সিঙ্গাপুর: পর্ব-১ (Singapore: Part-1)
সিঙ্গাপুর: পর্ব-১ (Singapore: Part-1)
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 3 Feb 2025
পূর্বে একাধিকবার উল্লেখ করেছি আমার ভ্রমণ অধিকাংশ সময়েই কর্মসূত্রে। এর একটা অসুবিধা হলো, ওই স্থানের অনেক দ্রষ্টব্য আমার সময়ের সংক্ষিপ্ততায় দেখা হয়ে ওঠেনা, আবার সুবিধা হলো, এমন কিছু দ্রষ্টব্য, বিশেষত ওই স্থান সম্পর্কিত এমন কিছু তথ্য (যা সম্পর্কে আমার আগ্রহ রয়েছে) জানা যায় বা আমার দেখা হয় যা হয়তো কেবলমাত্র পর্যটক হয়ে এলে দেখা হয়ে উঠতো না। গতবৎসর জুন মাসে একটি বিজ্ঞান সম্মেলনে যোগদান করতে গিয়েছিলাম সিঙ্গাপুরে, আর এই ভ্রমণ কাহিনীটি সেই বিষয়ে। আমার গৌরচন্দ্রিকা থেকে নিশ্চয়ই পাঠক-পাঠিকাগণ ধারণা করতে পেরেছেন যে সিঙ্গাপুরে বেড়াতে গিয়ে কি কি দেখা উচিত এবং কিভাবে সেই দ্রষ্টব্যগুলি সাজাবেন বা ঘুরবেন ইত্যাদি বিষয়ে আমি বিশেষ কোনো কিছুর উল্লেখ এই লেখায় করতে আমি অপারগ, বরং আমি আমার চোখে কি কি দেখলাম তার বর্ণনা করি, আশা করি বেশ কিছু প্রয়োজনীয় তথ্য পরিবেশন করতে পারবো।
বর্তমানে সিঙ্গাপুর যে এশিয়ার অন্যতম উন্নত দেশ এবং বাণিজ্যকেন্দ্র তা বলার অপেক্ষা রাখে না। দেশটির অবস্থান আনন্দ বাগচী মহাশয়ের ‘মালয়ের জঙ্গলে’-র অমলের বিদ্যালয়ের ভূগোলের শিক্ষক সুকুমার বাবুর বর্ণনায় ‘দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মূল ভূমির সঙ্গে মালয় উপদ্বীপ জোড় বেঁধেছে ৫০০ মাইল লম্বা ভূ-যোজকের সাহায্যে; ব্রহ্মদেশ আর শ্যামদেশের দক্ষিণ সীমা সম্প্রসারণের মতো এই অন্তরীপকে যদি লম্বা একখানা হাত মনে করিস তবে সিঙ্গাপুর হচ্ছে তার আঙুলের ডগা যা সুমাত্রা ও বোর্নিও দ্বীপপুঞ্জের মাঝ বরাবর ইশারা করে রয়েছে।’ আবার অমলের বর্ণনায় ‘ভারতমাতার বামকাধরূপী ব্রহ্মদেশ থেকে যে আঁচলটা ঝুলে পড়েছে বঙ্গোপসাগর ও শ্যাম উপসাগরের মাঝ বরাবর সেই অঞ্চলের প্রান্তে গিঁট বাধা চাবির থকা ওই সিঙ্গাপুর দ্বীপটি, মালয় থেকে যা জোহর প্রণালী দিয়ে বিচ্ছিন্ন হলেও পৌনে এক মাইল ক্রসওয়ে বা ব্রিজ দিয়ে গাঁটছড়া বাঁধা অবস্থায় রয়েছে।’ (এখানে উল্লেখ্য ব্রহ্মদেশ হলো আজকের মিয়ানমার আর শ্যামদেশ বর্তমানের থাইল্যান্ড)। আপনারা নিশ্চয়ই এদেশের অবস্থান জানেন, তবুও উল্লেখ করলাম, ঝালিয়ে নিতে পারেন, এই আর কি।
ইতিপূর্বে আমি সিঙ্গাপুর বিমানবন্দর হয়ে যাতায়াত করলেও, দেশটি দেখা এই প্রথম। ‘অমলে’র মতন কলকাতা থেকে রেঙ্গুন-ব্যাংকক হয়ে আমি সিঙ্গাপুর যাইনি, আমাকে যেতে হয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার ইনচিওন বিমানবন্দর থেকে। এই যাত্রাপথটি কিন্তু কম নয়, সাড়ে ছয় পৌনে সাত ঘন্টা সময় লাগে। কাজেই এই সময়ের মধ্যে একবার এ দেশের ইতিহাসে চোখ বুলিয়ে নেওয়া যেতেই পারে।
প্রখ্যাত গণিতবিদ, জ্যোতির্বিদ ক্লদিয়াস টলেমির লেখায় এই স্থানের উল্লেখ পাওয়া যায়, যা তিনি ‘সাবানা’ বলে উল্লেখ করেছিলেন। পরবর্তীকালে তৃতীয় শতকে চৈনিক বইতে এই স্থানকে সম্ভবত ‘পু লুও চুং’ বলে উল্লেখ করা হয়, নামটি মালয় ভাষায় ‘পুলাউ উজং’ দ্বারা অনুপ্রাণিত, যার অর্থ মালয় পেনিনসুলার শেষের দ্বীপ। ‘সিঙ্গাপুর’ নামটি এসেছে সংস্কৃত শব্দ “সিংহ” (Simha) এবং “পুর” (Pura) থেকে, যার অর্থ “সিংহ নগরী”। জনশ্রুতি অনুযায়ী, ১৩শ শতকে সুমাত্রার রাজপুত্র সাং নিলা উত্তমা এই দ্বীপে একটি সিংহ-সদৃশ প্রাণী দেখতে পান এবং এই নামটি দেন। তবে, সিংহ এই অঞ্চলের