জব্বলপুর ভ্রমণ (Jabalpur Travel)
জব্বলপুর ভ্রমণ (Jabalpur Travel)
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 22 September 2025
দীর্ঘদিন অনবরত কর্মব্যস্ততার কারণে বেশ হাঁফিয়ে উঠেছিলাম, অনেক দিন পর রাখী বা রক্ষাবন্ধনের ছুটি পাওয়া গেলো, পরদিন আবার রবিবার, কাজেই পরপর দু’দিন ছুটি, ঠিক করলাম জব্বলপুর থেকে ঘুরে আসবো। নর্মদা নদীর তীরে গড়ে ওঠা এই শহরটির বিষয়ে অনেক শুনেছি, কিন্তু কখনোই যাওয়া হয়ে ওঠেনি, এই ছোট্ট ছুটিটিতে ওই শহরটা দেখে আসবো। আমার বর্তমান কর্মস্থল বালাঘাট থেকে সড়কপথে জব্বলপুরের দূরত্ব প্রায় ২৬৫ কিলোমিটার। ভোর ভোর রওনা দেবো- এমন ইচ্ছে ছিল কিন্তু যথারীতি তা বিলম্ব হলো, সময়ের খেলাপ আমার জন্য বেশ বিরক্তিকর কিন্তু তা ক্রমে মানিয়ে নিতে হবে- বেশ বুঝতে পারছি। যখন গাড়ি এসে হাজির হলো তখন সকাল ৬ টা, আমরা রওনা হলাম। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিকট আমার বাসস্থান থেকে গররা হয়ে লালবররা রোড ধরে গাড়ি সোজা এগিয়ে চললো। দু’পাশে কখনও চাষের ক্ষেত, মাঝে মাঝে এক আধটা গ্রাম, রাস্তার দু’পাশে সারি দিয়ে বড় বড় গাছ অতন্দ্র প্রহরীর ন্যায় দাঁড়িয়ে আছে – সকালের সোনালী রোদ যেন চতুর্দিক প্লাবিত করে দিয়েছে – আমার মন থেকে ভোরের রওনার বিলম্বের জন্যে যে বিরক্তির উদ্রেক হয়েছিল তা মুহূর্তে প্রশমিত হয়ে গেলো। লালবররায় একটা ছোট্ট বিরতি চায়ের। এখানে মনোহর চা খুব জনপ্রিয় হয়েছে, আমরাও তার একটা স্টলে দাঁড়ালাম, গরম গরম এক কাপ চা সত্যি যে কতটা অনবদ্য- তার বর্ণনা দেওয়া ভারতবাসীর কাছে নিষ্প্রয়োজন। আমাদের ছয় ঋতুতে চা, সকালে-দুপুরে-সন্ধ্যায় চা, কাজের চাপে চা, অবসরে চা, কঠিন আলোচনায় চা, আবার হালকা আড্ডায় চা – চা আমাদের সাথী। কয়েক মাস পূর্বে আমার সকাল শুরু হতো কফি দিয়ে, কিন্তু দেশে ফেরা ইস্তক এখনও সে বন্দোবস্ত আমি করে উঠতে পারিনি, তবে চা মোটেই আমার খারাপ লাগে না। যাইহোক, চায়ের বিরতির পর আবার যাত্রা শুরু হলো। এখানে প্রকৃতির রূপ এখন হরিৎ- গ্রীষ্মমণ্ডলীয় শুষ্ক পর্ণমোচী, মিশ্র এবং শালের জঙ্গল। যে সালের জঙ্গলের কথা বিভূতিভূষণ বাবুর ‘আরণ্যক’ উপন্যাসে পড়ে কল্পনা করতাম, সেই শালের জঙ্গল (অবশ্যই ভিন্ন স্থানে) এখন আমার চতুর্দিকে বিরাজমান। আমরা সিওনিতে কাছারি মোড়ের নিকট একটি স্থানীয় জনপ্রিয় রেস্তোরাতে ইডলি সহযোগে প্রাতঃরাশ সারলাম, এখানে সিঙ্গারা (সামোসা) খুব বিখ্যাত, তবে সেইদিন তা ছিল না। আমাদের প্রথম দ্রষ্টব্য ভীমগড় বাঁধ, ছাপারা থেকে ডানহাতে সোজা গেলে বেঈনগঙ্গা নদীর উপর বাঁধ দিয়ে এই বিশাল জলাশয় সৃষ্টি হয়েছে। এ রাস্তার মেরামত প্রয়োজন। রাস্তার দু’পাশে সেগুনগাছ, গাছে গাছে ফুলের সারি, অনেকটা আম্রমুকুলের মতন লাগে।

আমি চেরিব্লসম জীবনে অনেক বার দেখেছি, চেরিব্লসমের সময়ে অসংখ্য পর্যটক সেই সৌন্দর্য্য উপভোগের জন্যে কোরিয়া বা জাপান ভ্রমণ করেন। আমার মনে হয় ভরা বর্ষায় এই অঞ্চলে সেগুনের গাছে গাছে ফুল প্রস্ফুটিত হয়ে যে দৃশ্য-র অবতারণা হয় তা অবশ্যই মনোমুগ্ধকর তো বটেই, এবং পর্যটকদের জন্যে হাতছানিও হতে পারে। ভীমগড় বাঁধের দু’প্রান্তের প্রবেশপথের দরজা বন্ধ ছিল। কিছুক্ষন অপেক্ষার পর একজন কর্মী এসে অমাদের জানালেন বাঁধের অপর প্রান্তের দরজাটি আজ বন্ধ থাকার কারণে, এই প্রান্তের দরজাটি উনি খুলে দিলেও আমরা বাঁধের ওপর প্রবেশ করতে পারবো না। তবে তাতে আমাদের কোনো আক্ষেপ নেই, পায়ে হেঁটেই বাঁধের উপর থেকেই সেই বিশাল জলরাশি আমরা দেখেছিলাম। সামনে একটি আতা গাছ ছিল, ছোট্ট ছোট্ট আতা হয়ে রয়েছে, এখনো পাকেনি।

বেশ কিছুক্ষন সেখানে কাটিয়ে আমরা চললাম বার্গী বাঁধের উদ্দেশ্যে। নর্মদা নদীর উপর এই বাঁধ।

বাঁধ দেখে খামারিয়া, সোহার, সাররাই গ্রাম পার হয়ে আমরা উপস্থিত হলাম রানী দুর্গাবতীর সমাধিস্থলে। ভারতের ইতিহাসের এ এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়।

১৫৪২ খ্রিস্টাব্দে অষ্টাদশ বর্ষীয়া দুর্গাবতী গারহা রাজত্বের রাজা সংগ্রাম সিংহের জেষ্ঠ্যপুত্র রাজা দলপত সিংহের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হলেন, এই বিবাহ গারহা-মান্ডলা এবং মাহোবার চান্দেল সাম্রাজ্যকে একত্রিত করল। রাজা দলপত সিংহ ১৫৫০ খ্রিস্টাব্দে যখন মারা যান, তখন তাঁদের সন্তান যুবরাজ বীর নারায়ণের বয়স মাত্রই ৫ বৎসর, রানী দুর্গাবতী সমগ্র গন্ডোয়ানা সাম্রাজ্যের উত্তর দায়িত্ব নিজহস্তে তুলে নিলেন। ১৫৬২ খ্রিস্টাব্দ, তৎকালীন মালয়া শাসনকর্তা বাজ বাহাদুরকে পরাজিত করে সমগ্র অঞ্চল দখল করলেন মুঘল সম্রাট আকবর। মুঘল জেনারেল আসাফ খান রেওয়ার