থাইল্যান্ড: পর্ব-৩-ফুকেট থেকে বিভিন্ন দ্বীপ (Thailand: Part-3- Islands near Phuket)
থাইল্যান্ড: পর্ব-৩-ফুকেট থেকে বিভিন্ন দ্বীপ (Thailand: Part-3- Islands near Phuket)
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 25 Jan 2025
পূর্ববর্তী পর্ব দু’টি পড়ার জন্যে ক্লিক করুন থাইল্যান্ড: পর্ব-১ থাইল্যান্ড: পর্ব-২
আজ খুব ভোরে, প্রায় ৫ টা নাগাদ, ঘুম ভেঙে গিয়েছিলো। বাইরে তখনও অন্ধকার, বারান্দায় এসে বসলাম, একটু পরে আলো ফুটবে। বেশ ভালো লাগে ভোর হওয়া দেখতে। ৬টা নাগাদ সবাইকে ডেকে দিলাম, প্রাত্যহিক কাজ সেরে ফ্রেশ হয়ে চা-বিস্কুট খেয়ে আমরা অপেক্ষা করছিলাম। সাড়ে সাতটায় গাড়ি এলো আমাদের নিয়ে যেতে। আজ আমরা অনেকগুলি দ্বীপ ঘুরে দেখবো, সমুদ্র যাত্রা, সমুদ্রস্নান সবই হবে, কাজেই বাড়ি থেকে স্নান সেরে নেওয়ার প্রয়োজন ছিল না।
ভ্যান আমাদের নিয়ে আরও পর্যটক তুলতে তুলতে ফুকেট মেরিনা বে-তে (Phuket Marina Bay) উপস্থিত হলো। আমাদের নাম পূর্বেই অন্তর্ভুক্ত করা ছিল, গাইড তা পরীক্ষা করে নিয়ে আমাদের প্রাতঃরাশ সেরে নিতে বললেন। প্রাতঃরাশের জন্যে সেখানে নানান ধরণের কেক, বিস্কুট, চা, কফি, ক্যান্ডি ইত্যাদি ছিল। প্রায় আধ ঘন্টা পর আমাদের নির্দিষ্ট স্পিডবোটে ওঠানো হলো। গাইড ইংরাজিতে মোটামুটি স্বচ্ছল ছিলেন। তিনি প্রথমেই যাত্রীদের স্বাগত করে আমাদের যাত্রার একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ দিলেন।
প্রথমেই আমরা এলাম খই দ্বীপপুপুঞ্জে বা ‘কোহ খই’-তে (Koh Khai)। ফুকেটের পূর্বের উপকূল থেকে প্রায় ২৫ মিনিট দূরত্বে এই ‘কোহ খই’ (থাই ভাষায় ‘কোহ’ (Koh) কথাটির অর্থ দ্বীপ ) দ্বীপপুঞ্জটি তিনটি দ্বীপ, যথা কোহ খই নাই (Koh Khai Nai), কোহ খই নুই (Koh Khai Nui), এবং কোহ খই নোক (Koh Khai Nok) নিয়ে গড়ে উঠেছে। দ্বীপগুলি তাদের দুর্দান্ত শুভ্র বালুকাময় সৈকত এবং অবিশ্বাস্যভাবে স্বচ্ছ জলের জন্য জনপ্রিয়। একটু লক্ষ্য করলে দেখবেন এখানে রঙিন মাছের একটি ঝাঁক আপনার চারপাশে সাঁতার কাটতে এসেছে। প্রকৃতির এরূপ সাহচর্যে দিনের শুরুতেই মন ভরে উঠবে আনন্দে, গলা ছেড়ে গানও ধরতে পারেন।


