রাজমহল: পর্ব-১ (Rajmahal: Part-1)
রাজমহল: পর্ব-১ (Rajmahal: Part-1)
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 28 Jan 2025

মালদার নিকট মানিকচক ঘাট থেকে ভেসেলে গঙ্গা পার হয়ে আমরা পৌঁছলাম রাজমহল ঘাটে, তখন প্রায় ১’টা বাজে। মালদা ভ্রমণের পর এবার আমরা রাজমহল ঘুরব। ঝাড়খন্ড রাজ্যের সাহিবগঞ্জ জেলায় রাজমহল অবস্থিত, যা একদা মাল-পাহাড়িয়া উপজাতির গোষ্ঠী মাল রাজা শাসন করতেন। সকালে হোটেল থেকে প্রাতঃরাশ সেরেই বেরিয়েছিলাম আমরা। ঘাটের কাছেই একটি হোটেলে গরম গরম ভাত, ধোঁয়া ওঠা ডাল, ভাজা, সব্জি সহযোগে মধ্যাহ্নভোজন সারলাম। এবার রাজমহল ঘুরে দেখা। এখান থেকেই সম্রাট আকবরের বাংলা দখল, কালাপাহাড়ের প্রবল পরাক্রম সত্ত্বেও বিফল হওয়া, আবার এই রাজমহলের পাহাড়েই পাহাড়িয়া, মাঝ-পাহাড়িয়াদের বাস, প্রণম্য তিলক মাঝির জন্ম, তাঁর দূরদৃষ্টি – কত ইতিহাস এই স্থানকে ঘিরে। দুপুরের খাওয়া সারতে সারতে একবার অতীতের নগরী রাজমহলের ইতিহাস সংক্ষেপে দেখে নেওয়া যাক, তাহলে ঘুরতে সুবিধা হবে।
হুসেন শাহী বংশের শেষ সুলতান ছিলেন গিয়াসউদ্দিন মাহমুদ শাহ [অনুগ্রহ করে পড়ুন মালদা: পর্ব-২ এবং মালদা: পর্ব-১]। মোঘল সাম্রাজ্যের দ্বিতীয় বাদশাহ হুমায়ুন গৌড় দখল করেছিলেন কিন্তু তা অতি স্বল্প সময়ের জন্যে। হুমায়ুন চৌসার যুদ্ধে শের শাহ সুরি-র নিকট পরাজিত হলে দিল্লী তথা বাংলা শের শাহ সুরি-র অধীনে আসে। এরপর সুরি বংশের অবসান হলে বাংলায় মহম্মদ শাহ বংশ (১৫৫৪-১৫৬৪ খ্রিস্টাব্দ) এবং এর অবসানে কারনানি বংশের (১৫৬৪ -১৫৭৬ খ্রিস্টাব্দ) সূচনা হয়। এই কারনানি বংশের শেষ সুলতান ছিলেন দাউদ খান কারনানি। এই সময় বাংলা জয়ের জন্যে সম্রাট আকবর সেনাপতি মুনিম খানকে প্রেরণ করেন, টুকরোই-এর যুদ্ধে তিনি দাউদ খান-কে পরাজিত করেন এবং তাঁর কাছ থেকে বাংলা, আর বিহার অধিকার করেন। তবে তা বেশিদিন স্থায়ী হলো না। কারণ বাংলার বারো ভূইঁয়াদের অন্যতম ঈশা খান মোঘলদের বাংলা থেকে বিতাড়িত করেন। এদিকে, আকবরের সেনাপতি মুনিম খানের মৃত্যুর পর দাউদ খান পুনরায় বাংলা দখল করতে সচেষ্টা হন।