রাজা রামচন্দ্র সিংহ কে পরাজিত করলো, মুঘল আক্রমণ শুরু হলো গন্ডোয়ানা সাম্রাজ্যে। রানী দুর্গাবতী স্থির করলেন মুঘলদের প্রতিহত করতে হবে, এক অসম লড়াই চললো- একদিকে দেশমাতৃকাকে বিদেশী শক্তির হাত থেকে রক্ষা করার আপ্রাণ প্রচেষ্টা, অপরদিকে সাম্রাজ্য প্রসারিত করবার উদ্দেশ্যে এক প্রশিক্ষিত উন্নত সমরাস্ত্রে সজ্জিত উন্মত্ত সৈন্য বাহিনীর রণকৌশল – বাহ্যিক পরিণতিতে ১৫৬৪ খ্রিস্টাব্দের ২৪শে জুন রানীর বলিদান আর মুঘলদের সাম্রাজ্যের সম্প্রসারণ বটে, তবে মানুষের অন্তঃস্থলে রানী দেবীতে উন্নীত হলেন। মাতৃভূমির প্রতি তাঁর প্রেমের, নিজ দায়িত্ববোধের নির্ঘোষের নিকট সহস্রাধিক মুঘল সেনার হাজারো অস্ত্রের ঝন্ঝনানি শব্দহীন, বীরঙ্গনার তেজের কাছে হাজারো অস্ত্রের ঝলকানি নিস্তেজ হয়ে পড়ে।

সমাধিক্ষেত্রটিতে কিছুটা সময় কাটিয়ে রাস্তার ঠিক অপর দিকে শালের জঙ্গলের মধ্যে অবস্থিত বড় দেও- এর স্থান দর্শন করলাম। এস্থানে একটি জলাশয় রয়েছে, রয়েছে রাজা বীর নারায়ণের একটি মূর্তি।

আজ আদিবাসী দিবস, পথে একাধিক স্থানে বিভিন্ন আদিবাসী সমাজের পদযাত্রা চোখে পড়লো। অনেক গোন্ড জাতির মানুষ এই মন্দিরে এসেছেন ভগবানের পুজোর উদ্দেশ্যে।

এবার আমাদের গন্তব্য ভেরাঘাট। ভেরাঘাট পৌঁছনো মাত্রই শুরু হলো প্রবল বর্ষণ। মধ্যাহ্ন ভোজন সেরে নেওয়াটাই ভালো, ততক্ষনে হয়তো বৃষ্টিটা একটু ধরবে, এই ভেবে আমরা একটি রেস্তোরাঁতে ঢুকলাম। আহার সারা হলো, তখনও বৃষ্টি বন্ধ হয়নি, তবে তার ধারা হ্রাস পেয়েছে। ছাতা মাথায় যখন মাতা নর্মদার কিনারে পৌঁছলাম, বৃষ্টির অঝোর ধারায় তখন আমরা সিক্ত, নদীর অবিরাম গর্জনে কোনো কথা শোনা যায়না। কেবল কারে (Cable car) চড়ে উপর থেকে যে দৃশ্য প্রতক্ষ্য করলাম- যতটা নৈস্বর্গিক তা ছিল, ততটাই ভয়াবহতা তাতে ছিল- আমৃত্যু স্মরণে থাকবে।


একটি হোমস্টে তে আমি কথা বলে রেখেছিলাম, সেখানে গিয়ে যখন উঠলাম, তখন বিকেল, আর একটু পরেই সবুজ পশ্চিমে ঢলে পড়বে। নৈশ আহার আমরা করেছিলাম ইন্ডিয়ান কফি হাউসে, অসাধারণ তাঁদের রান্না। এবার আজকের মতন বিশ্রাম।
পরদিন,