ঘন্টা খানেক পর আমরা যাত্রা শুরু করলাম কোহ মাই ফাই-র (Koh Mai Phai) উদ্দেশ্যে, এটি ব্যাম্বু দ্বীপ (Bamboo island) নামে পরিচিত। পর্যটকদের অন্যতম প্রিয় গন্তব্যগুলির একটি এই ব্যাম্বু দ্বীপ। দ্বীপটির জঙ্গলে ঝরা পাতার মধ্যে বাঁশ গাছ রয়েছে, যা থেকে এই দ্বীপের নামকরণ, তবে এখানে প্রচুর অন্যান্য গাছও রয়েছে। এটির চতুর্দিকে বেলাভূমি, সমুদ্রের স্বচ্ছ জলরাশি আপনাকে স্পর্শ করার জন্যে হাতছানি দেবে। আমরাও নেমে পড়লাম, কোহ খই তে সমুদ্রকে স্পর্শ করেছিলাম মাত্র, তবে এখানে সম্পূর্ণ সমুদ্রস্নান। এই জলে বালি নেই, এরূপ অভিজ্ঞতা আমাদের সকলের জন্যে নতুন ছিল।
এই দ্বীপের অন্যতম প্রধান কার্যকলাপ অবশ্যই স্নরকেলিং (Snorkeling)! তবে সমগ্র ফি ফি দ্বীপ জুড়ে স্নরকেলিং উপভোগ্য। কাজেই সাথে স্নরকেলিং মাস্ক রাখা উপযোগী, লাইফ জ্যাকেট স্পীডবোট থেকে পাওয়া যায়। ফি ফি দ্বীপগুলির আরও কিছু হাইলাইট হল আশ্চর্যজনক পিলেহ লেগুন, মায়া উপসাগর এবং একে অপরের পাশে অবস্থিত ভাইকিং গুহা, দ্বীপ কোহ ফি ফি ডন এবং কোহ ফি ফি লেহ, মানকি বিচ এবং অবশ্যই, প্রধান আকর্ষণ হল সাদা বালি এবং স্বচ্ছ জল যা সুন্দর দ্বীপগুলোকে ঘিরে রেখেছে।
ব্যাম্বু দ্বীপের পর আমাদের স্পিডবোটটি রওনা হলো ফি ফি ডন দ্বীপের (Koh Phi Phi Don) উদ্দেশ্যে, ফি ফি ডন ফি ফি দ্বীপপুঞ্জের (Phi Phi archipelago) মধ্যে সর্ববৃহৎ। এখানে আমাদের মধ্যাহ্ন ভোজন।মধ্যাহ্ন ভোজনে ছিল বাফেটের আয়োজন, কত কি খাবার, সি-ফুড, পাস্তা, ভাত, ফ্রাইড রাইস, চিকেন, নুডলস, স্যুপ; ডেসার্টে ছিল বিভিন্ন ধরণের ফল, কেক, টার্ট; আর চা-কফি তো ছিলই।
সারি সারি লং টেল (Long tail boat) বোট দাঁড়িয়ে রয়েছে সমুদ্রের কিনারে। লং টেল বোটেও ঘোরা যায় দ্বীপগুলি। অনেক পর্যটক ক্র্যাবি থেকে এই বোটগুলি নিয়ে বেড়াতে আসেন। একটু সময় হাতে থাকলে ক্র্যাবি ঘুরে যেতে পারেন।

মধ্যাহ্ন ভোজনের পর কোমর পর্যন্ত জল ভেঙ্গে আমরা স্পিডবোটে চড়লাম। ভাটার কারণে জল কমে যাওয়ায় স্পিডবোটটি একেবারে সমুদ্রের কিনারে আসতে পারেনি। আমাদের গন্তব্য মানকি বিচ (Monkey beach)। এখানে বোটটি সমুদ্রের মধ্যেই দাঁড়িয়েছিল, আর বোট থেকেই সবাই সমুদ্রে ঝাঁপ দিয়ে নামছিলো। এখনই চোখে পড়বে ঝাঁকে ঝাঁকে রঙিন মাছ, স্বচ্ছ জলের মধ্যে ঝাঁক বেঁধে তাদের দ্রুত চলাফেরা লক্ষ্য করতে করতেই সময় কেটে যাবে।

প্রায় ৪০ মিনিট মতন এই স্থানে থাকার পর স্পিডবোট রওনা হলো মায়া বে-র (Maya Bay) উদ্দেশ্যে। কার্স্ট ক্লিফ, সাদা বালু এবং পান্না সবুজ রঙের জলের মায়া বে বাস্তবিকই ট্রপিক্যাল স্বর্গ। উপসাগরটির সৌন্দর্যের জন্য এখানে লিওনার্দো ডি ক্যাপ্রিও অভিনীত হলিউড চলচ্চিত্র ‘দ্য বিচ’-র (The Beach) শ্যুটিং হয়েছিল।

