সোবেকসান ট্রেক (Sobaeksan trek)
সোবেকসান ট্রেক (Sobaeksan trek)
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 20 Jan 2025

আমি যে খুব ট্রেকিং প্রিয় মানুষ তা নয়, তবে বিগত কয়েক বৎসর ধরে, মানে আমার দক্ষিণ কোরিয়ায় বসবাসের সময়কালের মধ্যে, বৎসরান্তে একবার গবেষণাগারের সকলের সাথে আমি কোনো না কোনো পর্বতে হাইকিং করতে যাই। করোনা মহামারীর পূর্বে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাসে গিয়েছিলাম সোবেকসানে (সোবেক পর্বতে, কোরিয়ান ‘সান’ শব্দটির অর্থ পর্বত), আবার ২০২২ সালের ডিসেম্বর মাসেও আমরা গিয়েছিলাম ওই পর্বতে। তবে পার্থক্য ছিল সেবার যাওয়া-আসার পথটি এবার আসা-যাওয়ার পথ ছিল, অর্থাৎ সেবার যে পথে পর্বতের শিখরে পৌঁছেছিলাম এবার সে পথে শিখর থেকে নিচে নেমেছিলাম, আর যে পথে সেবার নেমেছিলাম এবার সে পথে উঠেছিলাম। এবার এই স্থান সম্বন্ধে একটি সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দেওয়া যাক। প্রায় ৩২২.৪ বর্গ কিলোমিটার অঞ্চলে গড়ে ওঠা সোবেক পর্বত দক্ষিণ কোরিয়ার একটি জাতীয় উদ্যান। জিরিসান (Jirisan) এবং সিওরাকসানের (Seoraksan) পর এটি তৃতীয় পর্বতীয় জাতীয় উদ্যান (আমি পূর্বে একটি ব্লগে বিভিন্ন প্রকার জঙ্গল বা বনভূমি নিয়ে আলোচনা করেছি)। অন্যান্য পর্বতের ন্যায় এই পর্বতেরও একাধিক শিখর রয়েছে, যেমন বিরবং (Birobong-1,439.5 মিটার), গুঙ্গমংবং (Gungmangbong-1,420.8 মিটার), ইয়নহুয়াবং (Yeonhwabong-1,383 মিটার), দশলবং (Dosolbong-1,314.2 মিটার)। এই পর্বতীয় জাতীয় উদ্যানটি তিনটি প্রদেশের যথা গিয়ংসাংবুক (Yeongju/ ইয়ংজু শহর), চুংছেওংবুক (Danyang/ দানিয়াং শহর), এবং গ্যাংওয়ান (Yeongwol/ ইয়ংওল শহর) সীমানা স্পর্শ করে বিস্তৃত রয়েছে। ইয়ংজু শহরের সন্নিকটের উপত্যকাগুলির মধ্য দিয়ে নাকদংগাং (নাকদং নদী, কোরিয়ান শব্দ ‘গাং’ শব্দটির অর্থ নদী), এবং দানিয়াং শহরের সন্নিকটের উপত্যকাগুলির মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে চলেছে নামহাংগাং বা নামহাং নদী। এই জাতীয় উদ্যানটিতে রয়েছে প্রায় ১০৬৭ প্রজাতির উদ্ভিদ এনং ২৬৩৯ প্রজাতির প্রাণী। তবে অধিক ঠান্ডার কারণে আমি যাত্রাপথে কোনো প্রাণী দেখতে পাইনি। ২০০৭ সালে IUCN ইকোলজিকাল ভ্যালু (Ecological value) বা পরিবেশগত গুরুত্ব বিচার করে সোবেকসানকে IUCN ক্যাটেগোরি-II জাতীয় উদ্যান হিসেবে চিহ্নিত করে।