ঘুম ভাঙলো বেশ ভোরে। হোমস্টে-র নিকটেই রয়েছে একটি ঝিল, এই শহরে অনেক ঝিল রয়েছে, তা চোখে পড়েছিল, এটা প্রশংসনীয়। অনেক মানুষ এখানে প্রাতঃভ্রমণ করছেন। আমরা প্রাতঃরাশ সারার উদ্দেশ্যে আবার এলাম ইন্ডিয়ান কফি হাউস। অনেক দিন বাদে ছোলে-ভাটুরে সহযোগে প্রাতঃরাশ, সাথে চিকেন স্যান্ডউইচও ছিল। স্নান সেরে আমরা প্রায় ১০টা নাগাদ বেরিয়ে পড়লাম। আজ প্রথম দ্রষ্টব্য রানী দুর্গাবতী সংগ্রহালয়। এই অঞ্চলে এবং পার্শবর্তী সংলগ্ন অঞ্চল থেকে খননকার্যের ফলে প্রাপ্ত খ্রিষ্টীয় দ্বাদশ শতকের বিভিন্ন মূর্তি, স্থাপত্য ইত্যাদি রয়েছে এই সংগ্রহশালায়। এক এক করে সকল গ্যালারী আমরা ঘুরেছিলাম- নারায়ণ, শিব, বুদ্ধ, জৈন, বিভিন্ন দেবমূর্তি, ভারতের বিভিন্ন সময়কালের বা রাজত্বের ব্যবহৃত কয়েন, আদিবাসী সমাজের নিদর্শনগুলো- সকল ঐতিহাসিক উপাদান সযত্নে রক্ষিত হয়েছে এখানে।

এবার আমাদের দ্রষ্টব্য মদন মহল কেল্লা। পাহাড়ের পাদদেশ থেকে প্রায় ২০৫ টি সিঁড়ি পেরিয়ে তবে পৌঁছনো যায় কেল্লাটির প্রাঙ্গণে, পথে দর্শন করে নেওয়া যায় মাতার মন্দির।

কেল্লাটি অতি প্রাচীন। ১১১৬ খ্রিস্টাব্দে গোন্ড রাজা মদন শাহ পাহাড়ের উপরে এই কেল্লাটি নির্মাণ করেন, তাঁর নামানুসারেই কেল্লাটির নাম হয় মদন মহল কেল্লা।

একেবারে পাহাড়ের উপরিদেশে হওয়ার কারণে এখন থেকে অনেক দূর স্পষ্ট দেখা যায়, কাজেই শত্রুর আক্রমণের উপর নজর রাখা যায় সহজেই। মূলত এই কারণেই কেল্লাটি এখানে নির্মাণ করা হয়েছিল। যদিও পরবর্তীকালে পঞ্চদশ শতাব্দীতে রাজা মদন সিংহ এটিকে অবসর যাপনের জন্যে ব্যবহার করে থাকেন। আগামী সপ্তাহে স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে এখানে আলোকসজ্জার ব্যবস্থা হচ্ছে। কেল্লার একেবারে উপরিভাগ অর্থাৎ ছাদ থেকে জব্বলপুর শহর দেখা যায়, বেশ সুন্দর লাগে, তবে কেল্লার অভ্যন্তরে ছবি তোলা নিষেধ বলে জানালেন কেল্লায় কর্মরত এক ব্যক্তি।


এবার ঘরে ফেরার পালা, অনেক কিছু নিশ্চয় বাকি রয়ে গেলো, সে সব হয়তো দেখবো ভবিষ্যতে কখনো এ শহরে আবার এলে। শহরের বাইরে রাস্তার ধারে একটি ধাবা থেকে মধ্যাহ্নভোজন সেরে, কিছুটা গোলাপজামুন সাথে নিয়ে যখন ফিরলাম তখন প্রায় শেষ বিকেল।
আগস্ট ২০২৫
Travel & Travelogue Blogs
Our Latest Travel & Travelogue Blogs
দীর্ঘদিন অনবরত কাজ করে বেশ হাঁফিয়ে উঠেছিলাম, অনেক দিন পর রাখী বা রক্ষাবন্ধনের ছুটি পাওয়া গেলো, পরদিন আবার রবিবার, কাজেই পরপর দু'দিন কর্মবিরতি, ঠিক করলাম জব্বলপুর থেকে ঘুরে আসবো।.....