প্রায় প্রতিটি দ্বীপেই পর্যটকদের জন্য শৌচাগার রয়েছে ৷ সৈকতে অবশ্যই মনে রাখতে হবে যে আপনাকে এটি পরিষ্কার রাখতে হবে। সৈকতের সাথে এমন আচরণ বাঞ্চনীয় যেমন আপনি আপনার নিজের বাড়ির সাথে করে থাকেন কারণ প্রকৃতিকে রক্ষা করার দায়িত্ব আমাদের, আর এটাই সাস্টেনেবল ট্যুরিজম (Sustainable tourism)।
প্রায় সাড়ে ৫ টা নাগাদ ফুকেট বে-তে আমরা ফিরলাম। ফেরার সময় বোটে সবাইকে আনারস আর তরমুজ খেতে দিয়েছিলো। বোটে সর্বক্ষণ ছিল প্রচুর কোল্ড ড্রিঙ্কস, ভিটামিন সি ওয়াটার, আর ঠান্ডা জল। পর্যটকরা যত ইচ্ছে ব্যবহার করতে পারেন। সকালে যে ভাবে গিয়েছিলাম সেই একই ভ্যানে আমাদের পৌঁছে দেওয়া হলো আমাদের রিসর্টে। দুর্দান্ত কাটলো আজকের দিনটা।
আজও আমরা রাতের খাবার তৈরী করবো, আর হাতের কাছেই রয়েছে সুপার মার্কেট, কাজেই অসুবিধা হওয়ার কথা নয়। বেড়িয়ে ফিরে এসে আমরা প্রথমে গেলাম মার্কেটে। লাউ, চিংড়ি, কোয়েলের ডিম, বাসমতি চাল কেনা হলো, রুটি (বা টর্টিলা) তো ছিলই। আজকের খাবার সাদা ভাত (বা রুটি), লাউ-চিংড়ি, আর ডিমের কষা। গতকাল বাজার দেখে আমাদের তো মন ভরে গিয়েছিলো, এতো সব্জি যে কতকাল দেখিনি, ঢ্যাঁড়শ, লাউ, কাঁচা পেঁপে, উচ্ছে বিভিন্ন ধরণের শাক, কচু, কি নেই ! কতদিন যে এসকল সব্জি আমরা খাইনি, সবই কিনতে ইচ্ছে করছিলো কিন্তু একদিনে তো সব কিছু কিনে রান্না করা সম্ভব নয়। বাজার করে এসে গতকালের মতন সব কেটে পরিষ্কার করে, রান্নার জন্যে প্রস্তুত করে আমরা আজও সুইমিং পুলে ঘন্টা খানেক কাটালাম। তারপর বাথরুম থেকে ফ্রেশ হয়ে এসে চা বানানো হলো, চা-বিস্কুট দিয়ে সন্ধ্যেটা পার হলো। বেশিরভাগ সময়টাই কাটলো সারাদিনের নানান ঘটনা স্মৃতিচারণ করে।ইতিমধ্যে রান্না চড়িয়ে দেওয়াও হয়েছে, ঢিমে আঁচে তা পাঁকছে। একটু বেশি করেই সবকিছু রান্না করা হয়েছিল, আগামীকাল আমরা ফুকেট থেকে ব্যাঙ্কক রওনা হবো, আমাদের বিমান বেলা ৪ টে বেজে ৩০ মিনিটে, কাজেই আমরা মধ্যাহ্নভোজন করেই রওনা হবো।
আর কি ! এবার আজকের মতন বিশ্রাম। পরের পর্বে আসবে আগামীকালের গল্প।
জুলাই, ২০২৩
বি.দ্র. এই ভ্রমণ কাহিনীটি প্রথম আমার ব্লগে ২৯শে জুলাই ২০২৩ সালে প্রকাশিত হয়েছিল। পুনরায় ভ্রমণ কাহিনীটি এই সাইটে প্রকাশিত হলো।
Travel & Travelogue Blogs
Our Latest Travel & Travelogue Blogs
দীর্ঘদিন অনবরত কাজ করে বেশ হাঁফিয়ে উঠেছিলাম, অনেক দিন পর রাখী বা রক্ষাবন্ধনের ছুটি পাওয়া গেলো, পরদিন আবার রবিবার, কাজেই পরপর দু'দিন কর্মবিরতি, ঠিক করলাম জব্বলপুর থেকে ঘুরে আসবো।.....
