থাইল্যান্ড: পর্ব-৫-ব্যাংকক (Thailand: Part-5-Bangkok)
থাইল্যান্ড: পর্ব-৫-ব্যাংকক (Thailand: Part-5-Bangkok)
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 25 Jan 2025
পূর্ববর্তী পর্বগুলি পড়ার জন্যে ক্লিক করুন থাইল্যান্ড: পর্ব-১ থাইল্যান্ড: পর্ব-২ থাইল্যান্ড: পর্ব-৩ থাইল্যান্ড: পর্ব-৪
আজ আমাদের ব্যাঙ্কক ঘোরার প্রথম দিন। প্রথমে আমরা যাবো ম্যাকলং রেলস্টেশনে (Maeklong Station)। রেললাইনের দু’পাশে পসরা সাজিয়ে বাজার বসেছে। ট্রেনটি যখন আসে দোকানগুলির উপর থেকে চাঁদোয়াগুলি সরিয়ে নেওয়া হয়, সংকীর্ণ লাইনটি বেয়ে রেলগাড়িটি স্টেশনে আসে। এই দৃশ্য দেখার জন্যে প্রত্যহ সকালে পর্যটকরা ভিড় করেন, যেমন আমরাও এসেছি আজ। কথা মতন নির্দিষ্ট সময়ে অর্থাৎ সকাল ৭টায় রুডি গাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছিলেন। ওঁর এক ভাইপোকেও পাঠিয়েছিলেন, আগে থেকে দর্শনীয় স্থানগুলির টিকিট কেটে আমাদের সাহায্য করার জন্য। স্থানীয় বাজারটি ঘুরে দেখতে বেশ ভালো লাগে, বেশিরভাগ সব্জি পরিচিত হলেও বেশ কিছু সব্জি, ফল অচেনাও থাকতে পারে। ট্রেন আসার পূর্বেই আমরা যথাস্থানে পৌঁছে গিয়েছিলাম। স্টেশনের পাশেই রয়েছে সারি সারি রেস্তোরাঁ। চা-বিস্কুট আমরা খেয়েই বেরিয়েছিলাম। এখানে যে যার মতন পানীয় পছন্দ করে কিনলো, কেউ ডাব আবার কেউ ম্যাংগো স্মুদি। ডাব আমার বড়োই প্রিয়, জল তো বটেই, ভিতরের শাঁস টাও ততোধিক প্রিয়। তবে দক্ষিণ কোরিয়াতে ডাব খুব একটা পাওয়া যায় না, কখনও টিনে ডাবের জল পাওয়া যায় বটে কিন্তু তা আমার ভালো লাগে না, কাজেই এই পুরো ঘোরাতেই আমি মন ভরে ডাব খেয়েছিলাম। এবার ট্রেনটি ঢুকছে, লাইনের উপর পর্যটকদের ভিড়, নিজ নিজ দোকানের চাঁদোয়াগুলি দোকানিরা সরিয়ে নিচ্ছেন আর ট্রেনটি এগিয়ে আসছে। বেশ উপভোগ্য এ দৃশ্য।

ক্রমাগত লাইন থেকে পর্যটকদের সরে দাঁড়ানোর অনুরোধ বার্তা বাজতে লাগলো, ট্রেন স্টেশনে প্রবেশ করলো। এতক্ষণ ট্রেন আসার ছবি বা ভিডিও তুলতে ব্যস্ত পর্যটকরা এবার ট্রেনের সামনে দাঁড়িয়ে ফটো তুলতে ব্যস্ত হয়ে পড়লেন। বলাই বাহুল্য, আমরাও এ আনন্দ থেকে নিজেদের বঞ্চিত করিনি।

এখন থেকে আমরা যাবো দামনেন সাদুকে (Damnoen Saduak)। শহরের মধ্যে দিয়ে কয়েক কিলোমিটার ব্যাপী বয়ে চলেছে একটি খাল, তার দু’পাশে স্থানীয় মানুষের ঘর-বাড়ি, দোকান, আবার কোথাও নৌকা করে বাজারের পসরা সাজিয়ে চলেছে বেচা কেনা, অনেক ভেনিসের মতন। আমরা এখানে নৌকাবিহার করবো। তবে যাওয়ার পথে প্রথমে যাবো নারকেল থেকে গুড় প্রস্তুত করা দেখতে। আঁখি গুড়ের সাথে আমরা ভারতবাসীরা পরিচিত, শীতকালে খেঁজুরের রস থেকে যে গুড় বা পাটালি তৈরী হয় তা তো বাঙালির প্রেম, আবার তালের পাটালিও হয়ে থাকে, তবে নারকেল থেকে গুড় প্রস্তুত করা হয় তা আমি পূর্বে জানলেও চেখে দেখার সুযোগ এই প্রথম বার, বেশ সুস্বাদু।