স্থানীয় প্রাণী নয়, কাজেই এটি ঠিক কোন প্রাণী ছিল তা অজানা। সিঙ্গাপুর বললেই যে সিংহের মুখটি সকলের মনে পরে, সিংহের সিম্বলিক (Symbolic) হয়ে ওঠার কারণ এটি। গল্পটা শুরুই যখন হলো, একটু গুছিয়ে বলি, শ্রীবিজয় সাম্রাজ্য (Srivijayan dynasty- খ্রিষ্টীয় সপ্তম থেকে ত্রয়োদশ শতক) ছিল একটি শক্তিশালী সামুদ্রিক ও বাণিজ্যিক সাম্রাজ্য, যার কেন্দ্র ছিল বর্তমানে ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রার পালেম্বাং-এ (Palembang-Present day, Sumatra, Indonesia)। এটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বৃহৎ অংশ নিয়ন্ত্রণ করত এবং মালাক্কা প্রণালী ও দক্ষিণ চীন সাগরের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য পথ নিয়ন্ত্রণ করত। শ্রীবিজয় ছিল একটি বৌদ্ধ সাম্রাজ্য এবং বৌদ্ধধর্ম প্রচারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। দক্ষিণ ভারতের চোল সাম্রাজ্য (Chola dynasty), রাজা রাজা চোল এবং তার পুত্র রাজেন্দ্র চোলের অধীনে, ১১শ শতকে শ্রীবিজয়ে নৌ-আক্রমণ চালায়। ১০২৫ খ্রিষ্টাব্দে চোল রাজা রাজেন্দ্র চোল প্রথম আক্রমণের ফলে শ্রীবিজয়ের শক্তি দুর্বল হয়ে পড়ে। এই আক্রমণের উদ্দেশ্য ছিল বাণিজ্য পথের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া এবং শ্রীবিজয়ের প্রভাব কমানো। শ্রীবিজয়ের পতন ঘটে, সাম্রাজ্যটি ধীরে ধীরে ক্ষীণ হয়ে যায় এবং পরে মজাপাহিত সাম্রাজ্য (Majapahit empire) উদিত হয়। শ্রীবিজয়ের সময়ে সিঙ্গাপুর দ্বীপটি তেমাসেক (Temasek- ‘Sea town’) নামে পরিচিত ছিল, যার অর্থ “সমুদ্র নগরী”। শ্রীবিজয়ের পতনের পর এটি মজাপাহিত সাম্রাজ্য (১৪শ শতক) এবং পরে মালাক্কা সুলতানাত (Malacca sultanate) (১৫শ শতক) এর প্রভাবাধীন ছিল। ষোড়শ শতকের প্রথমভাগে পর্তুগিজরা মালাক্কা দখল করার পর সিঙ্গাপুরের গুরুত্ব কমে যায়। পরে এটি জোহর সুলতানাতের (Johor sultanate) অধীনে আসে এবং কয়েক শতাব্দী ধরে একটি নির্জন এলাকা হয়ে থাকে। ১৮১৯ সালে, ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির প্রতিনিধি স্যার স্ট্যামফোর্ড র্যাফেলস সিঙ্গাপুরে একটি বাণিজ্য কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেন। জোহরের সুলতানের সাথে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করে ব্রিটিশরা দ্বীপটির ওপর তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করে। এরপর সিঙ্গাপুর দ্রুত একটি মুক্ত বন্দর হিসেবে বিকশিত হয় এবং এশিয়া ও ইউরোপ থেকে ব্যবসায়ীদের আকর্ষণ করে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর, সিঙ্গাপুর কিছু সময়ের জন্য মালয় ফেডারেশনের অংশ ছিল। তবে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মতপার্থক্যের কারণে, ৯ আগস্ট, ১৯৬৫-এ সিঙ্গাপুর মালয় থেকে পৃথক হয়ে একটি স্বাধীন প্রজাতন্ত্রে পরিণত হয়। এরপর থেকে সিঙ্গাপুর একটি বৈশ্বিক আর্থিক ও বাণিজ্য কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আর এখানেই নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু প্রথম ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল আর্মি নির্মাণ করেন।
