজন; বজ্রাচার্য, বৈশ্য বল্লভানন্দ শ্রেষ্টী আর বিজিত রাজা গোপালদেব। এ বর্ণনা শক্তিপদ রাজগুরুর ‘লক্ষণাবতী’ উপন্যাসে পাওয়া যায়। না, সেই যাত্রায় ওদন্তপুরী যাওয়া হয়নি আমাদের, তবে আশা করি, ভবিষ্যতে অবশ্যই কখনও সেই স্থান পরিদর্শন করার সুযোগ পাব। বাংলা পুনরুদ্ধার পাল বংশের আর সম্ভব হয়নি। ঘুরী সাম্রাজ্যের তুর্ক-আফগান সেনাপতি বখতিয়ার খিলজি এগিয়ে চলেছেন বাংলার দিকে, তিব্বত পর্যন্ত দখল করবেন তিনি, এমনই মনোবাসনা তাঁর। পথে ধ্বংস করে চলেছেন একের পর এক বৌদ্ধ মহাবিহারগুলি, ওদন্তপুরী, নালন্দা কেউই রেহাই পাইনি বিজয়ীর অন্ধ অহংকারে। স্থাপত্যগুলি মুহূর্তে পরিণত হয়েছে ধ্বংসাবশেষে, হাজার হাজার পুঁথি, প্রামাণ্য দলিল অগ্নির লেলিহান শিখায় মুহূর্তে পর্যবসিত হয়েছে ভস্মতে। ভারতবর্ষের অমূল্য দলিলগুলি শেষ হয়ে গিয়েছে। ওদিকে লক্ষণ সেন পলায়ন করেছেন, বাংলায় স্থাপিত হয়েছে খিলজি বংশ।
তবে আমাদের ফেরাটা আর বক্তিয়ারপুর জংশন হয়ে নয়, আমরা গিয়েছিলাম বুদ্ধগয়া। ভগবান বুদ্ধের পাদপদ্ম স্পর্শ করে আমরা বিকেলে এসে পৌঁছেছিলাম গয়াতে। মনে পরে স্টেশনের বাইরে ছোট ছোট হোটেলগুলি; তাদের ভাত, রুটির পসরা, খদ্দের ধরার হাঁকডাক চোখ টেনেছিল, তবে আমরা তা খাইনি। গয়া স্টেশনে অপেক্ষারত অবস্থায় দেখলাম রাজধানী এক্সপ্রেস পাস করছে, দূরপাল্লার সব রেলগাড়ী লাল রঙের হয় না, রাজধানীর রঙ কমলা। রেলগাড়ির জন্যে অপেক্ষা করা, স্টেশনে বসে মুড়ি খাওয়া, বারবার রেলগাড়ির দেরীর ঘোষণায় ক্লান্ত হয়ে পড়া, অবশেষে অনেক রাত্রে রেলগাড়িতে চড়া এবং পরদিন হাওড়া পৌঁছনো, এভাবেই সেই যাত্রার পরিসমাপ্তি ঘটে।
পরিশেষে উল্লেখ করি, ইতিহাসের হাত ধরে এই স্থানটিকে তুলে ধরা আমার উদ্দেশ্য ছিল। কাজেই সময়ানুসারে আমি দ্রষ্টব্যগুলি বর্ণনা করার চেষ্টা করেছি। সময় ও সুযোগ অনুযায়ী পর্যটকরা তা পরিবর্তন করতেই পারেন। যেমন সাইক্লোপিয়ান দেওয়ালটি দেখে একটু হেঁটে অনতিদূরে অজাতশত্রুর দুর্গের স্থানটি দেখে নেওয়াই যায়, ইতিহাসের সময়কাল অনুযায়ী আমি এর পর যে জরাসন্ধের আখড়ার কথা উল্লেখ করেছি তা কিন্তু সাইক্লোপিয়ান দেওয়ালটির থেকে বেশ দূরে অবস্থিত। আর একটি দুঃখ প্রকাশ, আমি সর্বদা ব্লগে নিজের তোলা (সময় বিশেষে নিজেদের তোলা) ছবি ব্যবহার করে থাকি, উক্ত ভ্রমণের সময় আমাদের কোনো ক্যামেরা না থাকার দরুন কোনো ছবি আমার কাছে নেই। সেই কারণে ভ্রমণের কোনো ছবি দিতে পারলাম না। আশা করি নিকট ভবিষ্যতে এই স্থানে যাওয়ার সুযোগ হলে আমি ছবি দিতে পারবো। এখানে প্রদত্ত ভগবান বুদ্ধের চিত্রটি আমার স্ত্রী-র আঁকা।
১৯৯৫
চিত্রটির সৌজন্য: সায়ন্তিকা নাথ
বি. দ্র. এই ভ্রমণ কাহিনীটি প্রথম আমার ব্লগে ২রা ডিসেম্বর ২০২২ সালে প্রকাশিত হয়েছিল। পুনরায় ভ্রমণ কাহিনীটি এই সাইটে প্রকাশিত হলো।
Travel & Travelogue Blogs
Our Latest Travel & Travelogue Blogs
দীর্ঘদিন অনবরত কাজ করে বেশ হাঁফিয়ে উঠেছিলাম, অনেক দিন পর রাখী বা রক্ষাবন্ধনের ছুটি পাওয়া গেলো, পরদিন আবার রবিবার, কাজেই পরপর দু'দিন কর্মবিরতি, ঠিক করলাম জব্বলপুর থেকে ঘুরে আসবো।.....