সোবেকসানের সর্বোচ্চ শিখর বিরবং, উচ্চতা ১৪৩৯ মিটার। যাঁরা আমাদের দেশে পর্বত ট্রেক বা হাইকিং করে থাকেন এ উচ্চতা তাঁদের নিকট নেহাৎই যৎসামান্য, তবে নাতিশীতোষ্ণ (Temperate) অঞ্চলে যে ভৌগোলিক অবস্থানে এই পর্বতটি অবস্থিত সে স্থানে ডিসেম্বর মাসে তাপমাত্রা -২০ ডিগ্রী সেলসিয়াসের আসে পাশে থাকে, কাজেই বেশ ঠান্ডা। পূর্বের বৎসরটিতে (২০১৯ সালে) আমরা আগের দিন দুপুরে পর্বতের পাদদেশ থেকে রওনা হয়ে প্রায় ৩ ঘন্টা ট্রেক করে আশ্রয়স্থলে পৌঁছেছিলাম, প্রচন্ড তুষারপাত হওয়ার কারণে সেই রাত্রি আমরা আশ্রয় স্থানে অতিবাহিত করে পরদিন ভোর সাড়ে ৪ টে নাগাদ রওনা হয়ে সূর্যোদয়ের ঠিক পূর্বে পর্বত শিখরে পৌঁছই।

যেহেতু আমি খুব একটা ট্রেক করিনা, কাজেই সকল ট্রেক কিট বিশেষ করে রান্নার প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র আমার ছিল না। আমরা খাবার, জল ইত্যাদি সব কিছু নিয়েই উঠেছিলাম, সকলে এই সকল দ্রব্যাদি ভাগ করে নিয়েছিলাম যেন কারও লাগেজ অধিক ভারী না হয়। আশ্রয়স্থলের একদিকে রান্না আর খাওয়ার জন্যে ঘর ছিল। সেখানে সকলে নিজের স্টোভ, পাত্র সব নিয়েই গিয়েছিলো, যে যার খাবার বানিয়ে নিচ্ছিলো। আমাকে স্বাভাবিক কারণেই অন্যের উপর নির্ভর করতে হয়েছিল, যেটা খুব একটা উপভোগ্য ছিল না। বাইরের দেশে স্বনির্ভর হওয়াটাই কাম্য। এখানে একটা কথা উল্লেখ্য যে, পরদিন ভোরে আমরা যখন রওনা হয়েছিলাম সেই স্থান পরিষ্কার করে সকল আবর্জনা আমরা সাথে নিয়ে নিয়েছিলাম, সেই স্থানে কিছুই ফেলে আসিনি।

সেই অসামান্য আর অনবদ্য সূর্যোদয়ের রূপ বর্ণনা করার শব্দ আমার কাছে নেই। এই প্রত্যুষ মনে এক নব আনন্দের দিগন্ত উন্মোচন করে, মেঘের মধ্যে দাঁড়িয়ে সূর্যের নরম সোনালী আভা যখন দিক থেকে দিকান্তরে ছড়িয়ে পড়ছে সেই মনোমুগ্ধকর চিত্রকে অনুধাবন করে প্রকৃতি মাতাকে প্রণাম করি।

এবার (২০২২ সালে) কিন্তু আমরা সূর্যোদয় দেখিনি, আমরা পর্বতের পাদদেশ থেকে আমরা রওনা হয়েছিলাম ভোর ৫ টেতে, কাজেই শীর্ষদেশে পৌঁছতে প্রায় সাড়ে ৮ টা বেজে যায়।
আমরা পূর্বের দিনটি ইয়ংজু শহরে একটি পেনশন-এ অতিবাহিত করি। এই শহরের ফরেস্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউটে সেমিনার শেষ হতে দেরি হওয়ায় সেই দিন আমরা রওনা হতে পারিনি। কাজেই পরদিন ভোরবেলা প্রায় চারটের সময়ে প্রাতঃরাশ সেরে আমরা যখন পর্বতের পাদদেশে এসে পৌঁছয় তখন প্রায় ভোর পৌনে ৫ টা। ট্রেকিং উপযোগী পোশাক পরিহিত হয়ে যখন যাত্রা শুরু হলো তখন ৫ টা বাজে।

শুরুর রাস্তা বেশ খাড়াই, প্রথম ৪০ মিনিট বেশ ভালোই বেগ পেতে হয়। এ পথে এই সময়ে শুরু থেকেই আইস ক্লেট লাগিয়ে নেওয়া, পায়ে বটম গার্ড পরে নেওয়া উচিত, আমিও তাই করেছিলাম। তবে আমার সাথে কোনো ট্রেকিং পোল ছিল না, সেটা বেশ মুশকিলের। কিন্তু একটা শক্ত পোক্ত গাছের লম্বা ডাল পেয়ে গেলাম, হয়তো ফিরতি পথে কেউ ফেলে গিয়েছিলো। এই ঠান্ডায় আর্দ্রতার লেশ মাত্র নেই, কাজেই গাছের ডাল গুলি খুবই শুষ্ক ও ভঙ্গুর কিন্তু আমার লাঠিটি বেশ শক্তই ছিল এবং এতে আমার বেশ সুবিধা হয়েছিল। জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে ট্রেক রুট করা রয়েছে। হাঁফাতে হাঁফাতে চলেছি সেই পথে, চারিদিক খুব অন্ধকার।