অবশেষে ১৫৯২ খ্রিস্টাব্দে মুঘল সম্রাট আকবরের সেনাপতি, রাজা মান সিং, ওড়িশা জয়ের পর প্রথম রাজমহলে আসেন এবং ১৫৯৫ খ্রিস্টাব্দে সুবে বাংলার রাজধানী হিসাবে রাজমহল প্রতিষ্ঠা করেন। বাংলার রাজধানী মালদা থেকে রাজমহলে স্থানান্তরিত হলো, এই স্থানান্তর ছিল অনেকটা কৌশলগত, কারণ এটি গঙ্গার তীরে এবং এখান থেকে বিহার ও বাংলা উভয় স্থানেই সহজ পৌঁছনো যায় কারণ এই নগর মধ্যবর্তী অঞ্চলে অবস্থিত। মান সিংয়ের আমলে, রাজমহল একটি সমৃদ্ধ প্রশাসনিক ও সামরিক কেন্দ্র হয়ে ওঠে। অতীতের আগমহল, মুঘল সাম্রাজ্যের ‘দামান-ই-কোহ’ পরিচিত হলো নতুন নামে আকবরনগর। এখানে নির্মিত হয় প্রাসাদ, প্রশাসনিক ভবন, এবং দূর্গ। পরবর্তী মুঘল গভর্নরদের অধীনেও মসজিদ, বাগান এবং দূর্গ নির্মাণের মাধ্যমে শহরের গুরুত্ব অব্যাহত ছিল যা এখনও তার অতীত গৌরবের সাক্ষ্য বহন করে। বাংলার রাজধানী হিসেবে রাজমহলের প্রাধান্য সুবাহদার ইসলাম খান দ্বারা তাঁর শাসনকালের মধ্যে (১৬০৮ থেকে ১৬১৩ খ্রিস্টাব্দ) রাজধানী ঢাকায় স্থানান্তরিত করা পর্যন্ত স্থায়ী ছিল। যদিও তখন রাজমহল একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ফাঁড়ি এবং বাণিজ্য শহর হিসাবে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। ১৬৩৬ খ্রিস্টাব্দে রাজমহল তার হৃত গৌরব পুনরুদ্ধার করে যখন সুবে বাংলার গভর্নর এবং সম্রাট শাহজাহানের দ্বিতীয় পুত্র শাহ সুজা কর্তৃক রাজমহলে বাংলার রাজধানী পুনর্স্থাপিত হয়।
সপ্তদশ শতাব্দীতে, রাজমহল স্থানীয় ক্ষমতার উত্থান, মারাঠা অনুপ্রবেশ এবং মুঘল সাম্রাজ্য এবং নতুন ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির মধ্যে দ্বন্দ্বের সাথে অশান্তি এবং আনুগত্য পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছিলো। অষ্টাদশ শতাব্দীর গোড়ার দিকে, মুর্শিদাবাদ ক্ষমতার কেন্দ্র রূপে গিরে ওঠে, যা মুর্শিদকুলী খানের অধীনে বাংলার নতুন রাজধানী হয়ে ওঠে। ওই শতকের শেষদিকে ব্রিটিশ শাসনের সূচনা পর্বে রাজমহলের তাৎপর্য আরও হ্রাস পায়। বাংলা ও বিহারের অন্যান্য অংশে ব্রিটিশ প্রশাসনিক কেন্দ্র স্থাপনের ফলে শহরটিকে একটি ছোট প্রশাসনিক ইউনিটে পরিণত করা হয়। যাইহোক, এটি একটি ঐতিহাসিক তাৎপর্যের স্থান হিসাবে অব্যাহত ছিল এবং এর সাংস্কৃতিক ও স্থাপত্য ঐতিহ্য ধরে রেখেছে।

মধ্যাহ্নভোজন সারতেই আমাদের গাড়ী এসে উপস্থিত হলো। এবার আমরা এই নগরের ইতিহাসকে প্রতক্ষ্য করবো। প্রথম গন্তব্য সাঙ্গি দালান।