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 22 September 2025
বন্ধুদের সাথে ঠিক করলাম, সম্মেলনের শেষ দিনে শেষ হওয়ার পর আমাদের হাতে কয়েক ঘন্টা সময় থাকবে, সেই সময় আমরা একটু ঘুরে দেখবো শহরটা। তবে একদিন একটু পর্যন্ত দুপুরে ঘুরে এলাম চাঙ্গি এয়ারপোর্ট। এই বিমানবন্দরটির মধ্যে রয়েছে একটি ট্রপিকাল ফরেস্টের ছোট সংস্করণ, যা অবশ্যই একটি মনোমুগ্ধকর দ্রষ্টব্য।...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 4 Feb 2025
পূর্বে একাধিকবার উল্লেখ করেছি আমার ভ্রমণ অধিকাংশ সময়েই কর্মসূত্রে। এর একটা অসুবিধা হলো, ওই স্থানের অনেক দ্রষ্টব্য আমার সময়ের সংক্ষিপ্ততায় দেখা হয়ে ওঠেনা, আবার সুবিধা হলো, এমন কিছু দ্রষ্টব্য, বিশেষত ওই স্থান সম্পর্কিত এমন কিছু তথ্য (যা সম্পর্কে আমার আগ্রহ রয়েছে) জানা যায় বা আমার দেখা হয় যা হয়তো কেবলমাত্র পর্যটক হয়ে এলে দেখা হয়ে উঠতো না। গতবৎসর জুন মাসে একটি বিজ্ঞান সম্মেলনে যোগদান করতে গিয়েছিলাম সিঙ্গাপুরে, আর এই ভ্রমণ কাহিনীটি সেই বিষয়ে।...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 3 Feb 2025
ঘুম ভাঙলো প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজের শব্দে। বাইরে তখন খুবই কুয়াশা, হোটেলের ঘরের কাঁচের জানলা বাষ্পে পূর্ণ, কিছুই দৃষ্টিগোচর হচ্ছে না, অবশেষে জানলা খুলে কুচকাওয়াজ দেখছিলাম। তারপর প্রস্তুত হয়ে আমরা আমরা বেরোলাম স্থানীয় বিভিন্ন দ্রষ্টব্যস্থান গুলির উদ্দেশ্যে। গতকাল ছিল ঐতিহাসিক ভ্রমণ, আর আজ আমরা সাক্ষী থাকবো প্রাগৈতিহাসিক কালের কিছু নিদর্শনের। ...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 28 Jan 2025
মালদার নিকট মানিকচক ঘাট থেকে ভেসেলে গঙ্গা পার হয়ে আমরা পৌঁছলাম রাজমহল ঘাটে, তখন প্রায় ১'টা বাজে। মালদা ভ্রমণের পর এবার আমরা রাজমহল ঘুরব। ঝাড়খন্ড রাজ্যের সাহিবগঞ্জ জেলায় রাজমহল অবস্থিত, যা একদা মাল-পাহাড়িয়া উপজাতির গোষ্ঠী মাল রাজা শাসন করতেন। সকালে হোটেল থেকে প্রাতঃরাশ সেরেই বেরিয়েছিলাম আমরা।...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 28 Jan 2025
হাবশী বংশের পরে বাংলার শাসনভার ন্যস্ত হয় হুসেন শাহী বংশের (১৪৯৪ থেকে ১৫৩৮ খ্রিস্টাব্দ) উপর। আলাউদ্দিন হুসেন শাহ ছিলেন এই বংশের প্রতিষ্ঠাতা। বড়ো সোনা মসজিদ বা বারদুয়ারী মসজিদের নির্মাণ কার্য আলাউদ্দিন হুসেন শাহের সময়কালে আরম্ভ হলেও নির্মাণকার্যটি শেষ হয় নাসিরুদ্দিন নসরৎ শাহের আমলে।...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 28 Jan 2025