এইবার চললাম দামনেন সাদুকের উদ্দেশ্যে। গাড়ি থেকে নেমে যে পথ দিয়ে নৌকার কাছে পৌঁছলাম তার দু’পাশে কাষ্ঠনির্মিত অনেক ভাস্কর্য রাখা রয়েছে, অধিকাংশই ভগবান বুদ্ধের এবং বৌদ্ধ ধর্মের নানান চরিত্রের।

একটি নৌকায় ছয়জন, কাজেই আমাদের একটি নৌকা লেগেছিলো। নৌকার পশ্চাদভাগে ইঞ্জিন রয়েছে, নৌকার চালক সেখান থেকে নৌকাটিকে চালাচ্ছেন। সরু খাল বেয়ে অত্যন্ত দ্রুতবেগে চলে এই নৌকাগুলি আর পর্যটকরা তা উপভোগ করেন, নৌকায় যেতে যেতে দেখেন আশপাশের ঘর বাড়ি, বাগান ইত্যাদি, এক অনন্য অভিজ্ঞতা। আবার প্রতিটি বাঁকের সময় নৌকার গতি ধীর হয়ে যায়, বাঁক ঘুরেই আবার সে গতি বৃদ্ধি করে। নৌকা যাত্রা সব মিলিয়ে প্রায় ২০ মিনিট মতন।

নৌকা এসে যে স্থানে নামিয়ে দেয়, সেটা বাজার। নৌকা থেকে নেমে সিঁড়ি বেয়ে আমরা যখন উঠে আসলাম, তখন দোকানিদের ডাকাডাকি, তাদের পসরা দেখানোর ধুম লেগে যায়।

একটু এগিয়ে আসতেই দেখলাম, এক ব্যক্তি কয়েকটি বাঁধানো ছবি আমাদের সামনে এসে আমাদের বিক্রি করতে চাইছেন, ছবি দেখে তো আমরা আশ্চর্য। এতো আমাদেরই নৌকাবিহারের ছবি ! নৌকা ছাড়ার একটু পরেই এক ব্যক্তি পাড় থেকে আমাদের ছবি তুলেছিলেন, মাত্র ২০ মিনিটের মধ্যে তা প্রিন্ট করে বাঁধিয়ে বিক্রি করতে এসেছেন। ছবিগুলি আমরা কিনেছিলাম, এক একটা ১৫০ থাই বাত করে নিয়েছিলেন। কাপড়, বিভিন্ন দ্রব্যাদি ইত্যাদির পাশাপাশি এখানে একের পর এক রেস্তোরাঁ রয়েছে। নিজেদের পছন্দের মতন একটি দোকানে গিয়ে বসলাম। সি ফুড ফ্রাইড রাইস, চিকেন ফ্রাইড রাইস, প্রন ফ্রাইড রাইস, স্যুপ ইত্যাদি ছাড়াও এখানে যে জিনিসটা আমাদের সর্বাধিক রসনাতৃপ্তকারক ছিল তা হলো ডাব আইসক্রিম। ডাবের নরম শাঁসের মধ্যে আইসক্রিম, তার উপর চীনাবাদাম, নীল রঙের অল্প ভাত আর একটি ফুল দিয়ে গার্নিশ করা।

এবার আমরা ফিরে চললাম। প্রথম গন্তব্য ব্যাঙ্ককের গ্র্যান্ড প্যালেস। এটি পর্যটকদের অন্যতম প্রধান দ্রষ্টব্য। মহান গ্র্যান্ড প্যালেস প্রাঙ্গনের অভ্যন্তরে অবস্থিত মহিমান্বিত ভবনগুলির স্থাপত্যশৈলী অসাধারণ। রাজা প্রথম রামা দ্বারা রাষ্ট্রের রাজধানী হিসেবে ব্যাঙ্ককে প্রতিষ্ঠান করার সময় ১৭৮২ সালে এই প্যালেসটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এবং ২১৮০০০ বর্গ মিটার ব্যাপৃত প্যালেস প্রাঙ্গনের অভ্যন্তরে রয়েছে রাজসিংহাসনের বাড়ি, প্রসিদ্ধ এমারাল্ড বুদ্ধ মন্দির (The Temple of the Emerald Buddha) সহ অনেকগুলি সরকারি দফতর।