সাঙ্গি দালান বা মার্বেল প্যাভিলিয়ন ঝাড়খণ্ডের রাজমহলের ঐতিহাসিক শহরের মধ্যে অবস্থিত একটি মার্জিত মুঘল যুগের কাঠামো। এই সুন্দর মণ্ডপটি মান সিং কর্তৃক বা মতান্তরে মুঘল সম্রাট শাহজাহানের পুত্র শাহ সুজার, যিনি বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন, সময়ে নির্মিত হয়েছিল বলে মনে করা হয়। সাঙ্গি দালান নির্মাণে প্রতিসাম্য নকশার ব্যবহার করা হয়েছে – মুঘল স্থাপত্যের একটি বৈশিষ্ট্য। মণ্ডপটিতে খিলানযুক্ত একটি বড় কেন্দ্রীয় হল রয়েছে, যাতে পর্যাপ্ত আলো প্রবেশ করতে পারে এবং বায়ুচলাচল করে। এখান থেকে গঙ্গা নদী এবং মনোরম রাজমহল পাহাড়ের একটি অপরূপ দৃশ্য উপভোগ্য। আগে এখান থেকে দাঁড়িয়ে গঙ্গায় শুশুক দেখা যেত বলে শুনেছি, জানি না এখন তাদের দেখা যায় কিনা। কাঠামোটি মুঘল আভিজাতদের জন্য একটি আনন্দ মণ্ডপ বা অভ্যর্থনা হল হিসাবে ব্যবহার করা হতো বলে মনে করা হয়। আবার, সমাবেশ, আলোচনা এবং মনোরম পরিবেশ উপভোগ করার জন্যও ব্যবহৃত হতো বলে মনে করা হয়। মার্জিত নকশা এবং কৌশলগত অবস্থান থেকে বোঝা যায় যে এটি নান্দনিক এবং কার্যকরী উভয় উদ্দেশ্যেই নির্মিত হয়েছিল।
এই প্রাঙ্গনেই রয়েছে অপূর্ব ভাস্কর্যের কয়েকটি নিদর্শন, একটা ছোট উদ্যান। মণ্ডপের মধ্যে দেখলাম ছোট ছোট ছেলেমেয়ের দল শতরঞ্চি বিছিয়ে আঁকছে। অনেক মানুষ উদ্যানটিতে বেড়াতে এসেছেন। ‘ঝাড়ো কে দেশ’ (‘ঝাড়’ শব্দটির অর্থ জঙ্গল, অর্থাৎ জঙ্গলের দেশ) এই ঝাড়খন্ড। অনেক আদিবাসী সম্প্রদায় যথা সাঁওতাল, ওঁরাও, মুন্ডা, সাওরিয়া পাহাড়িয়া, বিরহর, করওয়া, মাহলি, কারমালি ইত্যাদি। জীবনধারণের উদ্দেশ্যে কোনো সম্প্রদায় চাষাবাদ করেন, আবার কোনো সম্প্রদায় কারিগরী শিল্পে নিপুণ। চাষাবাদ আবার প্রধানত দুই ধরণের, যেমন সেটলড কৃষিকাজ আবার কোথাও কোথাও ঝুমচাষ হয়ে থাকে।

ষোড়শ শতাব্দীর শেষদিকে মুঘল আমলে রাজা মান সিং কর্তৃক নির্মিত আকবরী দূর্গটি রাজমহলের অন্যতম উল্লেখযোগ্য নিদর্শন,আমাদের পরবর্তী দ্রষ্টব্য। রাজমহল যখন সুবে (সুবাহ) বাংলার রাজধানী ছিল সেই সময়ে এই দূর্গটি নির্মিত হয়েছিল। বর্তমানে দূর্গের অধিকাংশ ধ্বংসপ্রাপ্ত হলেও এটি আজও অতীত নগরের সাক্ষ্য বহন করে চলেছে এবং এই অঞ্চলের স্থাপত্যের অন্তর্দৃষ্টি প্রদান করে। আকবরী দূর্গের নিকটেই অবস্থিত জামি মসজিদটি রাজমহলের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক স্থাপত্য। রাজা মান সিংয়ের শাসনামলে নির্মিত, মসজিদটি তার গঠন, গম্বুজ এবং মিনারগুলির সাথে চমৎকার মুঘল স্থাপত্যশৈলীকে প্রতিফলিত করে। এটি একটি উপাসনার স্থান এবং একটি মুঘল প্রশাসনিক ও ধর্মীয় কেন্দ্র হিসাবে শহরের প্রাক্তন তাৎপর্যের একটি প্রমাণ হিসাবে রয়ে গেছে।