অত্যাধিক ঠান্ডায় একটা সুবিধা হলো কোনো প্রকার জীবজন্তু এই সময় খুব একটা এসে পরে না। আমার কাছে কোনো টর্চ ছিল না, তবে কয়েকজন সাথীর সাথে তা ছিল। বরফ প্রায় ফুট খানেক হবে এবং স্থানে স্থানে তা আরও বেশি। আমি প্রচন্ড ক্লান্ত পড়েছিলাম প্রথম ঘন্টায়, কাজেই পথের পাশে বসে পড়েছিলাম, কয়েক মিনিটের বিশ্রাম আবার পথ চলা। একটা ছোট মোনোপড আমি নিয়ে গিয়েছিলাম, তবে তা সেট করে ছবি তুলতে দস্তানার মধ্যে থেকে হাত বের করতেই ঠান্ডায় অসম্ভব যন্ত্রণা শুরু হচ্ছিলো (দস্তানার ভিতর থেকে আমার আঙ্গুল ফোনের ক্যামেরা সেট করতে ঠিক করে কাজ করছিলো না), কাজেই ফটো তোলা খুবই কঠিন হয়ে পড়ছিলো অন্ধকারে, বরং আলো ফুটলে তা কিছুটা সহজ হলো। এই জঙ্গলে ডেসিডুয়াস উদ্ভিদের প্রাধান্য চোখে পড়ার মতন, শীতে তাদের সকল পাতা ঝরে গেছে, তারা পত্রশূন্য হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে। তবে স্থানে স্থানে কনিফেরাস উদ্ভিদও রয়েছে, তাদের পত্রগুলি সূঁচের ন্যায় অভিযোজিত হওয়ায়, পরিধি কম হওয়ায় তা থেকে সমস্ত জল বেরিয়ে যায়নি ফলে সেগুলি শুষ্ক হয়ে যায়নি। এবার ধীরে ধীরে স্বর্ণাভ আভা ছড়িয়ে পড়ছে। জঙ্গলের মধ্যে দিয়েই সূর্যোদয় প্রত্যক্ষ করলাম। গাছের ডালের মধ্যে দিয়ে কমলা বর্ণের সূর্য।

চলা, কখনও একটু বিশ্রাম, ছবি তোলা, আবার চলা। হঠাৎ চোখে পড়লো অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল অব্জার্ভেটরি, নতুন উদ্যম এলো, এ পথ আমার জানা, এর পর আর সামান্য পথ অতিক্রম করলেই শিখরে পৌঁছবো আমরা। প্রায় চার ঘন্টা ট্রেক করে আমরা পৌঁছলাম শীর্ষে। কি অপূর্ব সেই দৃশ্য। তাপমাত্রা -২০ ডিগ্রী সেলসিয়াসের থেকেও কম। এবার কিছুটা জল খেয়ে বেশ ফিট লাগলো।

কিছুক্ষন কাটিয়ে ফেরার রাস্তা ধরা। ফেরার পথ চওড়া, তবে প্রায় দেড় থেকে দুই ফুট বরফে ঢাকা। ফেরার পথ ঢালু তবে তা কিন্তু খুব সহজ নয়, ঢালু পথে চলতে বেশ চাপ পরে, আর খেয়াল রাখতে হয় পিছলে যেন না পড়ি, তাহলেই বড়ো মুশকিল।

যখন প্রান্তদেশে এসে পৌঁছলাম তখন প্রায় বেল বারোটা বাজে। এবারের মতন বিদায় সোবেকসান। সবাই খুব ক্লান্ত, এবার দ্বিপ্রাহরিক আহার সারতে হবে আর তারপর বাড়ি ফেরা।
ডিসেম্বর ২০১৯, ডিসেম্বর ২০২২
বি. দ্র. এই ভ্রমণ কাহিনীটি প্রথম আমার ব্লগে ১৬ই জানুয়ারী ২০২৩ সালে প্রকাশিত হয়েছিল। পুনরায় ভ্রমণ কাহিনীটি এই সাইটে প্রকাশিত হলো।
Travel & Travelogue Blogs
Our Latest Travel & Travelogue Blogs
দীর্ঘদিন অনবরত কাজ করে বেশ হাঁফিয়ে উঠেছিলাম, অনেক দিন পর রাখী বা রক্ষাবন্ধনের ছুটি পাওয়া গেলো, পরদিন আবার রবিবার, কাজেই পরপর দু'দিন কর্মবিরতি, ঠিক করলাম জব্বলপুর থেকে ঘুরে আসবো।.....