এবার ফিরি বর্তমানে। ইনচিওন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (Incheon International Airport, South Korea) থেকে দুপুরে রওনা হয়ে সিঙ্গাপুর চাঙ্গি বিমানবন্দরে (Singapore Changi airport) যখন পৌঁছলাম তখন সূর্য অস্তাচলে, সন্ধ্যা হয়ে গিয়েছে। এখানে ইমিগ্রেশন অটোমেটিক, কোনো মানুষ নেই, মেশিন পুরোটাই চেক করে দরজা খুলে দিচ্ছে, বেশ মজার এবং দ্রুততর। এবার মোবাইল ফোনের জন্যে একটি স্থানীয় সিম কিনে, চালু করে, হোটেলে পৌঁছনোর জন্যে স্থানীয় বাস-ই বেশি ভালো বলে মনে করলাম, বিমানবন্দরে বাস টার্মিনালটিতে উপস্থিত হলাম। এদেশে ইংরেজি ভাষা চলে, বেশিরভাগ মানুষ ইংরেজিতে কথাবার্তা বলতে পারেন, কাজেই স্থানীয় মানুষদের সাথে কথোপকথনে খুব অসুবিধা হয় না। বাস নম্বর বাসস্ট্যান্ডের চার্টে দেখে নিয়ে উঠে পড়লাম। এখানেও বাসে ওঠার সময়ে ভাড়া নির্দিষ্ট জায়গায় জমা করতে হয়, বা বাস কার্ড থাকলে তো কথাই নেই, নির্দিষ্ট ভাড়া কেটে নেবে কার্ড থেকে। কোরিয়াতে যদি আপনি অতিরিক্ত ভাড়া ডিপোজিট করেন, তবে প্রয়োজনীয় ভাড়াটি কেটে ড্রাইভার বোতাম টিপে আপনাকে অতিরিক্তটুকু ফেরত দিয়ে দেবেন- এটাই প্রচলিত। কিন্তু বাস চালক ইংরেজি বলেন না, কাজেই যেটা বুঝলাম তা হলো, আমরা যদি অতিরিক্ত ভাড়া (বড় মানের নোট) ডিপোজিট করি, কোনোকিছুই ফেরত পাবো না। কাজেই, ছোট মানের নোট দেওয়াটাই বাঞ্ছনীয়, যাতে টাকা নষ্ট না হয়। কিন্তু আমাদের কাছে তো সব বড় নোট। সামনেই একজন বৃদ্ধ ভদ্রলোক বসে ছিলেন। আমি তাকে একটা ১০ সিঙ্গাপুর ডলারের নোট দিয়ে আমাকে দু’খানি ৫ ডলারের নোট দিতে অনুরোধ করলাম, ভদ্রলোক সবটাই লক্ষ্য করছিলেন, আমাকে তাঁর ব্যাগ থেকে দু’খানি নোট দিলেন, একটা নোট আমি ভাড়া হিসেবে ডিপোজিট করলাম। সিঙ্গাপুর সঠিক অর্থেই কসমোপলিটান; অনেক ভারতীয় বংশোদ্ভূত মানুষ এদেশে বসবাস করেন। একজন ভদ্রমহিলাকে জিজ্ঞেস করলাম কোন স্টপে নামলে আমরা আমাদের গন্তব্যে সহজে পৌঁছতে পারবো, উনি শুনে নিয়ে বলে দিলেন। তারপর বাস থেকে নেমে হেঁটে হেঁটে হোটেলে এসে পৌঁছলাম। সেই কোন সকালে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলাম, মাঝে এয়ারপ্লেনে খেতে দিয়েছিলো ঠিকই, তবু বেশ খিদে পেয়েছিলো।
হোটেলটি সিঙ্গাপুর এক্সপোর নিকটে বেশ ভালো জায়গায় অবস্থিত, সামনেই একটা বিশাল শপিং মল রয়েছে, অনেক রেস্তোরাঁ রয়েছে, বেশ কয়েকটিতে গায়ক হিন্দি গান পরিবেশন করছেন, বেশ জমজমাট জায়গা। আর সবথেকে ভালো বিষয় হলো, এখন থেকে সম্মেলনের স্থানটি খুব নিকটে, এক্সপোর মধ্যেই, হেঁটেই পৌঁছনো যায় কয়েক মিনিটের মধ্যে। আমরাও একটি ভারতীয় রেস্তোরাঁতে ঢুকলাম। ক্লান্তি কাটানোর একটি সহজ উপায় হলো সুইমিং পুলে সাঁতার কাটা, যেটা আমি খুব উপভোগ করি। তবে ডিনার সেরে আজ আর আমি সুইমিং পুলে গেলাম না, বাড়িতে সবাইকে পৌঁছ সংবাদ দিয়ে, আজকের মতন বিছানার আশ্রয় নিলাম।
পরদিন,
বাইরে কোথাও গেলে ঘুম খুব ভোরে ভেঙে যায় আমার। আজ সম্মেলনের উদ্যোক্তারা একটা ট্রিপের ব্যবস্থা করেছেন, আমরা তাতে অংশ নেবো। প্রাতঃরাশ সেরে সকাল সাড়ে আটটার মধ্যে পৌঁছতে হবে মারিনা সাউথ পিয়ের। প্রাতঃরাশের পরিবেশিত পদগুলির মধ্যে অন্যান্য নানা পদের সাথে একাধিক ভারতীয় পদ রয়েছে, আমি মনের সুখে কয়েক টুকরো পরোটা (এখানে পরোটাগুলি তিনকোনা করে কেটে কেটে রাখা ছিল), তরকারি, ডিম সিদ্ধ, কয়েকটি ফল, আর ইয়োগার্ট নিলাম। প্রত্যহই ভারতীয় নানান খাদ্যপদ এঁদের তালিকায় ছিল দেখেছি। মারিনা সাউথ পিয়ের থেকে লঞ্চে আমরা যাবো সেন্ট জন আইল্যান্ডে, সেখানে রয়েছে মেরিন রিসার্চ এন্ড কনসারভেশন কেন্দ্র। আমরা পৌঁছলাম মেরিন অ্যাকুয়াকালচার সেন্টার, আজকের ট্রিপের প্রথম গন্তব্য। এটা মাছ চাষের গবেষণাকেন্দ্র। আমাদের এই পরিদর্শনের উদ্দেশ্য মাছচাষে কীটকে মাছের খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে- তা পরিদর্শন করা।