জামি মসজিদ এবং আকবরী দূর্গ দেখে এবার আমরা চললাম বারাদারি-র উদ্দেশ্যে। রাজমহলের বারাদারি-র অন্যতম প্রধান ঐতিহাসিক আকর্ষণ এবং স্থাপত্যটির উল্লেখযোগ্য স্থাপত্য ও সাংস্কৃতিক মূল্য রয়েছে। “বারাদারি” শব্দটির অর্থ “বারো দরজা” (ফার্সী শব্দ বারাহ থেকে যার অর্থ বারোটি এবং দার মানে দরজা) এবং এটি সাধারণত একটি মণ্ডপ বা ভবনকে বোঝায় যা বারোটি দরজা দিয়ে চারদিকে খোলা থাকে। রাজমহলের বারাদারি মুঘল আমলে নির্মিত হয়েছিল, সম্ভবত সম্রাট শাহজাহানের পুত্র শাহ সুজার শাসনকালে।

শাহ সুজা বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং রাজমহলকে তার বাসভবন হিসেবে ব্যবহার করেন। কাঠামোটি রাজপরিবারের জন্য একটি আনন্দের মণ্ডপ হিসাবে তৈরি করা হয়েছিল এবং এটি অবসর, সমাবেশ এবং সভাকার্যের জন্য একটি স্থান ছিল। এখান থেকে কিছুক্ষনের জন্যে হলেও আশেপাশের এলাকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং গঙ্গা নদীর দৃশ্য উপভোগ করা যেতে পারে।



বারাদারি মুঘল স্থাপত্যের একটি সুন্দর নিদর্শন যার প্রতিসাম্য নকশা এবং মার্জিত খিলান রয়েছে। যদিও কাঠামোটি সম্পূর্ণরূপে সংরক্ষিত নয়, তবে এর অবশিষ্ট উপাদানগুলি সেই সময়ের চমৎকার কারুকার্য প্রদর্শন করে। বারাদারি-র মূল স্থাপত্য বৈশিষ্ট্যের মধ্যে রয়েছে: উন্মুক্ত কাঠামো: বারোটি খিলান বা দরজা দিয়ে বারোটি খিলান সহ বারাদারিটি খোলা নকশা দ্বারা চিহ্নিত করা হয়েছে যা চারপাশের একটি অবাধ দৃশ্য প্রদান করে। কেন্দ্রীয় হল: প্যাভিলিয়নের কেন্দ্রীয় হল সম্ভবত সামাজিক জমায়েত বা অফিসিয়াল মিটিং-এর জন্য ব্যবহার করা হত। আলংকারিক উপাদান: এমনকি বর্তমান জীর্ণ অবস্থায়ও, খিলান ও স্তম্ভগুলি মুঘল স্থাপত্যের শৈল্পিক সূক্ষ্মতাকে প্রতিফলিত করে।
এরপর কানহাইয়াস্থান মন্দির দর্শন করে আমরা গিয়েছিলাম মতি ঝর্ণা দেখতে।

তখন সূর্য পশ্চিমে ঢলে পড়েছে। দেখলাম সেই স্থানে কয়েকটি দোকান রয়েছে, সেখান থেকে বিকেলের চা, কেক ইত্যাদি খেয়ে আমরা ফিরলাম সাহিবগঞ্জে হোটেলে। একটু ফ্রেশ হয়ে আমরা বেরোলাম রাতের খাওদাওয়ার উদ্দেশ্যে। এখানে লোডশেডিংয়ের কারণে রাস্তাঘাট বেশ অন্ধকার। যাইহোক, অনতিদূরে একটি রেস্তোরাঁতে আমরা রাতের আহার সারলাম। খাওয়াদাওয়া সেরে হোটেলে ফিরে আজকের মতন বিশ্রাম।
Travel & Travelogue Blogs
Our Latest Travel & Travelogue Blogs
দীর্ঘদিন অনবরত কাজ করে বেশ হাঁফিয়ে উঠেছিলাম, অনেক দিন পর রাখী বা রক্ষাবন্ধনের ছুটি পাওয়া গেলো, পরদিন আবার রবিবার, কাজেই পরপর দু'দিন কর্মবিরতি, ঠিক করলাম জব্বলপুর থেকে ঘুরে আসবো।.....