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 22 September 2025
বন্ধুদের সাথে ঠিক করলাম, সম্মেলনের শেষ দিনে শেষ হওয়ার পর আমাদের হাতে কয়েক ঘন্টা সময় থাকবে, সেই সময় আমরা একটু ঘুরে দেখবো শহরটা। তবে একদিন একটু পর্যন্ত দুপুরে ঘুরে এলাম চাঙ্গি এয়ারপোর্ট। এই বিমানবন্দরটির মধ্যে রয়েছে একটি ট্রপিকাল ফরেস্টের ছোট সংস্করণ, যা অবশ্যই একটি মনোমুগ্ধকর দ্রষ্টব্য।...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 4 Feb 2025
পূর্বে একাধিকবার উল্লেখ করেছি আমার ভ্রমণ অধিকাংশ সময়েই কর্মসূত্রে। এর একটা অসুবিধা হলো, ওই স্থানের অনেক দ্রষ্টব্য আমার সময়ের সংক্ষিপ্ততায় দেখা হয়ে ওঠেনা, আবার সুবিধা হলো, এমন কিছু দ্রষ্টব্য, বিশেষত ওই স্থান সম্পর্কিত এমন কিছু তথ্য (যা সম্পর্কে আমার আগ্রহ রয়েছে) জানা যায় বা আমার দেখা হয় যা হয়তো কেবলমাত্র পর্যটক হয়ে এলে দেখা হয়ে উঠতো না। গতবৎসর জুন মাসে একটি বিজ্ঞান সম্মেলনে যোগদান করতে গিয়েছিলাম সিঙ্গাপুরে, আর এই ভ্রমণ কাহিনীটি সেই বিষয়ে।...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 3 Feb 2025
ঘুম ভাঙলো প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজের শব্দে। বাইরে তখন খুবই কুয়াশা, হোটেলের ঘরের কাঁচের জানলা বাষ্পে পূর্ণ, কিছুই দৃষ্টিগোচর হচ্ছে না, অবশেষে জানলা খুলে কুচকাওয়াজ দেখছিলাম। তারপর প্রস্তুত হয়ে আমরা আমরা বেরোলাম স্থানীয় বিভিন্ন দ্রষ্টব্যস্থান গুলির উদ্দেশ্যে। গতকাল ছিল ঐতিহাসিক ভ্রমণ, আর আজ আমরা সাক্ষী থাকবো প্রাগৈতিহাসিক কালের কিছু নিদর্শনের। ...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 28 Jan 2025
মালদার নিকট মানিকচক ঘাট থেকে ভেসেলে গঙ্গা পার হয়ে আমরা পৌঁছলাম রাজমহল ঘাটে, তখন প্রায় ১'টা বাজে। মালদা ভ্রমণের পর এবার আমরা রাজমহল ঘুরব। ঝাড়খন্ড রাজ্যের সাহিবগঞ্জ জেলায় রাজমহল অবস্থিত, যা একদা মাল-পাহাড়িয়া উপজাতির গোষ্ঠী মাল রাজা শাসন করতেন। সকালে হোটেল থেকে প্রাতঃরাশ সেরেই বেরিয়েছিলাম আমরা।...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 28 Jan 2025
হাবশী বংশের পরে বাংলার শাসনভার ন্যস্ত হয় হুসেন শাহী বংশের (১৪৯৪ থেকে ১৫৩৮ খ্রিস্টাব্দ) উপর। আলাউদ্দিন হুসেন শাহ ছিলেন এই বংশের প্রতিষ্ঠাতা। বড়ো সোনা মসজিদ বা বারদুয়ারী মসজিদের নির্মাণ কার্য আলাউদ্দিন হুসেন শাহের সময়কালে আরম্ভ হলেও নির্মাণকার্যটি শেষ হয় নাসিরুদ্দিন নসরৎ শাহের আমলে।...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 28 Jan 2025