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 22 September 2025
বন্ধুদের সাথে ঠিক করলাম, সম্মেলনের শেষ দিনে শেষ হওয়ার পর আমাদের হাতে কয়েক ঘন্টা সময় থাকবে, সেই সময় আমরা একটু ঘুরে দেখবো শহরটা। তবে একদিন একটু পর্যন্ত দুপুরে ঘুরে এলাম চাঙ্গি এয়ারপোর্ট। এই বিমানবন্দরটির মধ্যে রয়েছে একটি ট্রপিকাল ফরেস্টের ছোট সংস্করণ, যা অবশ্যই একটি মনোমুগ্ধকর দ্রষ্টব্য।...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 4 Feb 2025
পূর্বে একাধিকবার উল্লেখ করেছি আমার ভ্রমণ অধিকাংশ সময়েই কর্মসূত্রে। এর একটা অসুবিধা হলো, ওই স্থানের অনেক দ্রষ্টব্য আমার সময়ের সংক্ষিপ্ততায় দেখা হয়ে ওঠেনা, আবার সুবিধা হলো, এমন কিছু দ্রষ্টব্য, বিশেষত ওই স্থান সম্পর্কিত এমন কিছু তথ্য (যা সম্পর্কে আমার আগ্রহ রয়েছে) জানা যায় বা আমার দেখা হয় যা হয়তো কেবলমাত্র পর্যটক হয়ে এলে দেখা হয়ে উঠতো না। গতবৎসর জুন মাসে একটি বিজ্ঞান সম্মেলনে যোগদান করতে গিয়েছিলাম সিঙ্গাপুরে, আর এই ভ্রমণ কাহিনীটি সেই বিষয়ে।...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 3 Feb 2025
ঘুম ভাঙলো প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজের শব্দে। বাইরে তখন খুবই কুয়াশা, হোটেলের ঘরের কাঁচের জানলা বাষ্পে পূর্ণ, কিছুই দৃষ্টিগোচর হচ্ছে না, অবশেষে জানলা খুলে কুচকাওয়াজ দেখছিলাম। তারপর প্রস্তুত হয়ে আমরা আমরা বেরোলাম স্থানীয় বিভিন্ন দ্রষ্টব্যস্থান গুলির উদ্দেশ্যে। গতকাল ছিল ঐতিহাসিক ভ্রমণ, আর আজ আমরা সাক্ষী থাকবো প্রাগৈতিহাসিক কালের কিছু নিদর্শনের। ...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 28 Jan 2025
মালদার নিকট মানিকচক ঘাট থেকে ভেসেলে গঙ্গা পার হয়ে আমরা পৌঁছলাম রাজমহল ঘাটে, তখন প্রায় ১'টা বাজে। মালদা ভ্রমণের পর এবার আমরা রাজমহল ঘুরব। ঝাড়খন্ড রাজ্যের সাহিবগঞ্জ জেলায় রাজমহল অবস্থিত, যা একদা মাল-পাহাড়িয়া উপজাতির গোষ্ঠী মাল রাজা শাসন করতেন। সকালে হোটেল থেকে প্রাতঃরাশ সেরেই বেরিয়েছিলাম আমরা।...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 28 Jan 2025
হাবশী বংশের পরে বাংলার শাসনভার ন্যস্ত হয় হুসেন শাহী বংশের (১৪৯৪ থেকে ১৫৩৮ খ্রিস্টাব্দ) উপর। আলাউদ্দিন হুসেন শাহ ছিলেন এই বংশের প্রতিষ্ঠাতা। বড়ো সোনা মসজিদ বা বারদুয়ারী মসজিদের নির্মাণ কার্য আলাউদ্দিন হুসেন শাহের সময়কালে আরম্ভ হলেও নির্মাণকার্যটি শেষ হয় নাসিরুদ্দিন নসরৎ শাহের আমলে।...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 28 Jan 2025