প্রথম পর্বে এই দেশটির সংক্ষিপ্ত ইতিহাস বর্ণনার সময় উল্লেখ করেছিলাম চাকরি রাজবংশের কথা, যা ইতিহাসে রাত্তানাকসিন রাজত্ব (Rattanakosin Kingdom) নাম পরিচিত। ব্যাঙ্ককের হৃদয়ে অবস্থিত এই মহান প্যালেসটি রাজা চাও ফ্রায়া (Phra Phutthayotfa Chulalok Maharaj) যিনি রাজা প্রথম রামা নাম পরিচিত, থেকে রাজা রামা পঞ্চম পর্যন্ত রাজাদের বাসভবন হিসেবে ব্যবহৃত হতো। বর্তমানে এই স্থানটি রাজপরিবারের অনুষ্ঠানিক উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয় এবং রাজার অতিথিদের, রাষ্ট্রের অতিথিদের এবং অন্যান্য বিদেশী বিশেষাধিকারীদের স্বাগতের জন্য ব্যবহৃত হয়। গ্র্যান্ড প্যালেসের প্রবেশ পথে অনেক গাইড রয়েছেন, তাঁরা নিজেরাই এগিয়ে আসবেন, তবে কথা বলে গাইডের পারিশ্রমিক ঠিক করে নেওয়া বাঞ্চনীয়। একা একাও এস্থান ঘুরে দেখা যায়, তবে সাথে গাইড থাকলে বুঝে নিতে সাহায্য হয়।

প্রথম পর্বে আমি উল্লেখ করেছিলাম রামাকিয়েন-র কথা। এই কাহিনী রামায়ণের হলেও কিছু বৈসাদৃশ্য রয়েছে। ভারতীয় মহাকাব্য রামায়ণের রাজা রাম রামাকিয়েনে ফ্রা রামা (Phra Rama), সীতা এখানে নাং সিদা (Nang Sida), দশরথ এখানে থোৎসারথ (Thotsaroth), রাবণ এখানে তৎসাকান (Totsakan) ইত্যাদি। রামাকিয়েনের কাহিনী অনুসারে মাতা সীতা রাবণের কন্যা, হনুমান বিবাহিত পুরুষ, হনুমান নিজেকে প্রসারিত করে সেতু নির্মাণ করেন ইত্যাদি বেশ কয়েকটি স্থানে বৈসাদৃশ্য লক্ষ্যিত হয়। এই কাহিনী প্রসঙ্গান্তরে সুযোগ পেলে কখনও বিস্তারিত আলোচনা করবো। এই কাহিনীগুলি শিল্পীর কল্পনায় প্যালেসের দেওয়ালে প্রস্ফুটিত হয়েছে।

এরপর আমাদের দ্রষ্টব্য ওয়াট ফো, যার অফিসিয়াল নাম ওয়াট ফ্রা চেতুফন উইমন মংখলারাম রাজওয়ারমহাভিহান (Wat Phra Chetuphon Wimon Mangkhalaram Rajwaramahawihan)। রাজা রামা প্রথম পূর্ববর্তী মন্দিরটিকে পুনর্নির্মাণ করেন এবং পরবর্তীকালে রাজা রামা তৃতীয় মন্দিরটিকে সম্প্রসারণ এবং সংস্কার করেন। ব্যাঙ্কক শহরের প্রাচীনতম মন্দিরটির নাম ওয়াট ফো এসেছে ওয়াট ফোতারাম (Wat Photaram) বা ওয়াট ফোধারাম (Wat Phodharam) কথাটি থেকে, যা ভারতবর্ষের বোধ গয়ায় অবস্থিত বোধিবৃক্ষের মঠ কে নির্দেশ করে। থাইল্যান্ডের সাথে ভারতবর্ষের দর্শন একই ধারায় প্রবাহিত হয়েছে, ভ্রমণের বিভিন্ন দ্রষ্টব্যের মাধ্যমে তা সহজেই অনুভব হয়। চোখে পড়বে চাও ফ্রায়া নদীর ওপর তীরে অবস্থিত অন্য একটি বৌদ্ধ মন্দির হলো ওয়াট অরুন। যখন আয়ুত্থায়া সাম্রাজ্য বার্মিজ আক্রমণে অস্তমিত তখন রাজা তাকসিন থোনবুরিতে রাজধানী স্থানান্তরিত করেন এবং বৌদ্ধ মন্দির অরুনের পাশে রাজপ্রাসাদ নির্মাণ করান। পরবর্তীকালে রাত্তানাকসিন রাজবংশের সূচনায় রাজা রামা প্রথম থোনবুরি থেকে ব্যাঙ্ককে রাজধানী স্থানান্তরিত করলে তিনি বৌদ্ধ মন্দির ফো-র পাশে রাজপ্রাসাদ নির্মাণ করান।

৮০ বর্গমিটার বিস্তৃত মন্দির প্রাঙ্গনটিতে রয়েছে ফ্রা উবসত (Phra Ubosot), ফ্রা রাবিয়াং (Phra Rabiang), ফ্রা মহা চেদি সি রাজকর্ণ (Phra Maha Chedi Si Rajakarn), এবং রিক্লাইনিং বুদ্ধ (Reclining Buddha) মূর্তি। ফ্রা উবসত (ফ্রা উপোসাথা) বা বট হল হল, বৌদ্ধ আচার অনুষ্ঠানের জন্য ব্যবহৃত প্রধান অর্ডিনেশন গৃহ এবং প্রাঙ্গণটির সর্বাধিক পবিত্র ভবন। এটি আয়ুথায়-শৈলীতে রাজা প্রথম রাম দ্বারা নির্মিত হয়েছিল, এবং পরে রাম তৃতীয় দ্বারা রত্নকোসিন-শৈলীতে এটিকে প্রসারিত ও পুনর্নির্মাণ করা হয়েছিল। ফ্রা উবসত ফ্রা রাবিয়াং দ্বারা ঘেরা প্রাঙ্গনের মধ্যভাগে অবস্থিত।

এই ডাবল ক্লোস্টারে উত্তর থাইল্যান্ডের বুদ্ধের প্রায় ৪০০ টি মূর্তি রয়েছে যা মূলত রাজা রাম প্রথম দ্বারা আনা ১২০০ টির মধ্যে নির্বাচিত হয়েছে। এই বুদ্ধ মূর্তিগুলির মধ্যে ১৫০ টি ডাবল ক্লোস্টারের ভিতরের দিকে, অন্য ২৪৪ টি মূর্তি দিকে রয়েছে। এই বুদ্ধের মূর্তিগুলো, কিছু দাঁড়িয়ে আছে এবং কিছু উপবিষ্ট, সমানভাবে সোনালি পাদদেশে মাউন্ট করা হয়েছে। এই মূর্তিগুলি সিয়ামের বিভিন্ন স্থান থেকে আনীত এবং ইতিহাসের বিভিন্ন সময়কালের, যেমন চিয়াংসেন (Chiang Saen), সুখোথাই (Sukhothai), ইউ-থং (U-Thong) এবং আয়ুত্থায়া (Ayutthaya) সময়কালের। মূর্তিগুলিকে রামা প্রথম সংস্কার করেছিলেন এবং এগুলিকে সোনার পাতা দিয়ে আবৃত করে দেওয়া হয়েছিল।

রিক্লাইনিং বুদ্ধ (ফ্রা বুদ্ধসাইয়াস/ Phra Buddhasaiyas) ১৮৩২ খ্রিস্টাব্দে রাজা রামা তৃতীয় দ্বারা নির্মিত হয়েছিল। এই হেলান দেওয়া বুদ্ধমূর্তি ভগবান বুদ্ধের নির্বাণে প্রবেশ এবং সমস্ত পুনর্জন্মের সমাপ্তির প্রতিনিধিত্ব করে।


জুলাই, ২০২৩
বি.দ্র. এই ভ্রমণ কাহিনীটি প্রথম আমার ব্লগে ৮ই অগাস্ট ২০২৩ সালে প্রকাশিত হয়েছিল। পুনরায় ভ্রমণ কাহিনীটি এই সাইটে প্রকাশিত হলো।
Travel & Travelogue Blogs
Our Latest Travel & Travelogue Blogs
দীর্ঘদিন অনবরত কাজ করে বেশ হাঁফিয়ে উঠেছিলাম, অনেক দিন পর রাখী বা রক্ষাবন্ধনের ছুটি পাওয়া গেলো, পরদিন আবার রবিবার, কাজেই পরপর দু'দিন কর্মবিরতি, ঠিক করলাম জব্বলপুর থেকে ঘুরে আসবো।.....