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 22 September 2025
বন্ধুদের সাথে ঠিক করলাম, সম্মেলনের শেষ দিনে শেষ হওয়ার পর আমাদের হাতে কয়েক ঘন্টা সময় থাকবে, সেই সময় আমরা একটু ঘুরে দেখবো শহরটা। তবে একদিন একটু পর্যন্ত দুপুরে ঘুরে এলাম চাঙ্গি এয়ারপোর্ট। এই বিমানবন্দরটির মধ্যে রয়েছে একটি ট্রপিকাল ফরেস্টের ছোট সংস্করণ, যা অবশ্যই একটি মনোমুগ্ধকর দ্রষ্টব্য।...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 4 Feb 2025
পূর্বে একাধিকবার উল্লেখ করেছি আমার ভ্রমণ অধিকাংশ সময়েই কর্মসূত্রে। এর একটা অসুবিধা হলো, ওই স্থানের অনেক দ্রষ্টব্য আমার সময়ের সংক্ষিপ্ততায় দেখা হয়ে ওঠেনা, আবার সুবিধা হলো, এমন কিছু দ্রষ্টব্য, বিশেষত ওই স্থান সম্পর্কিত এমন কিছু তথ্য (যা সম্পর্কে আমার আগ্রহ রয়েছে) জানা যায় বা আমার দেখা হয় যা হয়তো কেবলমাত্র পর্যটক হয়ে এলে দেখা হয়ে উঠতো না। গতবৎসর জুন মাসে একটি বিজ্ঞান সম্মেলনে যোগদান করতে গিয়েছিলাম সিঙ্গাপুরে, আর এই ভ্রমণ কাহিনীটি সেই বিষয়ে।...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 3 Feb 2025
ঘুম ভাঙলো প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজের শব্দে। বাইরে তখন খুবই কুয়াশা, হোটেলের ঘরের কাঁচের জানলা বাষ্পে পূর্ণ, কিছুই দৃষ্টিগোচর হচ্ছে না, অবশেষে জানলা খুলে কুচকাওয়াজ দেখছিলাম। তারপর প্রস্তুত হয়ে আমরা আমরা বেরোলাম স্থানীয় বিভিন্ন দ্রষ্টব্যস্থান গুলির উদ্দেশ্যে। গতকাল ছিল ঐতিহাসিক ভ্রমণ, আর আজ আমরা সাক্ষী থাকবো প্রাগৈতিহাসিক কালের কিছু নিদর্শনের। ...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 28 Jan 2025
মালদার নিকট মানিকচক ঘাট থেকে ভেসেলে গঙ্গা পার হয়ে আমরা পৌঁছলাম রাজমহল ঘাটে, তখন প্রায় ১'টা বাজে। মালদা ভ্রমণের পর এবার আমরা রাজমহল ঘুরব। ঝাড়খন্ড রাজ্যের সাহিবগঞ্জ জেলায় রাজমহল অবস্থিত, যা একদা মাল-পাহাড়িয়া উপজাতির গোষ্ঠী মাল রাজা শাসন করতেন। সকালে হোটেল থেকে প্রাতঃরাশ সেরেই বেরিয়েছিলাম আমরা।...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 28 Jan 2025
হাবশী বংশের পরে বাংলার শাসনভার ন্যস্ত হয় হুসেন শাহী বংশের (১৪৯৪ থেকে ১৫৩৮ খ্রিস্টাব্দ) উপর। আলাউদ্দিন হুসেন শাহ ছিলেন এই বংশের প্রতিষ্ঠাতা। বড়ো সোনা মসজিদ বা বারদুয়ারী মসজিদের নির্মাণ কার্য আলাউদ্দিন হুসেন শাহের সময়কালে আরম্ভ হলেও নির্মাণকার্যটি শেষ হয় নাসিরুদ্দিন নসরৎ শাহের আমলে।...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 28 Jan 2025