গতকাল রেডিওতে গল্প শুনতে শুনতে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। ঘুম ভাঙলো বেশ ভোরে। হোটেলে প্রাতঃরাশ সকাল ৮ টা থেকে ১০ টা পর্যন্ত। আমরা পৌনে ন'টার মধ্যে প্রাতঃরাশ সেরে ন'টা নাগাদ বেরিয়ে পড়লাম। গতকালই আমি অটো-র জন্যে বলে রেখেছিলাম। সঠিক সময়ে আমাদের অটো চালক দাদা এসে গিয়েছিলেন। বর্তমানে মালদা শহরের দক্ষিণে গৌড় এবং উত্তরে রয়েছে পাণ্ডুয়া।...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 28 Jan 2025
সকাল ন'টায় কলকাতা স্টেশন থেকে রওনা হয়ে ১২৩৬৩ কলকাতা-হলদিবাড়ি সুপারফাস্ট সঠিক সময় বিকাল ৩টে-তে মালদা টাউন পৌঁছলো। আর আমরা এসে পৌঁছলাম অতীতের মহানগর গৌড়ে।...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 28 Jan 2025
আজ একটু বেলা করেই উঠলো সবাই। গত কয়েকদিন ধরে বেশ ভোর ভোরই উঠতে হচ্ছিলো সকলকে, আজ একটু বেশিক্ষন বিছানায় কাটানো যাচ্ছে, বেশ লাগছে। গতকাল একটি ফটো আমরা গাড়িতে ফেলে এসেছিলাম, তাই রুডিকে ফোন করে অনুরোধ করলাম সে যেন গতকালের গাড়িটিই আমাদের জন্যে আজকে পাঠায়, সেটিতেই আমরা যাবো পাটায়া।...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 25 Jan 2025
আজ আমাদের ব্যাঙ্কক ঘোরার প্রথম দিন। প্রথমে আমরা যাবো ম্যাকলং রেলস্টেশনে (Maeklong Station)। রেললাইনের দু'পাশে পসরা সাজিয়ে বাজার বসেছে। ট্রেনটি যখন আসে দোকানগুলির উপর থেকে চাঁদোয়াগুলি সরিয়ে নেওয়া হয়, সংকীর্ণ লাইনটি বেয়ে রেলগাড়িটি স্টেশনে আসে।...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 25 Jan 2025
আজও ঘুম ভাঙলো ভোর ৫ টায়। আসলে থাইল্যান্ড সময় দক্ষিণ কোরিয়ার সময়ের থেকে ২ ঘন্টা পিছিয়ে, আমার বায়োলজিক্যাল ক্লক অনুসারে আমি বাড়িতে সকাল ৭ টায় উঠি, কাজেই এখানে তাড়াতাড়ি আমার ঘুম ভেঙে যাচ্ছে। ...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 25 Jan 2025
আজ খুব ভোরে, প্রায় ৫ টা নাগাদ, ঘুম ভেঙে গিয়েছিলো। বাইরে তখনও অন্ধকার, বারান্দায় এসে বসলাম, একটু পরে আলো ফুটবে। বেশ ভালো লাগে ভোর হওয়া দেখতে। ৬টা নাগাদ সবাইকে ডেকে দিলাম, প্রাত্যহিক কাজ সেরে ফ্রেশ হয়ে চা-বিস্কুট খেয়ে আমরা অপেক্ষা করছিলাম। সাড়ে সাতটায় গাড়ি এলো আমাদের নিয়ে যেতে। আজ আমরা অনেকগুলি দ্বীপ ঘুরে দেখবো, সমুদ্র যাত্রা, সমুদ্রস্নান সবই হবে, কাজেই বাড়ি থেকে স্নান সেরে নেওয়ার প্রয়োজন ছিল না।...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 25 Jan 2025
অন্তর্দেশীয় বহির্গমন বিমানবন্দরের তিনতলায় অবস্থিত। পূর্বেই বলেছি এবার আমাদের যাত্রা ফুকেটের উদ্দেশ্যে। বিমানবন্দরে নির্দিষ্ট বিমানের কাউন্টার থেকে বোর্ডিং পাস সংগ্রহ করে, নিরাপত্তা পরীক্ষার পর যখন নির্দিষ্ট দ্বারের সামনে এসে পৌঁছলাম তখন হাতে বেশ কিছুটা সময় ছিল। মা বাবা'রা কলকাতা থেকে অনেক মিষ্টি নিয়ে এসেছিলেন, কয়েকটির সদ্গতি করে বিমানে চড়লাম।...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 25 Jan 2025