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 22 September 2025
বন্ধুদের সাথে ঠিক করলাম, সম্মেলনের শেষ দিনে শেষ হওয়ার পর আমাদের হাতে কয়েক ঘন্টা সময় থাকবে, সেই সময় আমরা একটু ঘুরে দেখবো শহরটা। তবে একদিন একটু পর্যন্ত দুপুরে ঘুরে এলাম চাঙ্গি এয়ারপোর্ট। এই বিমানবন্দরটির মধ্যে রয়েছে একটি ট্রপিকাল ফরেস্টের ছোট সংস্করণ, যা অবশ্যই একটি মনোমুগ্ধকর দ্রষ্টব্য।...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 4 Feb 2025
পূর্বে একাধিকবার উল্লেখ করেছি আমার ভ্রমণ অধিকাংশ সময়েই কর্মসূত্রে। এর একটা অসুবিধা হলো, ওই স্থানের অনেক দ্রষ্টব্য আমার সময়ের সংক্ষিপ্ততায় দেখা হয়ে ওঠেনা, আবার সুবিধা হলো, এমন কিছু দ্রষ্টব্য, বিশেষত ওই স্থান সম্পর্কিত এমন কিছু তথ্য (যা সম্পর্কে আমার আগ্রহ রয়েছে) জানা যায় বা আমার দেখা হয় যা হয়তো কেবলমাত্র পর্যটক হয়ে এলে দেখা হয়ে উঠতো না। গতবৎসর জুন মাসে একটি বিজ্ঞান সম্মেলনে যোগদান করতে গিয়েছিলাম সিঙ্গাপুরে, আর এই ভ্রমণ কাহিনীটি সেই বিষয়ে।...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 3 Feb 2025
ঘুম ভাঙলো প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজের শব্দে। বাইরে তখন খুবই কুয়াশা, হোটেলের ঘরের কাঁচের জানলা বাষ্পে পূর্ণ, কিছুই দৃষ্টিগোচর হচ্ছে না, অবশেষে জানলা খুলে কুচকাওয়াজ দেখছিলাম। তারপর প্রস্তুত হয়ে আমরা আমরা বেরোলাম স্থানীয় বিভিন্ন দ্রষ্টব্যস্থান গুলির উদ্দেশ্যে। গতকাল ছিল ঐতিহাসিক ভ্রমণ, আর আজ আমরা সাক্ষী থাকবো প্রাগৈতিহাসিক কালের কিছু নিদর্শনের। ...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 28 Jan 2025
মালদার নিকট মানিকচক ঘাট থেকে ভেসেলে গঙ্গা পার হয়ে আমরা পৌঁছলাম রাজমহল ঘাটে, তখন প্রায় ১'টা বাজে। মালদা ভ্রমণের পর এবার আমরা রাজমহল ঘুরব। ঝাড়খন্ড রাজ্যের সাহিবগঞ্জ জেলায় রাজমহল অবস্থিত, যা একদা মাল-পাহাড়িয়া উপজাতির গোষ্ঠী মাল রাজা শাসন করতেন। সকালে হোটেল থেকে প্রাতঃরাশ সেরেই বেরিয়েছিলাম আমরা।...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 28 Jan 2025
হাবশী বংশের পরে বাংলার শাসনভার ন্যস্ত হয় হুসেন শাহী বংশের (১৪৯৪ থেকে ১৫৩৮ খ্রিস্টাব্দ) উপর। আলাউদ্দিন হুসেন শাহ ছিলেন এই বংশের প্রতিষ্ঠাতা। বড়ো সোনা মসজিদ বা বারদুয়ারী মসজিদের নির্মাণ কার্য আলাউদ্দিন হুসেন শাহের সময়কালে আরম্ভ হলেও নির্মাণকার্যটি শেষ হয় নাসিরুদ্দিন নসরৎ শাহের আমলে।...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 28 Jan 2025