সিঙ্গাপুরে স্থানীয় খাদ্যের মধ্যে মাছের গুরুত্ব অনেক। প্রধানত যে সকল মাছের চাষ এদেশে করা হয় সেগুলি হলো Brown Marbled Grouper/Tiger grouper (Epinephelus fuscoguttatus), Asian Seabass (Lates calcarifer), Pompano (Trachinotus blochii), Golden Trevally (Gnathanodon speciosus), Marina Tilapia (Oreochromis niloticus (Hybrid)), Milkfish (Chanos chanos), Grey Mullet (Mugil cephalus), Crimson Red Snapper (Lutjanus erythropterus)। মৎস্যচাষ কেন্দ্রটি পরিদর্শনের পর আমরা সেন্ট জন দ্বীপ থেকে আমরা আবার মেনল্যান্ডে ফিরে এলাম, এবার মধ্যাহ্ন ভোজন। আহার সেরে আমাদের দ্রষ্টব্য সিঙ্গাপুরের রিপাবলিক পলিটেকনিক, সেখানে আধুনিক চাষের পদ্ধতি, অ্যাকোয়াপনিক্স, গ্রিনহাউস ইত্যাদি। এখানে একটি ছোট পোকাপালন কেন্দ্র ছিল, তবে সেটি কোনো কারণে নিষ্ক্রিয় ছিল। ব্ল্যাক সোলজার ফ্লাই প্রতিপালনের একটি ছোট কোম্পানিও আমরা পরিদর্শন করেছিলাম। ব্ল্যাক সোলজার ফ্লাই (Hermetia illucens) আজকাল অনেক দেশেই চাষ হয়। যদিও এটি একটি ভ্রমণ কাহিনী, তবুও সংক্ষেপে এর উপযোগিতা একটু উল্লেখ করি। এই কীটটি মূলত তিনটি কাজে সাহায্য করে – জৈব বর্জ্যপদার্থ-র ব্যবস্থাপনা (কীটটির লার্ভা কৃষিজ বর্জ্য, খাদ্যের উচ্ছিষ্ট, ইত্যাদি জৈব বর্জ্য খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে, যা ল্যান্ডফিলের বর্জ্য কমাতে ও মিথেন নির্গমন হ্রাস করতে সহায়ক), উচ্চ-প্রোটিন সমৃদ্ধ পশুখাদ্য (লার্ভা প্রোটিন ও অপরিহার্য ফ্যাটি অ্যাসিডে সমৃদ্ধ, যা মাছ, হাঁস-মুরগি এবং গবাদিপশুর খাদ্যের জন্য চমৎকার বিকল্প হতে পারে; এটি সয়াবিন ও মাছের গুঁড়োর (Fishmeal) ওপর নির্ভরতা কমাতে সাহায্য করে), ফ্রাস (বর্জ্য) থেকে জৈব সার উৎপাদন (লার্ভার হজমের পর নির্গত ফ্রাস (মল ও অবশিষ্ট পদার্থ) পুষ্টিসমৃদ্ধ ও উপকারী ব্যাকটেরিয়াযুক্ত, যা মাটির স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটাতে ও গাছের বৃদ্ধিতে সহায়ক)। এই সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি বর্জ্য হ্রাস করে, পরিবেশবান্ধব উপায়ে পশুখাদ্য উৎপাদন করে এবং কৃষিক্ষেত্রে সার সরবরাহ করে, যা চক্রাকার অর্থনীতির মূল দর্শনের (অনুগ্রহ করে পড়ুন কৃষি-খাদ্য ব্যবস্থায় বৃত্তাকার অর্থনীতি) সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। ব্ল্যাক সোলজার ফ্লাই চাষ কম খরচে ছোট ও বড় পরিসরে করা যায়, যা স্থানীয় পর্যায়ে অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরি করতে পারে এবং বর্জ্য পুনঃব্যবহারের সংস্কৃতিকে উৎসাহিত করে।
বেলা পড়ে আসছিলো, সারাদিন অনেক কিছু দেখেছিলাম, অনেকের সাথে পরিচয় হয়েছিল, সম্মেলন সম্পর্কিত নানান বিষয়ে আলোচনায় দিনটা বেশ কেটে গেলো। বিজ্ঞান সম্মেলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো বিভিন্ন মানুষের সাথে পরিচয়, কে কি বিষয়ে কাজ করছেন তা জানা, সাধারণ ভাষায় যাকে ইংরেজীতে নেটওয়ার্কিং বলে। আমি যে এই বিষয়ে খুব পারদর্শী তা নয়, তবে বোধহয় আগের থেকে উন্নতি করেছি। আজ সম্মেলনের স্বাগত ডিনার, এর পর আমার গন্তব্য সেখানে।

ডিনার শেষে ট্যাক্সি সহযোগে হোটেলে, বেশ ক্লান্ত, এবার সুইমিং পুল।
তৃতীয় দিন,