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 22 September 2025
বন্ধুদের সাথে ঠিক করলাম, সম্মেলনের শেষ দিনে শেষ হওয়ার পর আমাদের হাতে কয়েক ঘন্টা সময় থাকবে, সেই সময় আমরা একটু ঘুরে দেখবো শহরটা। তবে একদিন একটু পর্যন্ত দুপুরে ঘুরে এলাম চাঙ্গি এয়ারপোর্ট। এই বিমানবন্দরটির মধ্যে রয়েছে একটি ট্রপিকাল ফরেস্টের ছোট সংস্করণ, যা অবশ্যই একটি মনোমুগ্ধকর দ্রষ্টব্য।...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 4 Feb 2025
পূর্বে একাধিকবার উল্লেখ করেছি আমার ভ্রমণ অধিকাংশ সময়েই কর্মসূত্রে। এর একটা অসুবিধা হলো, ওই স্থানের অনেক দ্রষ্টব্য আমার সময়ের সংক্ষিপ্ততায় দেখা হয়ে ওঠেনা, আবার সুবিধা হলো, এমন কিছু দ্রষ্টব্য, বিশেষত ওই স্থান সম্পর্কিত এমন কিছু তথ্য (যা সম্পর্কে আমার আগ্রহ রয়েছে) জানা যায় বা আমার দেখা হয় যা হয়তো কেবলমাত্র পর্যটক হয়ে এলে দেখা হয়ে উঠতো না। গতবৎসর জুন মাসে একটি বিজ্ঞান সম্মেলনে যোগদান করতে গিয়েছিলাম সিঙ্গাপুরে, আর এই ভ্রমণ কাহিনীটি সেই বিষয়ে।...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 3 Feb 2025
ঘুম ভাঙলো প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজের শব্দে। বাইরে তখন খুবই কুয়াশা, হোটেলের ঘরের কাঁচের জানলা বাষ্পে পূর্ণ, কিছুই দৃষ্টিগোচর হচ্ছে না, অবশেষে জানলা খুলে কুচকাওয়াজ দেখছিলাম। তারপর প্রস্তুত হয়ে আমরা আমরা বেরোলাম স্থানীয় বিভিন্ন দ্রষ্টব্যস্থান গুলির উদ্দেশ্যে। গতকাল ছিল ঐতিহাসিক ভ্রমণ, আর আজ আমরা সাক্ষী থাকবো প্রাগৈতিহাসিক কালের কিছু নিদর্শনের। ...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 28 Jan 2025
মালদার নিকট মানিকচক ঘাট থেকে ভেসেলে গঙ্গা পার হয়ে আমরা পৌঁছলাম রাজমহল ঘাটে, তখন প্রায় ১'টা বাজে। মালদা ভ্রমণের পর এবার আমরা রাজমহল ঘুরব। ঝাড়খন্ড রাজ্যের সাহিবগঞ্জ জেলায় রাজমহল অবস্থিত, যা একদা মাল-পাহাড়িয়া উপজাতির গোষ্ঠী মাল রাজা শাসন করতেন। সকালে হোটেল থেকে প্রাতঃরাশ সেরেই বেরিয়েছিলাম আমরা।...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 28 Jan 2025
হাবশী বংশের পরে বাংলার শাসনভার ন্যস্ত হয় হুসেন শাহী বংশের (১৪৯৪ থেকে ১৫৩৮ খ্রিস্টাব্দ) উপর। আলাউদ্দিন হুসেন শাহ ছিলেন এই বংশের প্রতিষ্ঠাতা। বড়ো সোনা মসজিদ বা বারদুয়ারী মসজিদের নির্মাণ কার্য আলাউদ্দিন হুসেন শাহের সময়কালে আরম্ভ হলেও নির্মাণকার্যটি শেষ হয় নাসিরুদ্দিন নসরৎ শাহের আমলে।...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 28 Jan 2025