গতকাল রেডিওতে গল্প শুনতে শুনতে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। ঘুম ভাঙলো বেশ ভোরে। হোটেলে প্রাতঃরাশ সকাল ৮ টা থেকে ১০ টা পর্যন্ত। আমরা পৌনে ন'টার মধ্যে প্রাতঃরাশ সেরে ন'টা নাগাদ বেরিয়ে পড়লাম। গতকালই আমি অটো-র জন্যে বলে রেখেছিলাম। সঠিক সময়ে আমাদের অটো চালক দাদা এসে গিয়েছিলেন। বর্তমানে মালদা শহরের দক্ষিণে গৌড় এবং উত্তরে রয়েছে পাণ্ডুয়া।...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 28 Jan 2025
সকাল ন'টায় কলকাতা স্টেশন থেকে রওনা হয়ে ১২৩৬৩ কলকাতা-হলদিবাড়ি সুপারফাস্ট সঠিক সময় বিকাল ৩টে-তে মালদা টাউন পৌঁছলো। আর আমরা এসে পৌঁছলাম অতীতের মহানগর গৌড়ে।...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 28 Jan 2025
আজ একটু বেলা করেই উঠলো সবাই। গত কয়েকদিন ধরে বেশ ভোর ভোরই উঠতে হচ্ছিলো সকলকে, আজ একটু বেশিক্ষন বিছানায় কাটানো যাচ্ছে, বেশ লাগছে। গতকাল একটি ফটো আমরা গাড়িতে ফেলে এসেছিলাম, তাই রুডিকে ফোন করে অনুরোধ করলাম সে যেন গতকালের গাড়িটিই আমাদের জন্যে আজকে পাঠায়, সেটিতেই আমরা যাবো পাটায়া।...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 25 Jan 2025
আজ আমাদের ব্যাঙ্কক ঘোরার প্রথম দিন। প্রথমে আমরা যাবো ম্যাকলং রেলস্টেশনে (Maeklong Station)। রেললাইনের দু'পাশে পসরা সাজিয়ে বাজার বসেছে। ট্রেনটি যখন আসে দোকানগুলির উপর থেকে চাঁদোয়াগুলি সরিয়ে নেওয়া হয়, সংকীর্ণ লাইনটি বেয়ে রেলগাড়িটি স্টেশনে আসে।...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 25 Jan 2025
আজও ঘুম ভাঙলো ভোর ৫ টায়। আসলে থাইল্যান্ড সময় দক্ষিণ কোরিয়ার সময়ের থেকে ২ ঘন্টা পিছিয়ে, আমার বায়োলজিক্যাল ক্লক অনুসারে আমি বাড়িতে সকাল ৭ টায় উঠি, কাজেই এখানে তাড়াতাড়ি আমার ঘুম ভেঙে যাচ্ছে। ...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 25 Jan 2025
আজ খুব ভোরে, প্রায় ৫ টা নাগাদ, ঘুম ভেঙে গিয়েছিলো। বাইরে তখনও অন্ধকার, বারান্দায় এসে বসলাম, একটু পরে আলো ফুটবে। বেশ ভালো লাগে ভোর হওয়া দেখতে। ৬টা নাগাদ সবাইকে ডেকে দিলাম, প্রাত্যহিক কাজ সেরে ফ্রেশ হয়ে চা-বিস্কুট খেয়ে আমরা অপেক্ষা করছিলাম। সাড়ে সাতটায় গাড়ি এলো আমাদের নিয়ে যেতে। আজ আমরা অনেকগুলি দ্বীপ ঘুরে দেখবো, সমুদ্র যাত্রা, সমুদ্রস্নান সবই হবে, কাজেই বাড়ি থেকে স্নান সেরে নেওয়ার প্রয়োজন ছিল না।...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 25 Jan 2025
অন্তর্দেশীয় বহির্গমন বিমানবন্দরের তিনতলায় অবস্থিত। পূর্বেই বলেছি এবার আমাদের যাত্রা ফুকেটের উদ্দেশ্যে। বিমানবন্দরে নির্দিষ্ট বিমানের কাউন্টার থেকে বোর্ডিং পাস সংগ্রহ করে, নিরাপত্তা পরীক্ষার পর যখন নির্দিষ্ট দ্বারের সামনে এসে পৌঁছলাম তখন হাতে বেশ কিছুটা সময় ছিল। মা বাবা'রা কলকাতা থেকে অনেক মিষ্টি নিয়ে এসেছিলেন, কয়েকটির সদ্গতি করে বিমানে চড়লাম।...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 25 Jan 2025