আজ সকালে আমার অধ্যাপকের সাথে একটি সংস্থায় গিয়েছিলাম যারা মূলত কৃষি-রাসায়নিক কোম্পানিগুলির সাথে কাজ করে। কয়েকবৎসর পূর্বে এশিয়ার বিভিন্ন পরাগসংযোগকারী পতঙ্গদের উপর নিওনিকোটিনয়েডের কি প্রভাব তার উপরে গবেষণামূলক, মূলত মেটা অ্যানালিসিস (Meta-analysis), কাজ আমাকে করতে হয়েছিল। সেই সময়ে আমার অধ্যাপকের মাধ্যমে এঁদের সাথে আমার পরিচয়। সিঙ্গাপুরে এদের অফিসটা হারবার ফ্রন্টে অবস্থিত, তাঁরা সিঙ্গাপুর থেকে তাঁদের কার্যালয়টি স্থানান্তরিত করছেন। যাইহোক, মিটিংরুম থেকে কাছের দেওয়ালের বাইরে দেখা যাচ্ছে লঞ্চের সারি, রোপওয়েতে নাতি প্রশস্তের সাগর পার করে পর্যটকরা সেন্টোসা দ্বীপে যাচ্ছেন।

আমাদের আলোচনা চললো পরাগায়নকারী কীট-পতঙ্গ, কীটনাশক, পরিবেশের ভারসাম্য, সুস্থায়ী কৃষিব্যবস্থা ইত্যাদি নানান বিষয় নিয়ে- এ বিষয়ে অবশ্যই কোনো ব্লগে বিস্তারিত লিখবো।
এই ছোট্ট দেশটিতে সবচেয়ে বেশি যা আমার চোখ টেনেছে, বলা ভালো মুগ্ধ করেছে, তা হলো সবুজের সমারোহ। রাস্তার মাঝে এবং পাশে সবুজ উদ্ভিদের জন্য জায়গা রেখে টেকসই অবকাঠামো পরিকল্পনা করা হয়। এছাড়া, বনায়ন ও পুনঃরোপণ কর্মসূচির মাধ্যমে প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ গাছ লাগানো হয়, যা পরিবেশগত ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। সিঙ্গাপুরের এই নীতিগুলো উন্নয়নের সাথে প্রকৃতির সহাবস্থান নিশ্চিত করার এক অনন্য দৃষ্টান্ত। সিঙ্গাপুর তার উন্নয়ন পরিকল্পনায় পরিবেশ সংরক্ষণ ও সবুজায়নকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেয় এবং রাস্তা ও অবকাঠামো নির্মাণের সময় উদ্ভিদ ও বাস্তুতন্ত্র রক্ষায় উদ্ভাবনী পদক্ষেপ গ্রহণ করে।
শহরটি সবুজ অনেক করিডোর নির্মাণ করেছে, যা প্রাকৃতিক উদ্ভিদের মাধ্যমে সংযুক্ত থেকে প্রাণীদের নিরাপদ চলাচলের পথ তৈরি করে, আর রাস্তা নির্মিত হয়েছে মাটির অভ্যন্তর দিয়ে। গুরুত্বপূর্ণ গাছগুলো সংরক্ষণের জন্য বৃক্ষ সংরক্ষণ আইন (Tree Preservation Order) অনুসরণ করা হয়, এবং রাস্তা নির্মাণের সময় পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়নের মাধ্যমে গাছ স্থানান্তরিত বা রক্ষা করা হয়। সবুজ ছাদ এবং উদ্যান স্থাপনের মাধ্যমে ভবনগুলোতে সবুজায়নের ব্যবস্থা করা হয়, যা শহরের তাপমাত্রা কমাতে সহায়ক। প্রায় সকল বৃহৎ অট্টালিকাগুলির বারান্দাতে দেখেছি মানুষ উদ্ভিদের পরিচর্যা করেন। বিভিন্ন উদ্যান ও প্রাকৃতিক রিজার্ভ, যেমন বুকিত তিমাহ নেচার রিজার্ভ এবং ম্যাকরিচি রিজার্ভ, সংযুক্ত করতে পার্ক লিংকেজ তৈরি করা হয়েছে, যা উদ্ভিদ এবং বন্যপ্রাণীর বাসস্থান রক্ষা করে। সময় থাকলে অবশ্যই পর্যটকরা এই স্থানগুলি ঘুরে দেখতে পারেন।


এরপর আমাদের গন্তব্য সম্মেলন। সিঙ্গাপুরে সুবিধা হলো ইংরেজি ভাষার ব্যবহার, ট্যাক্সি বুকিংয়ের অ্যাপ ইংরেজিতে, কাজেই আমার পক্ষে তা ব্যবহার ভীষণ সোজা। ট্যাক্সি সহযোগে উপস্থিত হলাম সম্মেলনে। পরবর্তী পর্বে (পর্ব-২) লিখবো এই ভ্রমণের বাকি গল্প।
জুন, ২০২৪
বি. দ্র. ব্লগে প্রদত্ত তথ্য সাধারণভাবে প্রাপ্ত বা সংগৃহীত, কোনো গবেষণাধর্মী বা গবেষণা নির্ভর প্রবন্ধ এটি নয়।
Travel & Travelogue Blogs
Our Latest Travel & Travelogue Blogs
দীর্ঘদিন অনবরত কাজ করে বেশ হাঁফিয়ে উঠেছিলাম, অনেক দিন পর রাখী বা রক্ষাবন্ধনের ছুটি পাওয়া গেলো, পরদিন আবার রবিবার, কাজেই পরপর দু'দিন কর্মবিরতি, ঠিক করলাম জব্বলপুর থেকে ঘুরে আসবো।.....