গতকাল রেডিওতে গল্প শুনতে শুনতে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। ঘুম ভাঙলো বেশ ভোরে। হোটেলে প্রাতঃরাশ সকাল ৮ টা থেকে ১০ টা পর্যন্ত। আমরা পৌনে ন'টার মধ্যে প্রাতঃরাশ সেরে ন'টা নাগাদ বেরিয়ে পড়লাম। গতকালই আমি অটো-র জন্যে বলে রেখেছিলাম। সঠিক সময়ে আমাদের অটো চালক দাদা এসে গিয়েছিলেন। বর্তমানে মালদা শহরের দক্ষিণে গৌড় এবং উত্তরে রয়েছে পাণ্ডুয়া।...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 28 Jan 2025
সকাল ন'টায় কলকাতা স্টেশন থেকে রওনা হয়ে ১২৩৬৩ কলকাতা-হলদিবাড়ি সুপারফাস্ট সঠিক সময় বিকাল ৩টে-তে মালদা টাউন পৌঁছলো। আর আমরা এসে পৌঁছলাম অতীতের মহানগর গৌড়ে।...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 28 Jan 2025
আজ একটু বেলা করেই উঠলো সবাই। গত কয়েকদিন ধরে বেশ ভোর ভোরই উঠতে হচ্ছিলো সকলকে, আজ একটু বেশিক্ষন বিছানায় কাটানো যাচ্ছে, বেশ লাগছে। গতকাল একটি ফটো আমরা গাড়িতে ফেলে এসেছিলাম, তাই রুডিকে ফোন করে অনুরোধ করলাম সে যেন গতকালের গাড়িটিই আমাদের জন্যে আজকে পাঠায়, সেটিতেই আমরা যাবো পাটায়া।...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 25 Jan 2025
আজ আমাদের ব্যাঙ্কক ঘোরার প্রথম দিন। প্রথমে আমরা যাবো ম্যাকলং রেলস্টেশনে (Maeklong Station)। রেললাইনের দু'পাশে পসরা সাজিয়ে বাজার বসেছে। ট্রেনটি যখন আসে দোকানগুলির উপর থেকে চাঁদোয়াগুলি সরিয়ে নেওয়া হয়, সংকীর্ণ লাইনটি বেয়ে রেলগাড়িটি স্টেশনে আসে।...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 25 Jan 2025
আজও ঘুম ভাঙলো ভোর ৫ টায়। আসলে থাইল্যান্ড সময় দক্ষিণ কোরিয়ার সময়ের থেকে ২ ঘন্টা পিছিয়ে, আমার বায়োলজিক্যাল ক্লক অনুসারে আমি বাড়িতে সকাল ৭ টায় উঠি, কাজেই এখানে তাড়াতাড়ি আমার ঘুম ভেঙে যাচ্ছে। ...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 25 Jan 2025
আজ খুব ভোরে, প্রায় ৫ টা নাগাদ, ঘুম ভেঙে গিয়েছিলো। বাইরে তখনও অন্ধকার, বারান্দায় এসে বসলাম, একটু পরে আলো ফুটবে। বেশ ভালো লাগে ভোর হওয়া দেখতে। ৬টা নাগাদ সবাইকে ডেকে দিলাম, প্রাত্যহিক কাজ সেরে ফ্রেশ হয়ে চা-বিস্কুট খেয়ে আমরা অপেক্ষা করছিলাম। সাড়ে সাতটায় গাড়ি এলো আমাদের নিয়ে যেতে। আজ আমরা অনেকগুলি দ্বীপ ঘুরে দেখবো, সমুদ্র যাত্রা, সমুদ্রস্নান সবই হবে, কাজেই বাড়ি থেকে স্নান সেরে নেওয়ার প্রয়োজন ছিল না।...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 25 Jan 2025
অন্তর্দেশীয় বহির্গমন বিমানবন্দরের তিনতলায় অবস্থিত। পূর্বেই বলেছি এবার আমাদের যাত্রা ফুকেটের উদ্দেশ্যে। বিমানবন্দরে নির্দিষ্ট বিমানের কাউন্টার থেকে বোর্ডিং পাস সংগ্রহ করে, নিরাপত্তা পরীক্ষার পর যখন নির্দিষ্ট দ্বারের সামনে এসে পৌঁছলাম তখন হাতে বেশ কিছুটা সময় ছিল। মা বাবা'রা কলকাতা থেকে অনেক মিষ্টি নিয়ে এসেছিলেন, কয়েকটির সদ্গতি করে বিমানে চড়লাম।...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 25 Jan 2025