গতকাল রেডিওতে গল্প শুনতে শুনতে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। ঘুম ভাঙলো বেশ ভোরে। হোটেলে প্রাতঃরাশ সকাল ৮ টা থেকে ১০ টা পর্যন্ত। আমরা পৌনে ন'টার মধ্যে প্রাতঃরাশ সেরে ন'টা নাগাদ বেরিয়ে পড়লাম। গতকালই আমি অটো-র জন্যে বলে রেখেছিলাম। সঠিক সময়ে আমাদের অটো চালক দাদা এসে গিয়েছিলেন। বর্তমানে মালদা শহরের দক্ষিণে গৌড় এবং উত্তরে রয়েছে পাণ্ডুয়া।...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 28 Jan 2025
সকাল ন'টায় কলকাতা স্টেশন থেকে রওনা হয়ে ১২৩৬৩ কলকাতা-হলদিবাড়ি সুপারফাস্ট সঠিক সময় বিকাল ৩টে-তে মালদা টাউন পৌঁছলো। আর আমরা এসে পৌঁছলাম অতীতের মহানগর গৌড়ে।...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 28 Jan 2025
আজ একটু বেলা করেই উঠলো সবাই। গত কয়েকদিন ধরে বেশ ভোর ভোরই উঠতে হচ্ছিলো সকলকে, আজ একটু বেশিক্ষন বিছানায় কাটানো যাচ্ছে, বেশ লাগছে। গতকাল একটি ফটো আমরা গাড়িতে ফেলে এসেছিলাম, তাই রুডিকে ফোন করে অনুরোধ করলাম সে যেন গতকালের গাড়িটিই আমাদের জন্যে আজকে পাঠায়, সেটিতেই আমরা যাবো পাটায়া।...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 25 Jan 2025
আজ আমাদের ব্যাঙ্কক ঘোরার প্রথম দিন। প্রথমে আমরা যাবো ম্যাকলং রেলস্টেশনে (Maeklong Station)। রেললাইনের দু'পাশে পসরা সাজিয়ে বাজার বসেছে। ট্রেনটি যখন আসে দোকানগুলির উপর থেকে চাঁদোয়াগুলি সরিয়ে নেওয়া হয়, সংকীর্ণ লাইনটি বেয়ে রেলগাড়িটি স্টেশনে আসে।...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 25 Jan 2025
আজও ঘুম ভাঙলো ভোর ৫ টায়। আসলে থাইল্যান্ড সময় দক্ষিণ কোরিয়ার সময়ের থেকে ২ ঘন্টা পিছিয়ে, আমার বায়োলজিক্যাল ক্লক অনুসারে আমি বাড়িতে সকাল ৭ টায় উঠি, কাজেই এখানে তাড়াতাড়ি আমার ঘুম ভেঙে যাচ্ছে। ...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 25 Jan 2025
আজ খুব ভোরে, প্রায় ৫ টা নাগাদ, ঘুম ভেঙে গিয়েছিলো। বাইরে তখনও অন্ধকার, বারান্দায় এসে বসলাম, একটু পরে আলো ফুটবে। বেশ ভালো লাগে ভোর হওয়া দেখতে। ৬টা নাগাদ সবাইকে ডেকে দিলাম, প্রাত্যহিক কাজ সেরে ফ্রেশ হয়ে চা-বিস্কুট খেয়ে আমরা অপেক্ষা করছিলাম। সাড়ে সাতটায় গাড়ি এলো আমাদের নিয়ে যেতে। আজ আমরা অনেকগুলি দ্বীপ ঘুরে দেখবো, সমুদ্র যাত্রা, সমুদ্রস্নান সবই হবে, কাজেই বাড়ি থেকে স্নান সেরে নেওয়ার প্রয়োজন ছিল না।...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 25 Jan 2025
অন্তর্দেশীয় বহির্গমন বিমানবন্দরের তিনতলায় অবস্থিত। পূর্বেই বলেছি এবার আমাদের যাত্রা ফুকেটের উদ্দেশ্যে। বিমানবন্দরে নির্দিষ্ট বিমানের কাউন্টার থেকে বোর্ডিং পাস সংগ্রহ করে, নিরাপত্তা পরীক্ষার পর যখন নির্দিষ্ট দ্বারের সামনে এসে পৌঁছলাম তখন হাতে বেশ কিছুটা সময় ছিল। মা বাবা'রা কলকাতা থেকে অনেক মিষ্টি নিয়ে এসেছিলেন, কয়েকটির সদ্গতি করে বিমানে চড়লাম।...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 25 Jan 2025