প্রায় দীর্ঘ সাড়ে তিন বৎসর পর কয়েকদিনের ছুটিতে সপরিবারে গিয়েছিলাম থাইল্যান্ড। আগামী কয়েকটি পর্বে আমি আমাদের এই ভ্রমণ কাহিনীটি বিস্তারিত লিখব। ...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 25 Jan 2025
উহান আজ বিশ্ববাসীর কাছে খুব পরিচিত নাম। কোভিড-১৯ এই শহরেই প্রথম সংক্রামিত হয়েছিল। আমার এই শহরের সাথে পরিচয় তার কিছু পূর্বে, ২০১৮ খ্রিস্টাব্দের মাঝামাঝি সময়ে। একটি বিজ্ঞান সম্মেলনে যোগদান করতে ওই বছর মে মাসে আমি উহান শহরে যাই।...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 23 Jan 2025
২০১৭ সালের অক্টোবর মাসে গিয়েছিলাম তাজপুর-শঙ্করপুর-দীঘা বেড়াতে। তাজপুর বেড়ানোর অভিজ্ঞতা সম্বন্ধে একটি ব্লগ আমি পূর্বে লিখেছি। আজকের ব্লগে আমি শঙ্করপুর বেড়ানোর অভিজ্ঞতা লিখবো। ...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 20 Jan 2025
বৈচিত্র্যময় ভারতবর্ষের মৃত্তিকার প্রতিটি কণায় কান পাতলে শোনা যায় তার ইতিহাস, লোকসংস্কৃতি, আর দর্শন। এই বৈচিত্র্যময়তার সাথে একাত্মতা অনুভব করেই আমরা সেইস্থানের মাহাত্ম্য অনুধাবন করি।...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 20 Jan 2025
আমি যে খুব ট্রেকিং প্রিয় মানুষ তা নয়, তবে বিগত কয়েক বৎসর ধরে, মানে আমার দক্ষিণ কোরিয়ায় বসবাসের সময়কালের মধ্যে, বৎসরান্তে একবার গবেষণাগারের সকলের সাথে আমি কোনো না কোনো পর্বতে হাইকিং করতে যাই। করোনা মহামারীর পূর্বে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাসে গিয়েছিলাম সোবেকসানে (সোবেক পর্বতে, কোরিয়ান 'সান' শব্দটির অর্থ পর্বত), আবার ২০২২ সালের ডিসেম্বর মাসেও আমরা গিয়েছিলাম ওই পর্বতে।...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 20 Jan 2025
এ ভ্রমণ বৃত্তান্ত আমার ছোটবেলার, আমি তখন পঞ্চম শ্রেণীতে পড়ি। বাবার এক বন্ধুর পরিবারের সাথে আমরা গিয়েছিলাম রাজগীর। বাবাকে কখনওই বেড়ানোর দীর্ঘ পরিকল্পনা করতে দেখিনি, হঠাৎ করেই ঠিক করে ফেলতেন, কখনও টিকিট কেটে এনে বাড়িতে এসে আমাদের নিয়ে রওনা হতেন।...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 20 Jan 2025
মহানগরী মুম্বই, ছত্রপতি শিবাজী মহারাজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যখন এসে পৌঁছলাম দুপুর প্রায় গড়িয়ে গেছে। এবার সোজা হোটেল। সাকিনাকা-তে আমাদের হোটেল, বিমানবন্দর থেকে বেশি দূরে নয়। আমাদের ফেরার ফ্লাইট সকালে, তাই এই জায়গাটা বেশ সুবিধার হলো আমাদের জন্যে। মুম্বই শহরে দীর্ঘদিন আমি কাটিয়েছি, কলেজের পাঠ শেষ করে কর্মসূত্রে এ শহরে আমি এসেছিলাম।...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 20 Jan 2025
পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় বঙ্গোপসাগর উপকূলে অবস্থিত তাজপুর পশ্চিমবঙ্গের সৈকত পর্যটনের তুলনামূলক নতুন সংযোজন। দ্বাদশ পরিকল্পনা অনুসারে পশ্চিমবঙ্গের অন্তর্গত যে চারটি পর্যটন বর্তনী (Circuit) শনাক্তকরণ করা হয়েছিল তার মধ্যে প্রথমটি সৈকত কেন্দ্রিক (দীঘা -শঙ্করপুর - তাজপুর - জুনপুট - মন্দারমনি) আর আমাদের গন্তব্য তাজপুর, জেলে বসতির উপর আধারিত এই পর্যটন কেন্দ্র।...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 20 Jan 2025
সিরাজের মৃত্যুতে অবসান হল আফসার বংশের, ভারতবর্ষের ভাগ্যাকাশে নেমে এলো সূর্যাস্ত। শুরু হল মীর জাফর বংশ, ইতিহাসে যা নাজাফী বংশ বলে পরিচিত। ২৪ শে জুন ১৭৫৭ খ্রিষ্টাব্দে যখন পলাশির যুদ্ধ শেষ হয় আর ২৯শে জুন মীর জাফর মুর্শিদাবাদের সিংহাসনে বসেন, রবার্ট ক্লাইভ যথার্থই বলেছিলেন এই জয় তাঁর নয় বরং এই জয় মীর জাফরের।...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 20 Jan 2025
পড়ন্ত বেলাতেই এসে উপস্থিত হলাম অতীতের মহানগরী ‘মুক্সুবাদ’-এ। নগরীর বাঁ দিক দিয়ে বয়ে চলেছে ভাগীরথী নদী, এই নগরের উত্থান তাকে ঘিরেই। নদীপথে ব্যবসা বাণিজ্যের সুবিধা হেতুই মোঘল সম্রাট ঔরঙ্গজেব নিযুক্ত তৎকালীন বাঙলা, বিহার আর উড়িষ্যার সুবেদার (পরবর্তীকালে ‘নবাব নাজিম’) মুর্শিদকুলী খাঁ ঢাকা থেকে ভাগীরথীর উপকণ্ঠে মুক্সুবাদে রাজধানী স্থানান্তরিত করেন, তাঁর নামানুসারে নগরের নাম পরিবর্তিত হয়ে হল মুর্শিদাবাদ, সূচনা হল ভারতবর্ষের এক নতুন ইতিহাসের।...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 20 Jan 2025
সকাল ১০ টা ১০ র শান্তিনিকেতন এক্সপ্রেস হাওড়া ছেড়ে যখন শান্তিনিকেতন পৌঁছালো তখন বেলা প্রায় সাড়ে বারোটা। বাইরে বেরিয়ে টোটো ধরে হোটেল পান্থনিবাসে পৌঁছলাম প্রায় দেড়টা নাগাদ।...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 20 Jan 2025
সময়ের অপ্রতুলতা জীবনধারণের সবক্ষেত্রে উপলব্ধি করলেও, বোধহয় সর্বাধিক প্রকট হয়ে ওঠে দৈনন্দিন ব্যস্ত জীবনের মধ্যে ভ্রমণের সময় অনুসন্ধানে। পাঁচমাড়ি ভ্রমণের সময়েও এর ব্যতিক্রম হয়নি।...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 13 Jan 2025
আনদং বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইয়ংদেওক বা ইয়ংদক (Yeongdeok, South Korea) সমুদ্র সৈকতের দূরত্ব ৫৫-৬০ কিলোমিটারের মতন, সময় লাগে ঘন্টা খানেক। অপূর্ব সুন্দর সৈকতের পাশাপাশি ইয়ংদক বিখ্যাত তার মৎস বন্দর আর বিশেষত কাঁকড়ার জন্যে। ...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 13 Jan 2025
যখন হরিদ্বার পৌঁছলাম ‘হর কি পাউরি’ ঘাটে সন্ধ্যারতি শুরু হয়ে গিয়েছে। ব্রহ্মকুণ্ডের সামনে প্রথমে মাতা গঙ্গার বন্দনা আর তারপর পুরোহিতগণ নদীমাতৃকার উদ্দেশ্যে আরতি করেন, অগণিত ভক্ত সেই মঙ্গলারতি দর্শন করে নিজেদের ধন্য মনে করেন।........
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 13 Jan 2025