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 22 September 2025
বন্ধুদের সাথে ঠিক করলাম, সম্মেলনের শেষ দিনে শেষ হওয়ার পর আমাদের হাতে কয়েক ঘন্টা সময় থাকবে, সেই সময় আমরা একটু ঘুরে দেখবো শহরটা। তবে একদিন একটু পর্যন্ত দুপুরে ঘুরে এলাম চাঙ্গি এয়ারপোর্ট। এই বিমানবন্দরটির মধ্যে রয়েছে একটি ট্রপিকাল ফরেস্টের ছোট সংস্করণ, যা অবশ্যই একটি মনোমুগ্ধকর দ্রষ্টব্য।...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 4 Feb 2025
পূর্বে একাধিকবার উল্লেখ করেছি আমার ভ্রমণ অধিকাংশ সময়েই কর্মসূত্রে। এর একটা অসুবিধা হলো, ওই স্থানের অনেক দ্রষ্টব্য আমার সময়ের সংক্ষিপ্ততায় দেখা হয়ে ওঠেনা, আবার সুবিধা হলো, এমন কিছু দ্রষ্টব্য, বিশেষত ওই স্থান সম্পর্কিত এমন কিছু তথ্য (যা সম্পর্কে আমার আগ্রহ রয়েছে) জানা যায় বা আমার দেখা হয় যা হয়তো কেবলমাত্র পর্যটক হয়ে এলে দেখা হয়ে উঠতো না। গতবৎসর জুন মাসে একটি বিজ্ঞান সম্মেলনে যোগদান করতে গিয়েছিলাম সিঙ্গাপুরে, আর এই ভ্রমণ কাহিনীটি সেই বিষয়ে।...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 3 Feb 2025
ঘুম ভাঙলো প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজের শব্দে। বাইরে তখন খুবই কুয়াশা, হোটেলের ঘরের কাঁচের জানলা বাষ্পে পূর্ণ, কিছুই দৃষ্টিগোচর হচ্ছে না, অবশেষে জানলা খুলে কুচকাওয়াজ দেখছিলাম। তারপর প্রস্তুত হয়ে আমরা আমরা বেরোলাম স্থানীয় বিভিন্ন দ্রষ্টব্যস্থান গুলির উদ্দেশ্যে। গতকাল ছিল ঐতিহাসিক ভ্রমণ, আর আজ আমরা সাক্ষী থাকবো প্রাগৈতিহাসিক কালের কিছু নিদর্শনের। ...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 28 Jan 2025
মালদার নিকট মানিকচক ঘাট থেকে ভেসেলে গঙ্গা পার হয়ে আমরা পৌঁছলাম রাজমহল ঘাটে, তখন প্রায় ১'টা বাজে। মালদা ভ্রমণের পর এবার আমরা রাজমহল ঘুরব। ঝাড়খন্ড রাজ্যের সাহিবগঞ্জ জেলায় রাজমহল অবস্থিত, যা একদা মাল-পাহাড়িয়া উপজাতির গোষ্ঠী মাল রাজা শাসন করতেন। সকালে হোটেল থেকে প্রাতঃরাশ সেরেই বেরিয়েছিলাম আমরা।...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 28 Jan 2025
হাবশী বংশের পরে বাংলার শাসনভার ন্যস্ত হয় হুসেন শাহী বংশের (১৪৯৪ থেকে ১৫৩৮ খ্রিস্টাব্দ) উপর। আলাউদ্দিন হুসেন শাহ ছিলেন এই বংশের প্রতিষ্ঠাতা। বড়ো সোনা মসজিদ বা বারদুয়ারী মসজিদের নির্মাণ কার্য আলাউদ্দিন হুসেন শাহের সময়কালে আরম্ভ হলেও নির্মাণকার্যটি শেষ হয় নাসিরুদ্দিন নসরৎ শাহের আমলে।...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 28 Jan 2025
গতকাল রেডিওতে গল্প শুনতে শুনতে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। ঘুম ভাঙলো বেশ ভোরে। হোটেলে প্রাতঃরাশ সকাল ৮ টা থেকে ১০ টা পর্যন্ত। আমরা পৌনে ন'টার মধ্যে প্রাতঃরাশ সেরে ন'টা নাগাদ বেরিয়ে পড়লাম। গতকালই আমি অটো-র জন্যে বলে রেখেছিলাম। সঠিক সময়ে আমাদের অটো চালক দাদা এসে গিয়েছিলেন। বর্তমানে মালদা শহরের দক্ষিণে গৌড় এবং উত্তরে রয়েছে পাণ্ডুয়া।...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 28 Jan 2025
সকাল ন'টায় কলকাতা স্টেশন থেকে রওনা হয়ে ১২৩৬৩ কলকাতা-হলদিবাড়ি সুপারফাস্ট সঠিক সময় বিকাল ৩টে-তে মালদা টাউন পৌঁছলো। আর আমরা এসে পৌঁছলাম অতীতের মহানগর গৌড়ে।...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 28 Jan 2025
আজ একটু বেলা করেই উঠলো সবাই। গত কয়েকদিন ধরে বেশ ভোর ভোরই উঠতে হচ্ছিলো সকলকে, আজ একটু বেশিক্ষন বিছানায় কাটানো যাচ্ছে, বেশ লাগছে। গতকাল একটি ফটো আমরা গাড়িতে ফেলে এসেছিলাম, তাই রুডিকে ফোন করে অনুরোধ করলাম সে যেন গতকালের গাড়িটিই আমাদের জন্যে আজকে পাঠায়, সেটিতেই আমরা যাবো পাটায়া।...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 25 Jan 2025