গতকাল রেডিওতে গল্প শুনতে শুনতে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। ঘুম ভাঙলো বেশ ভোরে। হোটেলে প্রাতঃরাশ সকাল ৮ টা থেকে ১০ টা পর্যন্ত। আমরা পৌনে ন'টার মধ্যে প্রাতঃরাশ সেরে ন'টা নাগাদ বেরিয়ে পড়লাম। গতকালই আমি অটো-র জন্যে বলে রেখেছিলাম। সঠিক সময়ে আমাদের অটো চালক দাদা এসে গিয়েছিলেন। বর্তমানে মালদা শহরের দক্ষিণে গৌড় এবং উত্তরে রয়েছে পাণ্ডুয়া।...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 28 Jan 2025
সকাল ন'টায় কলকাতা স্টেশন থেকে রওনা হয়ে ১২৩৬৩ কলকাতা-হলদিবাড়ি সুপারফাস্ট সঠিক সময় বিকাল ৩টে-তে মালদা টাউন পৌঁছলো। আর আমরা এসে পৌঁছলাম অতীতের মহানগর গৌড়ে।...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 28 Jan 2025
আজ একটু বেলা করেই উঠলো সবাই। গত কয়েকদিন ধরে বেশ ভোর ভোরই উঠতে হচ্ছিলো সকলকে, আজ একটু বেশিক্ষন বিছানায় কাটানো যাচ্ছে, বেশ লাগছে। গতকাল একটি ফটো আমরা গাড়িতে ফেলে এসেছিলাম, তাই রুডিকে ফোন করে অনুরোধ করলাম সে যেন গতকালের গাড়িটিই আমাদের জন্যে আজকে পাঠায়, সেটিতেই আমরা যাবো পাটায়া।...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 25 Jan 2025
আজ আমাদের ব্যাঙ্কক ঘোরার প্রথম দিন। প্রথমে আমরা যাবো ম্যাকলং রেলস্টেশনে (Maeklong Station)। রেললাইনের দু'পাশে পসরা সাজিয়ে বাজার বসেছে। ট্রেনটি যখন আসে দোকানগুলির উপর থেকে চাঁদোয়াগুলি সরিয়ে নেওয়া হয়, সংকীর্ণ লাইনটি বেয়ে রেলগাড়িটি স্টেশনে আসে।...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 25 Jan 2025
আজও ঘুম ভাঙলো ভোর ৫ টায়। আসলে থাইল্যান্ড সময় দক্ষিণ কোরিয়ার সময়ের থেকে ২ ঘন্টা পিছিয়ে, আমার বায়োলজিক্যাল ক্লক অনুসারে আমি বাড়িতে সকাল ৭ টায় উঠি, কাজেই এখানে তাড়াতাড়ি আমার ঘুম ভেঙে যাচ্ছে। ...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 25 Jan 2025
আজ খুব ভোরে, প্রায় ৫ টা নাগাদ, ঘুম ভেঙে গিয়েছিলো। বাইরে তখনও অন্ধকার, বারান্দায় এসে বসলাম, একটু পরে আলো ফুটবে। বেশ ভালো লাগে ভোর হওয়া দেখতে। ৬টা নাগাদ সবাইকে ডেকে দিলাম, প্রাত্যহিক কাজ সেরে ফ্রেশ হয়ে চা-বিস্কুট খেয়ে আমরা অপেক্ষা করছিলাম। সাড়ে সাতটায় গাড়ি এলো আমাদের নিয়ে যেতে। আজ আমরা অনেকগুলি দ্বীপ ঘুরে দেখবো, সমুদ্র যাত্রা, সমুদ্রস্নান সবই হবে, কাজেই বাড়ি থেকে স্নান সেরে নেওয়ার প্রয়োজন ছিল না।...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 25 Jan 2025
অন্তর্দেশীয় বহির্গমন বিমানবন্দরের তিনতলায় অবস্থিত। পূর্বেই বলেছি এবার আমাদের যাত্রা ফুকেটের উদ্দেশ্যে। বিমানবন্দরে নির্দিষ্ট বিমানের কাউন্টার থেকে বোর্ডিং পাস সংগ্রহ করে, নিরাপত্তা পরীক্ষার পর যখন নির্দিষ্ট দ্বারের সামনে এসে পৌঁছলাম তখন হাতে বেশ কিছুটা সময় ছিল। মা বাবা'রা কলকাতা থেকে অনেক মিষ্টি নিয়ে এসেছিলেন, কয়েকটির সদ্গতি করে বিমানে চড়লাম।...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 25 Jan 2025