গতকাল রেডিওতে গল্প শুনতে শুনতে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। ঘুম ভাঙলো বেশ ভোরে। হোটেলে প্রাতঃরাশ সকাল ৮ টা থেকে ১০ টা পর্যন্ত। আমরা পৌনে ন'টার মধ্যে প্রাতঃরাশ সেরে ন'টা নাগাদ বেরিয়ে পড়লাম। গতকালই আমি অটো-র জন্যে বলে রেখেছিলাম। সঠিক সময়ে আমাদের অটো চালক দাদা এসে গিয়েছিলেন। বর্তমানে মালদা শহরের দক্ষিণে গৌড় এবং উত্তরে রয়েছে পাণ্ডুয়া।...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 28 Jan 2025
সকাল ন'টায় কলকাতা স্টেশন থেকে রওনা হয়ে ১২৩৬৩ কলকাতা-হলদিবাড়ি সুপারফাস্ট সঠিক সময় বিকাল ৩টে-তে মালদা টাউন পৌঁছলো। আর আমরা এসে পৌঁছলাম অতীতের মহানগর গৌড়ে।...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 28 Jan 2025
আজ একটু বেলা করেই উঠলো সবাই। গত কয়েকদিন ধরে বেশ ভোর ভোরই উঠতে হচ্ছিলো সকলকে, আজ একটু বেশিক্ষন বিছানায় কাটানো যাচ্ছে, বেশ লাগছে। গতকাল একটি ফটো আমরা গাড়িতে ফেলে এসেছিলাম, তাই রুডিকে ফোন করে অনুরোধ করলাম সে যেন গতকালের গাড়িটিই আমাদের জন্যে আজকে পাঠায়, সেটিতেই আমরা যাবো পাটায়া।...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 25 Jan 2025
আজ আমাদের ব্যাঙ্কক ঘোরার প্রথম দিন। প্রথমে আমরা যাবো ম্যাকলং রেলস্টেশনে (Maeklong Station)। রেললাইনের দু'পাশে পসরা সাজিয়ে বাজার বসেছে। ট্রেনটি যখন আসে দোকানগুলির উপর থেকে চাঁদোয়াগুলি সরিয়ে নেওয়া হয়, সংকীর্ণ লাইনটি বেয়ে রেলগাড়িটি স্টেশনে আসে।...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 25 Jan 2025
আজও ঘুম ভাঙলো ভোর ৫ টায়। আসলে থাইল্যান্ড সময় দক্ষিণ কোরিয়ার সময়ের থেকে ২ ঘন্টা পিছিয়ে, আমার বায়োলজিক্যাল ক্লক অনুসারে আমি বাড়িতে সকাল ৭ টায় উঠি, কাজেই এখানে তাড়াতাড়ি আমার ঘুম ভেঙে যাচ্ছে। ...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 25 Jan 2025
আজ খুব ভোরে, প্রায় ৫ টা নাগাদ, ঘুম ভেঙে গিয়েছিলো। বাইরে তখনও অন্ধকার, বারান্দায় এসে বসলাম, একটু পরে আলো ফুটবে। বেশ ভালো লাগে ভোর হওয়া দেখতে। ৬টা নাগাদ সবাইকে ডেকে দিলাম, প্রাত্যহিক কাজ সেরে ফ্রেশ হয়ে চা-বিস্কুট খেয়ে আমরা অপেক্ষা করছিলাম। সাড়ে সাতটায় গাড়ি এলো আমাদের নিয়ে যেতে। আজ আমরা অনেকগুলি দ্বীপ ঘুরে দেখবো, সমুদ্র যাত্রা, সমুদ্রস্নান সবই হবে, কাজেই বাড়ি থেকে স্নান সেরে নেওয়ার প্রয়োজন ছিল না।...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 25 Jan 2025
অন্তর্দেশীয় বহির্গমন বিমানবন্দরের তিনতলায় অবস্থিত। পূর্বেই বলেছি এবার আমাদের যাত্রা ফুকেটের উদ্দেশ্যে। বিমানবন্দরে নির্দিষ্ট বিমানের কাউন্টার থেকে বোর্ডিং পাস সংগ্রহ করে, নিরাপত্তা পরীক্ষার পর যখন নির্দিষ্ট দ্বারের সামনে এসে পৌঁছলাম তখন হাতে বেশ কিছুটা সময় ছিল। মা বাবা'রা কলকাতা থেকে অনেক মিষ্টি নিয়ে এসেছিলেন, কয়েকটির সদ্গতি করে বিমানে চড়লাম।...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 25 Jan 2025