প্রায় দীর্ঘ সাড়ে তিন বৎসর পর কয়েকদিনের ছুটিতে সপরিবারে গিয়েছিলাম থাইল্যান্ড। আগামী কয়েকটি পর্বে আমি আমাদের এই ভ্রমণ কাহিনীটি বিস্তারিত লিখব। ...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 25 Jan 2025
উহান আজ বিশ্ববাসীর কাছে খুব পরিচিত নাম। কোভিড-১৯ এই শহরেই প্রথম সংক্রামিত হয়েছিল। আমার এই শহরের সাথে পরিচয় তার কিছু পূর্বে, ২০১৮ খ্রিস্টাব্দের মাঝামাঝি সময়ে। একটি বিজ্ঞান সম্মেলনে যোগদান করতে ওই বছর মে মাসে আমি উহান শহরে যাই।...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 23 Jan 2025
২০১৭ সালের অক্টোবর মাসে গিয়েছিলাম তাজপুর-শঙ্করপুর-দীঘা বেড়াতে। তাজপুর বেড়ানোর অভিজ্ঞতা সম্বন্ধে একটি ব্লগ আমি পূর্বে লিখেছি। আজকের ব্লগে আমি শঙ্করপুর বেড়ানোর অভিজ্ঞতা লিখবো। ...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 20 Jan 2025
বৈচিত্র্যময় ভারতবর্ষের মৃত্তিকার প্রতিটি কণায় কান পাতলে শোনা যায় তার ইতিহাস, লোকসংস্কৃতি, আর দর্শন। এই বৈচিত্র্যময়তার সাথে একাত্মতা অনুভব করেই আমরা সেইস্থানের মাহাত্ম্য অনুধাবন করি।...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 20 Jan 2025
আমি যে খুব ট্রেকিং প্রিয় মানুষ তা নয়, তবে বিগত কয়েক বৎসর ধরে, মানে আমার দক্ষিণ কোরিয়ায় বসবাসের সময়কালের মধ্যে, বৎসরান্তে একবার গবেষণাগারের সকলের সাথে আমি কোনো না কোনো পর্বতে হাইকিং করতে যাই। করোনা মহামারীর পূর্বে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাসে গিয়েছিলাম সোবেকসানে (সোবেক পর্বতে, কোরিয়ান 'সান' শব্দটির অর্থ পর্বত), আবার ২০২২ সালের ডিসেম্বর মাসেও আমরা গিয়েছিলাম ওই পর্বতে।...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 20 Jan 2025
এ ভ্রমণ বৃত্তান্ত আমার ছোটবেলার, আমি তখন পঞ্চম শ্রেণীতে পড়ি। বাবার এক বন্ধুর পরিবারের সাথে আমরা গিয়েছিলাম রাজগীর। বাবাকে কখনওই বেড়ানোর দীর্ঘ পরিকল্পনা করতে দেখিনি, হঠাৎ করেই ঠিক করে ফেলতেন, কখনও টিকিট কেটে এনে বাড়িতে এসে আমাদের নিয়ে রওনা হতেন।...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 20 Jan 2025
মহানগরী মুম্বই, ছত্রপতি শিবাজী মহারাজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যখন এসে পৌঁছলাম দুপুর প্রায় গড়িয়ে গেছে। এবার সোজা হোটেল। সাকিনাকা-তে আমাদের হোটেল, বিমানবন্দর থেকে বেশি দূরে নয়। আমাদের ফেরার ফ্লাইট সকালে, তাই এই জায়গাটা বেশ সুবিধার হলো আমাদের জন্যে। মুম্বই শহরে দীর্ঘদিন আমি কাটিয়েছি, কলেজের পাঠ শেষ করে কর্মসূত্রে এ শহরে আমি এসেছিলাম।...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 20 Jan 2025
পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় বঙ্গোপসাগর উপকূলে অবস্থিত তাজপুর পশ্চিমবঙ্গের সৈকত পর্যটনের তুলনামূলক নতুন সংযোজন। দ্বাদশ পরিকল্পনা অনুসারে পশ্চিমবঙ্গের অন্তর্গত যে চারটি পর্যটন বর্তনী (Circuit) শনাক্তকরণ করা হয়েছিল তার মধ্যে প্রথমটি সৈকত কেন্দ্রিক (দীঘা -শঙ্করপুর - তাজপুর - জুনপুট - মন্দারমনি) আর আমাদের গন্তব্য তাজপুর, জেলে বসতির উপর আধারিত এই পর্যটন কেন্দ্র।...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 20 Jan 2025
সিরাজের মৃত্যুতে অবসান হল আফসার বংশের, ভারতবর্ষের ভাগ্যাকাশে নেমে এলো সূর্যাস্ত। শুরু হল মীর জাফর বংশ, ইতিহাসে যা নাজাফী বংশ বলে পরিচিত। ২৪ শে জুন ১৭৫৭ খ্রিষ্টাব্দে যখন পলাশির যুদ্ধ শেষ হয় আর ২৯শে জুন মীর জাফর মুর্শিদাবাদের সিংহাসনে বসেন, রবার্ট ক্লাইভ যথার্থই বলেছিলেন এই জয় তাঁর নয় বরং এই জয় মীর জাফরের।...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 20 Jan 2025
পড়ন্ত বেলাতেই এসে উপস্থিত হলাম অতীতের মহানগরী ‘মুক্সুবাদ’-এ। নগরীর বাঁ দিক দিয়ে বয়ে চলেছে ভাগীরথী নদী, এই নগরের উত্থান তাকে ঘিরেই। নদীপথে ব্যবসা বাণিজ্যের সুবিধা হেতুই মোঘল সম্রাট ঔরঙ্গজেব নিযুক্ত তৎকালীন বাঙলা, বিহার আর উড়িষ্যার সুবেদার (পরবর্তীকালে ‘নবাব নাজিম’) মুর্শিদকুলী খাঁ ঢাকা থেকে ভাগীরথীর উপকণ্ঠে মুক্সুবাদে রাজধানী স্থানান্তরিত করেন, তাঁর নামানুসারে নগরের নাম পরিবর্তিত হয়ে হল মুর্শিদাবাদ, সূচনা হল ভারতবর্ষের এক নতুন ইতিহাসের।...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 20 Jan 2025
সকাল ১০ টা ১০ র শান্তিনিকেতন এক্সপ্রেস হাওড়া ছেড়ে যখন শান্তিনিকেতন পৌঁছালো তখন বেলা প্রায় সাড়ে বারোটা। বাইরে বেরিয়ে টোটো ধরে হোটেল পান্থনিবাসে পৌঁছলাম প্রায় দেড়টা নাগাদ।...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 20 Jan 2025
সময়ের অপ্রতুলতা জীবনধারণের সবক্ষেত্রে উপলব্ধি করলেও, বোধহয় সর্বাধিক প্রকট হয়ে ওঠে দৈনন্দিন ব্যস্ত জীবনের মধ্যে ভ্রমণের সময় অনুসন্ধানে। পাঁচমাড়ি ভ্রমণের সময়েও এর ব্যতিক্রম হয়নি।...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 13 Jan 2025
আনদং বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইয়ংদেওক বা ইয়ংদক (Yeongdeok, South Korea) সমুদ্র সৈকতের দূরত্ব ৫৫-৬০ কিলোমিটারের মতন, সময় লাগে ঘন্টা খানেক। অপূর্ব সুন্দর সৈকতের পাশাপাশি ইয়ংদক বিখ্যাত তার মৎস বন্দর আর বিশেষত কাঁকড়ার জন্যে। ...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 13 Jan 2025
যখন হরিদ্বার পৌঁছলাম ‘হর কি পাউরি’ ঘাটে সন্ধ্যারতি শুরু হয়ে গিয়েছে। ব্রহ্মকুণ্ডের সামনে প্রথমে মাতা গঙ্গার বন্দনা আর তারপর পুরোহিতগণ নদীমাতৃকার উদ্দেশ্যে আরতি করেন, অগণিত ভক্ত সেই মঙ্গলারতি দর্শন করে নিজেদের ধন্য মনে করেন।........
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 13 Jan 2025