প্রায় দীর্ঘ সাড়ে তিন বৎসর পর কয়েকদিনের ছুটিতে সপরিবারে গিয়েছিলাম থাইল্যান্ড। আগামী কয়েকটি পর্বে আমি আমাদের এই ভ্রমণ কাহিনীটি বিস্তারিত লিখব। ...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 25 Jan 2025
উহান আজ বিশ্ববাসীর কাছে খুব পরিচিত নাম। কোভিড-১৯ এই শহরেই প্রথম সংক্রামিত হয়েছিল। আমার এই শহরের সাথে পরিচয় তার কিছু পূর্বে, ২০১৮ খ্রিস্টাব্দের মাঝামাঝি সময়ে। একটি বিজ্ঞান সম্মেলনে যোগদান করতে ওই বছর মে মাসে আমি উহান শহরে যাই।...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 23 Jan 2025
২০১৭ সালের অক্টোবর মাসে গিয়েছিলাম তাজপুর-শঙ্করপুর-দীঘা বেড়াতে। তাজপুর বেড়ানোর অভিজ্ঞতা সম্বন্ধে একটি ব্লগ আমি পূর্বে লিখেছি। আজকের ব্লগে আমি শঙ্করপুর বেড়ানোর অভিজ্ঞতা লিখবো। ...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 20 Jan 2025
বৈচিত্র্যময় ভারতবর্ষের মৃত্তিকার প্রতিটি কণায় কান পাতলে শোনা যায় তার ইতিহাস, লোকসংস্কৃতি, আর দর্শন। এই বৈচিত্র্যময়তার সাথে একাত্মতা অনুভব করেই আমরা সেইস্থানের মাহাত্ম্য অনুধাবন করি।...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 20 Jan 2025
আমি যে খুব ট্রেকিং প্রিয় মানুষ তা নয়, তবে বিগত কয়েক বৎসর ধরে, মানে আমার দক্ষিণ কোরিয়ায় বসবাসের সময়কালের মধ্যে, বৎসরান্তে একবার গবেষণাগারের সকলের সাথে আমি কোনো না কোনো পর্বতে হাইকিং করতে যাই। করোনা মহামারীর পূর্বে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাসে গিয়েছিলাম সোবেকসানে (সোবেক পর্বতে, কোরিয়ান 'সান' শব্দটির অর্থ পর্বত), আবার ২০২২ সালের ডিসেম্বর মাসেও আমরা গিয়েছিলাম ওই পর্বতে।...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 20 Jan 2025
এ ভ্রমণ বৃত্তান্ত আমার ছোটবেলার, আমি তখন পঞ্চম শ্রেণীতে পড়ি। বাবার এক বন্ধুর পরিবারের সাথে আমরা গিয়েছিলাম রাজগীর। বাবাকে কখনওই বেড়ানোর দীর্ঘ পরিকল্পনা করতে দেখিনি, হঠাৎ করেই ঠিক করে ফেলতেন, কখনও টিকিট কেটে এনে বাড়িতে এসে আমাদের নিয়ে রওনা হতেন।...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 20 Jan 2025
মহানগরী মুম্বই, ছত্রপতি শিবাজী মহারাজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যখন এসে পৌঁছলাম দুপুর প্রায় গড়িয়ে গেছে। এবার সোজা হোটেল। সাকিনাকা-তে আমাদের হোটেল, বিমানবন্দর থেকে বেশি দূরে নয়। আমাদের ফেরার ফ্লাইট সকালে, তাই এই জায়গাটা বেশ সুবিধার হলো আমাদের জন্যে। মুম্বই শহরে দীর্ঘদিন আমি কাটিয়েছি, কলেজের পাঠ শেষ করে কর্মসূত্রে এ শহরে আমি এসেছিলাম।...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 20 Jan 2025
পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় বঙ্গোপসাগর উপকূলে অবস্থিত তাজপুর পশ্চিমবঙ্গের সৈকত পর্যটনের তুলনামূলক নতুন সংযোজন। দ্বাদশ পরিকল্পনা অনুসারে পশ্চিমবঙ্গের অন্তর্গত যে চারটি পর্যটন বর্তনী (Circuit) শনাক্তকরণ করা হয়েছিল তার মধ্যে প্রথমটি সৈকত কেন্দ্রিক (দীঘা -শঙ্করপুর - তাজপুর - জুনপুট - মন্দারমনি) আর আমাদের গন্তব্য তাজপুর, জেলে বসতির উপর আধারিত এই পর্যটন কেন্দ্র।...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 20 Jan 2025
সিরাজের মৃত্যুতে অবসান হল আফসার বংশের, ভারতবর্ষের ভাগ্যাকাশে নেমে এলো সূর্যাস্ত। শুরু হল মীর জাফর বংশ, ইতিহাসে যা নাজাফী বংশ বলে পরিচিত। ২৪ শে জুন ১৭৫৭ খ্রিষ্টাব্দে যখন পলাশির যুদ্ধ শেষ হয় আর ২৯শে জুন মীর জাফর মুর্শিদাবাদের সিংহাসনে বসেন, রবার্ট ক্লাইভ যথার্থই বলেছিলেন এই জয় তাঁর নয় বরং এই জয় মীর জাফরের।...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 20 Jan 2025
পড়ন্ত বেলাতেই এসে উপস্থিত হলাম অতীতের মহানগরী ‘মুক্সুবাদ’-এ। নগরীর বাঁ দিক দিয়ে বয়ে চলেছে ভাগীরথী নদী, এই নগরের উত্থান তাকে ঘিরেই। নদীপথে ব্যবসা বাণিজ্যের সুবিধা হেতুই মোঘল সম্রাট ঔরঙ্গজেব নিযুক্ত তৎকালীন বাঙলা, বিহার আর উড়িষ্যার সুবেদার (পরবর্তীকালে ‘নবাব নাজিম’) মুর্শিদকুলী খাঁ ঢাকা থেকে ভাগীরথীর উপকণ্ঠে মুক্সুবাদে রাজধানী স্থানান্তরিত করেন, তাঁর নামানুসারে নগরের নাম পরিবর্তিত হয়ে হল মুর্শিদাবাদ, সূচনা হল ভারতবর্ষের এক নতুন ইতিহাসের।...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 20 Jan 2025
সকাল ১০ টা ১০ র শান্তিনিকেতন এক্সপ্রেস হাওড়া ছেড়ে যখন শান্তিনিকেতন পৌঁছালো তখন বেলা প্রায় সাড়ে বারোটা। বাইরে বেরিয়ে টোটো ধরে হোটেল পান্থনিবাসে পৌঁছলাম প্রায় দেড়টা নাগাদ।...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 20 Jan 2025
সময়ের অপ্রতুলতা জীবনধারণের সবক্ষেত্রে উপলব্ধি করলেও, বোধহয় সর্বাধিক প্রকট হয়ে ওঠে দৈনন্দিন ব্যস্ত জীবনের মধ্যে ভ্রমণের সময় অনুসন্ধানে। পাঁচমাড়ি ভ্রমণের সময়েও এর ব্যতিক্রম হয়নি।...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 13 Jan 2025
আনদং বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইয়ংদেওক বা ইয়ংদক (Yeongdeok, South Korea) সমুদ্র সৈকতের দূরত্ব ৫৫-৬০ কিলোমিটারের মতন, সময় লাগে ঘন্টা খানেক। অপূর্ব সুন্দর সৈকতের পাশাপাশি ইয়ংদক বিখ্যাত তার মৎস বন্দর আর বিশেষত কাঁকড়ার জন্যে। ...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 13 Jan 2025
যখন হরিদ্বার পৌঁছলাম ‘হর কি পাউরি’ ঘাটে সন্ধ্যারতি শুরু হয়ে গিয়েছে। ব্রহ্মকুণ্ডের সামনে প্রথমে মাতা গঙ্গার বন্দনা আর তারপর পুরোহিতগণ নদীমাতৃকার উদ্দেশ্যে আরতি করেন, অগণিত ভক্ত সেই মঙ্গলারতি দর্শন করে নিজেদের ধন্য মনে করেন।........
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 13 Jan 2025