প্রায় দীর্ঘ সাড়ে তিন বৎসর পর কয়েকদিনের ছুটিতে সপরিবারে গিয়েছিলাম থাইল্যান্ড। আগামী কয়েকটি পর্বে আমি আমাদের এই ভ্রমণ কাহিনীটি বিস্তারিত লিখব। ...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 25 Jan 2025
উহান আজ বিশ্ববাসীর কাছে খুব পরিচিত নাম। কোভিড-১৯ এই শহরেই প্রথম সংক্রামিত হয়েছিল। আমার এই শহরের সাথে পরিচয় তার কিছু পূর্বে, ২০১৮ খ্রিস্টাব্দের মাঝামাঝি সময়ে। একটি বিজ্ঞান সম্মেলনে যোগদান করতে ওই বছর মে মাসে আমি উহান শহরে যাই।...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 23 Jan 2025
২০১৭ সালের অক্টোবর মাসে গিয়েছিলাম তাজপুর-শঙ্করপুর-দীঘা বেড়াতে। তাজপুর বেড়ানোর অভিজ্ঞতা সম্বন্ধে একটি ব্লগ আমি পূর্বে লিখেছি। আজকের ব্লগে আমি শঙ্করপুর বেড়ানোর অভিজ্ঞতা লিখবো। ...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 20 Jan 2025
বৈচিত্র্যময় ভারতবর্ষের মৃত্তিকার প্রতিটি কণায় কান পাতলে শোনা যায় তার ইতিহাস, লোকসংস্কৃতি, আর দর্শন। এই বৈচিত্র্যময়তার সাথে একাত্মতা অনুভব করেই আমরা সেইস্থানের মাহাত্ম্য অনুধাবন করি।...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 20 Jan 2025
আমি যে খুব ট্রেকিং প্রিয় মানুষ তা নয়, তবে বিগত কয়েক বৎসর ধরে, মানে আমার দক্ষিণ কোরিয়ায় বসবাসের সময়কালের মধ্যে, বৎসরান্তে একবার গবেষণাগারের সকলের সাথে আমি কোনো না কোনো পর্বতে হাইকিং করতে যাই। করোনা মহামারীর পূর্বে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাসে গিয়েছিলাম সোবেকসানে (সোবেক পর্বতে, কোরিয়ান 'সান' শব্দটির অর্থ পর্বত), আবার ২০২২ সালের ডিসেম্বর মাসেও আমরা গিয়েছিলাম ওই পর্বতে।...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 20 Jan 2025
এ ভ্রমণ বৃত্তান্ত আমার ছোটবেলার, আমি তখন পঞ্চম শ্রেণীতে পড়ি। বাবার এক বন্ধুর পরিবারের সাথে আমরা গিয়েছিলাম রাজগীর। বাবাকে কখনওই বেড়ানোর দীর্ঘ পরিকল্পনা করতে দেখিনি, হঠাৎ করেই ঠিক করে ফেলতেন, কখনও টিকিট কেটে এনে বাড়িতে এসে আমাদের নিয়ে রওনা হতেন।...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 20 Jan 2025
মহানগরী মুম্বই, ছত্রপতি শিবাজী মহারাজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যখন এসে পৌঁছলাম দুপুর প্রায় গড়িয়ে গেছে। এবার সোজা হোটেল। সাকিনাকা-তে আমাদের হোটেল, বিমানবন্দর থেকে বেশি দূরে নয়। আমাদের ফেরার ফ্লাইট সকালে, তাই এই জায়গাটা বেশ সুবিধার হলো আমাদের জন্যে। মুম্বই শহরে দীর্ঘদিন আমি কাটিয়েছি, কলেজের পাঠ শেষ করে কর্মসূত্রে এ শহরে আমি এসেছিলাম।...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 20 Jan 2025
পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় বঙ্গোপসাগর উপকূলে অবস্থিত তাজপুর পশ্চিমবঙ্গের সৈকত পর্যটনের তুলনামূলক নতুন সংযোজন। দ্বাদশ পরিকল্পনা অনুসারে পশ্চিমবঙ্গের অন্তর্গত যে চারটি পর্যটন বর্তনী (Circuit) শনাক্তকরণ করা হয়েছিল তার মধ্যে প্রথমটি সৈকত কেন্দ্রিক (দীঘা -শঙ্করপুর - তাজপুর - জুনপুট - মন্দারমনি) আর আমাদের গন্তব্য তাজপুর, জেলে বসতির উপর আধারিত এই পর্যটন কেন্দ্র।...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 20 Jan 2025
সিরাজের মৃত্যুতে অবসান হল আফসার বংশের, ভারতবর্ষের ভাগ্যাকাশে নেমে এলো সূর্যাস্ত। শুরু হল মীর জাফর বংশ, ইতিহাসে যা নাজাফী বংশ বলে পরিচিত। ২৪ শে জুন ১৭৫৭ খ্রিষ্টাব্দে যখন পলাশির যুদ্ধ শেষ হয় আর ২৯শে জুন মীর জাফর মুর্শিদাবাদের সিংহাসনে বসেন, রবার্ট ক্লাইভ যথার্থই বলেছিলেন এই জয় তাঁর নয় বরং এই জয় মীর জাফরের।...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 20 Jan 2025
পড়ন্ত বেলাতেই এসে উপস্থিত হলাম অতীতের মহানগরী ‘মুক্সুবাদ’-এ। নগরীর বাঁ দিক দিয়ে বয়ে চলেছে ভাগীরথী নদী, এই নগরের উত্থান তাকে ঘিরেই। নদীপথে ব্যবসা বাণিজ্যের সুবিধা হেতুই মোঘল সম্রাট ঔরঙ্গজেব নিযুক্ত তৎকালীন বাঙলা, বিহার আর উড়িষ্যার সুবেদার (পরবর্তীকালে ‘নবাব নাজিম’) মুর্শিদকুলী খাঁ ঢাকা থেকে ভাগীরথীর উপকণ্ঠে মুক্সুবাদে রাজধানী স্থানান্তরিত করেন, তাঁর নামানুসারে নগরের নাম পরিবর্তিত হয়ে হল মুর্শিদাবাদ, সূচনা হল ভারতবর্ষের এক নতুন ইতিহাসের।...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 20 Jan 2025
সকাল ১০ টা ১০ র শান্তিনিকেতন এক্সপ্রেস হাওড়া ছেড়ে যখন শান্তিনিকেতন পৌঁছালো তখন বেলা প্রায় সাড়ে বারোটা। বাইরে বেরিয়ে টোটো ধরে হোটেল পান্থনিবাসে পৌঁছলাম প্রায় দেড়টা নাগাদ।...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 20 Jan 2025
সময়ের অপ্রতুলতা জীবনধারণের সবক্ষেত্রে উপলব্ধি করলেও, বোধহয় সর্বাধিক প্রকট হয়ে ওঠে দৈনন্দিন ব্যস্ত জীবনের মধ্যে ভ্রমণের সময় অনুসন্ধানে। পাঁচমাড়ি ভ্রমণের সময়েও এর ব্যতিক্রম হয়নি।...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 13 Jan 2025
আনদং বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইয়ংদেওক বা ইয়ংদক (Yeongdeok, South Korea) সমুদ্র সৈকতের দূরত্ব ৫৫-৬০ কিলোমিটারের মতন, সময় লাগে ঘন্টা খানেক। অপূর্ব সুন্দর সৈকতের পাশাপাশি ইয়ংদক বিখ্যাত তার মৎস বন্দর আর বিশেষত কাঁকড়ার জন্যে। ...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 13 Jan 2025
যখন হরিদ্বার পৌঁছলাম ‘হর কি পাউরি’ ঘাটে সন্ধ্যারতি শুরু হয়ে গিয়েছে। ব্রহ্মকুণ্ডের সামনে প্রথমে মাতা গঙ্গার বন্দনা আর তারপর পুরোহিতগণ নদীমাতৃকার উদ্দেশ্যে আরতি করেন, অগণিত ভক্ত সেই মঙ্গলারতি দর্শন করে নিজেদের ধন্য মনে করেন।........
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 13 Jan 2025