আজ আমাদের ব্যাঙ্কক ঘোরার প্রথম দিন। প্রথমে আমরা যাবো ম্যাকলং রেলস্টেশনে (Maeklong Station)। রেললাইনের দু'পাশে পসরা সাজিয়ে বাজার বসেছে। ট্রেনটি যখন আসে দোকানগুলির উপর থেকে চাঁদোয়াগুলি সরিয়ে নেওয়া হয়, সংকীর্ণ লাইনটি বেয়ে রেলগাড়িটি স্টেশনে আসে।...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 25 Jan 2025
আজও ঘুম ভাঙলো ভোর ৫ টায়। আসলে থাইল্যান্ড সময় দক্ষিণ কোরিয়ার সময়ের থেকে ২ ঘন্টা পিছিয়ে, আমার বায়োলজিক্যাল ক্লক অনুসারে আমি বাড়িতে সকাল ৭ টায় উঠি, কাজেই এখানে তাড়াতাড়ি আমার ঘুম ভেঙে যাচ্ছে। ...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 25 Jan 2025
আজ খুব ভোরে, প্রায় ৫ টা নাগাদ, ঘুম ভেঙে গিয়েছিলো। বাইরে তখনও অন্ধকার, বারান্দায় এসে বসলাম, একটু পরে আলো ফুটবে। বেশ ভালো লাগে ভোর হওয়া দেখতে। ৬টা নাগাদ সবাইকে ডেকে দিলাম, প্রাত্যহিক কাজ সেরে ফ্রেশ হয়ে চা-বিস্কুট খেয়ে আমরা অপেক্ষা করছিলাম। সাড়ে সাতটায় গাড়ি এলো আমাদের নিয়ে যেতে। আজ আমরা অনেকগুলি দ্বীপ ঘুরে দেখবো, সমুদ্র যাত্রা, সমুদ্রস্নান সবই হবে, কাজেই বাড়ি থেকে স্নান সেরে নেওয়ার প্রয়োজন ছিল না।...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 25 Jan 2025
অন্তর্দেশীয় বহির্গমন বিমানবন্দরের তিনতলায় অবস্থিত। পূর্বেই বলেছি এবার আমাদের যাত্রা ফুকেটের উদ্দেশ্যে। বিমানবন্দরে নির্দিষ্ট বিমানের কাউন্টার থেকে বোর্ডিং পাস সংগ্রহ করে, নিরাপত্তা পরীক্ষার পর যখন নির্দিষ্ট দ্বারের সামনে এসে পৌঁছলাম তখন হাতে বেশ কিছুটা সময় ছিল। মা বাবা'রা কলকাতা থেকে অনেক মিষ্টি নিয়ে এসেছিলেন, কয়েকটির সদ্গতি করে বিমানে চড়লাম।...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 25 Jan 2025
প্রায় দীর্ঘ সাড়ে তিন বৎসর পর কয়েকদিনের ছুটিতে সপরিবারে গিয়েছিলাম থাইল্যান্ড। আগামী কয়েকটি পর্বে আমি আমাদের এই ভ্রমণ কাহিনীটি বিস্তারিত লিখব। ...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 25 Jan 2025
উহান আজ বিশ্ববাসীর কাছে খুব পরিচিত নাম। কোভিড-১৯ এই শহরেই প্রথম সংক্রামিত হয়েছিল। আমার এই শহরের সাথে পরিচয় তার কিছু পূর্বে, ২০১৮ খ্রিস্টাব্দের মাঝামাঝি সময়ে। একটি বিজ্ঞান সম্মেলনে যোগদান করতে ওই বছর মে মাসে আমি উহান শহরে যাই।...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 23 Jan 2025
২০১৭ সালের অক্টোবর মাসে গিয়েছিলাম তাজপুর-শঙ্করপুর-দীঘা বেড়াতে। তাজপুর বেড়ানোর অভিজ্ঞতা সম্বন্ধে একটি ব্লগ আমি পূর্বে লিখেছি। আজকের ব্লগে আমি শঙ্করপুর বেড়ানোর অভিজ্ঞতা লিখবো। ...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 20 Jan 2025
বৈচিত্র্যময় ভারতবর্ষের মৃত্তিকার প্রতিটি কণায় কান পাতলে শোনা যায় তার ইতিহাস, লোকসংস্কৃতি, আর দর্শন। এই বৈচিত্র্যময়তার সাথে একাত্মতা অনুভব করেই আমরা সেইস্থানের মাহাত্ম্য অনুধাবন করি।...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 20 Jan 2025
আমি যে খুব ট্রেকিং প্রিয় মানুষ তা নয়, তবে বিগত কয়েক বৎসর ধরে, মানে আমার দক্ষিণ কোরিয়ায় বসবাসের সময়কালের মধ্যে, বৎসরান্তে একবার গবেষণাগারের সকলের সাথে আমি কোনো না কোনো পর্বতে হাইকিং করতে যাই। করোনা মহামারীর পূর্বে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাসে গিয়েছিলাম সোবেকসানে (সোবেক পর্বতে, কোরিয়ান 'সান' শব্দটির অর্থ পর্বত), আবার ২০২২ সালের ডিসেম্বর মাসেও আমরা গিয়েছিলাম ওই পর্বতে।...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 20 Jan 2025