প্রায় দীর্ঘ সাড়ে তিন বৎসর পর কয়েকদিনের ছুটিতে সপরিবারে গিয়েছিলাম থাইল্যান্ড। আগামী কয়েকটি পর্বে আমি আমাদের এই ভ্রমণ কাহিনীটি বিস্তারিত লিখব। ...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 25 Jan 2025
উহান আজ বিশ্ববাসীর কাছে খুব পরিচিত নাম। কোভিড-১৯ এই শহরেই প্রথম সংক্রামিত হয়েছিল। আমার এই শহরের সাথে পরিচয় তার কিছু পূর্বে, ২০১৮ খ্রিস্টাব্দের মাঝামাঝি সময়ে। একটি বিজ্ঞান সম্মেলনে যোগদান করতে ওই বছর মে মাসে আমি উহান শহরে যাই।...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 23 Jan 2025
২০১৭ সালের অক্টোবর মাসে গিয়েছিলাম তাজপুর-শঙ্করপুর-দীঘা বেড়াতে। তাজপুর বেড়ানোর অভিজ্ঞতা সম্বন্ধে একটি ব্লগ আমি পূর্বে লিখেছি। আজকের ব্লগে আমি শঙ্করপুর বেড়ানোর অভিজ্ঞতা লিখবো। ...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 20 Jan 2025
বৈচিত্র্যময় ভারতবর্ষের মৃত্তিকার প্রতিটি কণায় কান পাতলে শোনা যায় তার ইতিহাস, লোকসংস্কৃতি, আর দর্শন। এই বৈচিত্র্যময়তার সাথে একাত্মতা অনুভব করেই আমরা সেইস্থানের মাহাত্ম্য অনুধাবন করি।...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 20 Jan 2025
আমি যে খুব ট্রেকিং প্রিয় মানুষ তা নয়, তবে বিগত কয়েক বৎসর ধরে, মানে আমার দক্ষিণ কোরিয়ায় বসবাসের সময়কালের মধ্যে, বৎসরান্তে একবার গবেষণাগারের সকলের সাথে আমি কোনো না কোনো পর্বতে হাইকিং করতে যাই। করোনা মহামারীর পূর্বে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাসে গিয়েছিলাম সোবেকসানে (সোবেক পর্বতে, কোরিয়ান 'সান' শব্দটির অর্থ পর্বত), আবার ২০২২ সালের ডিসেম্বর মাসেও আমরা গিয়েছিলাম ওই পর্বতে।...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 20 Jan 2025
এ ভ্রমণ বৃত্তান্ত আমার ছোটবেলার, আমি তখন পঞ্চম শ্রেণীতে পড়ি। বাবার এক বন্ধুর পরিবারের সাথে আমরা গিয়েছিলাম রাজগীর। বাবাকে কখনওই বেড়ানোর দীর্ঘ পরিকল্পনা করতে দেখিনি, হঠাৎ করেই ঠিক করে ফেলতেন, কখনও টিকিট কেটে এনে বাড়িতে এসে আমাদের নিয়ে রওনা হতেন।...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 20 Jan 2025
মহানগরী মুম্বই, ছত্রপতি শিবাজী মহারাজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যখন এসে পৌঁছলাম দুপুর প্রায় গড়িয়ে গেছে। এবার সোজা হোটেল। সাকিনাকা-তে আমাদের হোটেল, বিমানবন্দর থেকে বেশি দূরে নয়। আমাদের ফেরার ফ্লাইট সকালে, তাই এই জায়গাটা বেশ সুবিধার হলো আমাদের জন্যে। মুম্বই শহরে দীর্ঘদিন আমি কাটিয়েছি, কলেজের পাঠ শেষ করে কর্মসূত্রে এ শহরে আমি এসেছিলাম।...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 20 Jan 2025
পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় বঙ্গোপসাগর উপকূলে অবস্থিত তাজপুর পশ্চিমবঙ্গের সৈকত পর্যটনের তুলনামূলক নতুন সংযোজন। দ্বাদশ পরিকল্পনা অনুসারে পশ্চিমবঙ্গের অন্তর্গত যে চারটি পর্যটন বর্তনী (Circuit) শনাক্তকরণ করা হয়েছিল তার মধ্যে প্রথমটি সৈকত কেন্দ্রিক (দীঘা -শঙ্করপুর - তাজপুর - জুনপুট - মন্দারমনি) আর আমাদের গন্তব্য তাজপুর, জেলে বসতির উপর আধারিত এই পর্যটন কেন্দ্র।...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 20 Jan 2025
সিরাজের মৃত্যুতে অবসান হল আফসার বংশের, ভারতবর্ষের ভাগ্যাকাশে নেমে এলো সূর্যাস্ত। শুরু হল মীর জাফর বংশ, ইতিহাসে যা নাজাফী বংশ বলে পরিচিত। ২৪ শে জুন ১৭৫৭ খ্রিষ্টাব্দে যখন পলাশির যুদ্ধ শেষ হয় আর ২৯শে জুন মীর জাফর মুর্শিদাবাদের সিংহাসনে বসেন, রবার্ট ক্লাইভ যথার্থই বলেছিলেন এই জয় তাঁর নয় বরং এই জয় মীর জাফরের।...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 20 Jan 2025
পড়ন্ত বেলাতেই এসে উপস্থিত হলাম অতীতের মহানগরী ‘মুক্সুবাদ’-এ। নগরীর বাঁ দিক দিয়ে বয়ে চলেছে ভাগীরথী নদী, এই নগরের উত্থান তাকে ঘিরেই। নদীপথে ব্যবসা বাণিজ্যের সুবিধা হেতুই মোঘল সম্রাট ঔরঙ্গজেব নিযুক্ত তৎকালীন বাঙলা, বিহার আর উড়িষ্যার সুবেদার (পরবর্তীকালে ‘নবাব নাজিম’) মুর্শিদকুলী খাঁ ঢাকা থেকে ভাগীরথীর উপকণ্ঠে মুক্সুবাদে রাজধানী স্থানান্তরিত করেন, তাঁর নামানুসারে নগরের নাম পরিবর্তিত হয়ে হল মুর্শিদাবাদ, সূচনা হল ভারতবর্ষের এক নতুন ইতিহাসের।...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 20 Jan 2025
সকাল ১০ টা ১০ র শান্তিনিকেতন এক্সপ্রেস হাওড়া ছেড়ে যখন শান্তিনিকেতন পৌঁছালো তখন বেলা প্রায় সাড়ে বারোটা। বাইরে বেরিয়ে টোটো ধরে হোটেল পান্থনিবাসে পৌঁছলাম প্রায় দেড়টা নাগাদ।...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 20 Jan 2025
সময়ের অপ্রতুলতা জীবনধারণের সবক্ষেত্রে উপলব্ধি করলেও, বোধহয় সর্বাধিক প্রকট হয়ে ওঠে দৈনন্দিন ব্যস্ত জীবনের মধ্যে ভ্রমণের সময় অনুসন্ধানে। পাঁচমাড়ি ভ্রমণের সময়েও এর ব্যতিক্রম হয়নি।...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 13 Jan 2025
আনদং বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইয়ংদেওক বা ইয়ংদক (Yeongdeok, South Korea) সমুদ্র সৈকতের দূরত্ব ৫৫-৬০ কিলোমিটারের মতন, সময় লাগে ঘন্টা খানেক। অপূর্ব সুন্দর সৈকতের পাশাপাশি ইয়ংদক বিখ্যাত তার মৎস বন্দর আর বিশেষত কাঁকড়ার জন্যে। ...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 13 Jan 2025
যখন হরিদ্বার পৌঁছলাম ‘হর কি পাউরি’ ঘাটে সন্ধ্যারতি শুরু হয়ে গিয়েছে। ব্রহ্মকুণ্ডের সামনে প্রথমে মাতা গঙ্গার বন্দনা আর তারপর পুরোহিতগণ নদীমাতৃকার উদ্দেশ্যে আরতি করেন, অগণিত ভক্ত সেই মঙ্গলারতি দর্শন করে নিজেদের ধন্য মনে করেন।........
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 13 Jan 2025