প্রায় দীর্ঘ সাড়ে তিন বৎসর পর কয়েকদিনের ছুটিতে সপরিবারে গিয়েছিলাম থাইল্যান্ড। আগামী কয়েকটি পর্বে আমি আমাদের এই ভ্রমণ কাহিনীটি বিস্তারিত লিখব। ...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 25 Jan 2025
উহান আজ বিশ্ববাসীর কাছে খুব পরিচিত নাম। কোভিড-১৯ এই শহরেই প্রথম সংক্রামিত হয়েছিল। আমার এই শহরের সাথে পরিচয় তার কিছু পূর্বে, ২০১৮ খ্রিস্টাব্দের মাঝামাঝি সময়ে। একটি বিজ্ঞান সম্মেলনে যোগদান করতে ওই বছর মে মাসে আমি উহান শহরে যাই।...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 23 Jan 2025
২০১৭ সালের অক্টোবর মাসে গিয়েছিলাম তাজপুর-শঙ্করপুর-দীঘা বেড়াতে। তাজপুর বেড়ানোর অভিজ্ঞতা সম্বন্ধে একটি ব্লগ আমি পূর্বে লিখেছি। আজকের ব্লগে আমি শঙ্করপুর বেড়ানোর অভিজ্ঞতা লিখবো। ...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 20 Jan 2025
বৈচিত্র্যময় ভারতবর্ষের মৃত্তিকার প্রতিটি কণায় কান পাতলে শোনা যায় তার ইতিহাস, লোকসংস্কৃতি, আর দর্শন। এই বৈচিত্র্যময়তার সাথে একাত্মতা অনুভব করেই আমরা সেইস্থানের মাহাত্ম্য অনুধাবন করি।...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 20 Jan 2025
আমি যে খুব ট্রেকিং প্রিয় মানুষ তা নয়, তবে বিগত কয়েক বৎসর ধরে, মানে আমার দক্ষিণ কোরিয়ায় বসবাসের সময়কালের মধ্যে, বৎসরান্তে একবার গবেষণাগারের সকলের সাথে আমি কোনো না কোনো পর্বতে হাইকিং করতে যাই। করোনা মহামারীর পূর্বে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাসে গিয়েছিলাম সোবেকসানে (সোবেক পর্বতে, কোরিয়ান 'সান' শব্দটির অর্থ পর্বত), আবার ২০২২ সালের ডিসেম্বর মাসেও আমরা গিয়েছিলাম ওই পর্বতে।...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 20 Jan 2025
এ ভ্রমণ বৃত্তান্ত আমার ছোটবেলার, আমি তখন পঞ্চম শ্রেণীতে পড়ি। বাবার এক বন্ধুর পরিবারের সাথে আমরা গিয়েছিলাম রাজগীর। বাবাকে কখনওই বেড়ানোর দীর্ঘ পরিকল্পনা করতে দেখিনি, হঠাৎ করেই ঠিক করে ফেলতেন, কখনও টিকিট কেটে এনে বাড়িতে এসে আমাদের নিয়ে রওনা হতেন।...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 20 Jan 2025
মহানগরী মুম্বই, ছত্রপতি শিবাজী মহারাজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যখন এসে পৌঁছলাম দুপুর প্রায় গড়িয়ে গেছে। এবার সোজা হোটেল। সাকিনাকা-তে আমাদের হোটেল, বিমানবন্দর থেকে বেশি দূরে নয়। আমাদের ফেরার ফ্লাইট সকালে, তাই এই জায়গাটা বেশ সুবিধার হলো আমাদের জন্যে। মুম্বই শহরে দীর্ঘদিন আমি কাটিয়েছি, কলেজের পাঠ শেষ করে কর্মসূত্রে এ শহরে আমি এসেছিলাম।...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 20 Jan 2025
পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় বঙ্গোপসাগর উপকূলে অবস্থিত তাজপুর পশ্চিমবঙ্গের সৈকত পর্যটনের তুলনামূলক নতুন সংযোজন। দ্বাদশ পরিকল্পনা অনুসারে পশ্চিমবঙ্গের অন্তর্গত যে চারটি পর্যটন বর্তনী (Circuit) শনাক্তকরণ করা হয়েছিল তার মধ্যে প্রথমটি সৈকত কেন্দ্রিক (দীঘা -শঙ্করপুর - তাজপুর - জুনপুট - মন্দারমনি) আর আমাদের গন্তব্য তাজপুর, জেলে বসতির উপর আধারিত এই পর্যটন কেন্দ্র।...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 20 Jan 2025
সিরাজের মৃত্যুতে অবসান হল আফসার বংশের, ভারতবর্ষের ভাগ্যাকাশে নেমে এলো সূর্যাস্ত। শুরু হল মীর জাফর বংশ, ইতিহাসে যা নাজাফী বংশ বলে পরিচিত। ২৪ শে জুন ১৭৫৭ খ্রিষ্টাব্দে যখন পলাশির যুদ্ধ শেষ হয় আর ২৯শে জুন মীর জাফর মুর্শিদাবাদের সিংহাসনে বসেন, রবার্ট ক্লাইভ যথার্থই বলেছিলেন এই জয় তাঁর নয় বরং এই জয় মীর জাফরের।...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 20 Jan 2025
পড়ন্ত বেলাতেই এসে উপস্থিত হলাম অতীতের মহানগরী ‘মুক্সুবাদ’-এ। নগরীর বাঁ দিক দিয়ে বয়ে চলেছে ভাগীরথী নদী, এই নগরের উত্থান তাকে ঘিরেই। নদীপথে ব্যবসা বাণিজ্যের সুবিধা হেতুই মোঘল সম্রাট ঔরঙ্গজেব নিযুক্ত তৎকালীন বাঙলা, বিহার আর উড়িষ্যার সুবেদার (পরবর্তীকালে ‘নবাব নাজিম’) মুর্শিদকুলী খাঁ ঢাকা থেকে ভাগীরথীর উপকণ্ঠে মুক্সুবাদে রাজধানী স্থানান্তরিত করেন, তাঁর নামানুসারে নগরের নাম পরিবর্তিত হয়ে হল মুর্শিদাবাদ, সূচনা হল ভারতবর্ষের এক নতুন ইতিহাসের।...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 20 Jan 2025
সকাল ১০ টা ১০ র শান্তিনিকেতন এক্সপ্রেস হাওড়া ছেড়ে যখন শান্তিনিকেতন পৌঁছালো তখন বেলা প্রায় সাড়ে বারোটা। বাইরে বেরিয়ে টোটো ধরে হোটেল পান্থনিবাসে পৌঁছলাম প্রায় দেড়টা নাগাদ।...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 20 Jan 2025
সময়ের অপ্রতুলতা জীবনধারণের সবক্ষেত্রে উপলব্ধি করলেও, বোধহয় সর্বাধিক প্রকট হয়ে ওঠে দৈনন্দিন ব্যস্ত জীবনের মধ্যে ভ্রমণের সময় অনুসন্ধানে। পাঁচমাড়ি ভ্রমণের সময়েও এর ব্যতিক্রম হয়নি।...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 13 Jan 2025
আনদং বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইয়ংদেওক বা ইয়ংদক (Yeongdeok, South Korea) সমুদ্র সৈকতের দূরত্ব ৫৫-৬০ কিলোমিটারের মতন, সময় লাগে ঘন্টা খানেক। অপূর্ব সুন্দর সৈকতের পাশাপাশি ইয়ংদক বিখ্যাত তার মৎস বন্দর আর বিশেষত কাঁকড়ার জন্যে। ...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 13 Jan 2025
যখন হরিদ্বার পৌঁছলাম ‘হর কি পাউরি’ ঘাটে সন্ধ্যারতি শুরু হয়ে গিয়েছে। ব্রহ্মকুণ্ডের সামনে প্রথমে মাতা গঙ্গার বন্দনা আর তারপর পুরোহিতগণ নদীমাতৃকার উদ্দেশ্যে আরতি করেন, অগণিত ভক্ত সেই মঙ্গলারতি দর্শন করে নিজেদের ধন্য মনে করেন।........
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 13 Jan 2025