এ ভ্রমণ বৃত্তান্ত আমার ছোটবেলার, আমি তখন পঞ্চম শ্রেণীতে পড়ি। বাবার এক বন্ধুর পরিবারের সাথে আমরা গিয়েছিলাম রাজগীর। বাবাকে কখনওই বেড়ানোর দীর্ঘ পরিকল্পনা করতে দেখিনি, হঠাৎ করেই ঠিক করে ফেলতেন, কখনও টিকিট কেটে এনে বাড়িতে এসে আমাদের নিয়ে রওনা হতেন।...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 20 Jan 2025
মহানগরী মুম্বই, ছত্রপতি শিবাজী মহারাজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যখন এসে পৌঁছলাম দুপুর প্রায় গড়িয়ে গেছে। এবার সোজা হোটেল। সাকিনাকা-তে আমাদের হোটেল, বিমানবন্দর থেকে বেশি দূরে নয়। আমাদের ফেরার ফ্লাইট সকালে, তাই এই জায়গাটা বেশ সুবিধার হলো আমাদের জন্যে। মুম্বই শহরে দীর্ঘদিন আমি কাটিয়েছি, কলেজের পাঠ শেষ করে কর্মসূত্রে এ শহরে আমি এসেছিলাম।...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 20 Jan 2025
পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় বঙ্গোপসাগর উপকূলে অবস্থিত তাজপুর পশ্চিমবঙ্গের সৈকত পর্যটনের তুলনামূলক নতুন সংযোজন। দ্বাদশ পরিকল্পনা অনুসারে পশ্চিমবঙ্গের অন্তর্গত যে চারটি পর্যটন বর্তনী (Circuit) শনাক্তকরণ করা হয়েছিল তার মধ্যে প্রথমটি সৈকত কেন্দ্রিক (দীঘা -শঙ্করপুর - তাজপুর - জুনপুট - মন্দারমনি) আর আমাদের গন্তব্য তাজপুর, জেলে বসতির উপর আধারিত এই পর্যটন কেন্দ্র।...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 20 Jan 2025
সিরাজের মৃত্যুতে অবসান হল আফসার বংশের, ভারতবর্ষের ভাগ্যাকাশে নেমে এলো সূর্যাস্ত। শুরু হল মীর জাফর বংশ, ইতিহাসে যা নাজাফী বংশ বলে পরিচিত। ২৪ শে জুন ১৭৫৭ খ্রিষ্টাব্দে যখন পলাশির যুদ্ধ শেষ হয় আর ২৯শে জুন মীর জাফর মুর্শিদাবাদের সিংহাসনে বসেন, রবার্ট ক্লাইভ যথার্থই বলেছিলেন এই জয় তাঁর নয় বরং এই জয় মীর জাফরের।...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 20 Jan 2025
পড়ন্ত বেলাতেই এসে উপস্থিত হলাম অতীতের মহানগরী ‘মুক্সুবাদ’-এ। নগরীর বাঁ দিক দিয়ে বয়ে চলেছে ভাগীরথী নদী, এই নগরের উত্থান তাকে ঘিরেই। নদীপথে ব্যবসা বাণিজ্যের সুবিধা হেতুই মোঘল সম্রাট ঔরঙ্গজেব নিযুক্ত তৎকালীন বাঙলা, বিহার আর উড়িষ্যার সুবেদার (পরবর্তীকালে ‘নবাব নাজিম’) মুর্শিদকুলী খাঁ ঢাকা থেকে ভাগীরথীর উপকণ্ঠে মুক্সুবাদে রাজধানী স্থানান্তরিত করেন, তাঁর নামানুসারে নগরের নাম পরিবর্তিত হয়ে হল মুর্শিদাবাদ, সূচনা হল ভারতবর্ষের এক নতুন ইতিহাসের।...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 20 Jan 2025
সকাল ১০ টা ১০ র শান্তিনিকেতন এক্সপ্রেস হাওড়া ছেড়ে যখন শান্তিনিকেতন পৌঁছালো তখন বেলা প্রায় সাড়ে বারোটা। বাইরে বেরিয়ে টোটো ধরে হোটেল পান্থনিবাসে পৌঁছলাম প্রায় দেড়টা নাগাদ।...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 20 Jan 2025
সময়ের অপ্রতুলতা জীবনধারণের সবক্ষেত্রে উপলব্ধি করলেও, বোধহয় সর্বাধিক প্রকট হয়ে ওঠে দৈনন্দিন ব্যস্ত জীবনের মধ্যে ভ্রমণের সময় অনুসন্ধানে। পাঁচমাড়ি ভ্রমণের সময়েও এর ব্যতিক্রম হয়নি।...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 13 Jan 2025
আনদং বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইয়ংদেওক বা ইয়ংদক (Yeongdeok, South Korea) সমুদ্র সৈকতের দূরত্ব ৫৫-৬০ কিলোমিটারের মতন, সময় লাগে ঘন্টা খানেক। অপূর্ব সুন্দর সৈকতের পাশাপাশি ইয়ংদক বিখ্যাত তার মৎস বন্দর আর বিশেষত কাঁকড়ার জন্যে। ...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 13 Jan 2025
যখন হরিদ্বার পৌঁছলাম ‘হর কি পাউরি’ ঘাটে সন্ধ্যারতি শুরু হয়ে গিয়েছে। ব্রহ্মকুণ্ডের সামনে প্রথমে মাতা গঙ্গার বন্দনা আর তারপর পুরোহিতগণ নদীমাতৃকার উদ্দেশ্যে আরতি করেন, অগণিত ভক্ত সেই মঙ্গলারতি দর্শন করে নিজেদের ধন্য মনে করেন।........
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 13 Jan 2025