রাজমহল: পর্ব-২ (Rajmahal: Part-2)
রাজমহল: পর্ব-২ (Rajmahal: Part-2)
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 28 Jan 2025
রাজমহল: পর্ব-১ -র পর-
ঘুম ভাঙলো প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজের শব্দে। বাইরে তখন খুবই কুয়াশা, হোটেলের ঘরের কাঁচের জানলা বাষ্পে পূর্ণ, কিছুই দৃষ্টিগোচর হচ্ছে না, অবশেষে জানলা খুলে কুচকাওয়াজ দেখছিলাম। তারপর প্রস্তুত হয়ে আমরা আমরা বেরোলাম স্থানীয় বিভিন্ন দ্রষ্টব্যস্থান গুলির উদ্দেশ্যে। গতকাল ছিল ঐতিহাসিক ভ্রমণ, আর আজ আমরা সাক্ষী থাকবো প্রাগৈতিহাসিক কালের কিছু নিদর্শনের।
আজকে আমাদের প্রধান দ্রষ্টব্য সাহিবগঞ্জ শহর থেকে প্রায় ৫৫-৬০ কিলোমিটার দূরত্বে মান্দ্রতে অবস্থিত জীবাশ্ম উদ্যান [বোলপুর শান্তিনিকেতন ভ্রমণের সময় আমরা আমখই গ্রামে অবস্থিত ওপর একটি জীবাশ্ম উদ্যান দেখেছিলাম।]। সকাল ৯ টা নাগাদ আমরা রওনা হলাম, পথেই প্রাতঃরাশ সারব। কিছুক্ষন গিয়ে শহরের কিছুটা বাইরে পথের ধারে একটি দোকানে দাঁড়ালাম। দোকানি চা, তেলেভাজা, মুড়ি, ছোলাভাজা, আরো হরেক ধরণের খাদ্যদ্রব্য বিক্রয় করছেন। আমাদের ফরমায়েশ মতন কারও দুধ দেওয়া চিনি ছাড়া চা, কারও দুধ চিনি ছাড়া চা, আবার কারও দুধ চিনি দেওয়া চা বানিয়ে পরিবেশন করলেন। আজকাল শহুরে মানুষরা মধুমেহ (ডায়াবেটিস), হার্টের নানান সমস্যায় জর্জরিত। গ্রামের দোকানিও সম্ভবত তা জানেন, তিনি দেখলাম মনের আনন্দেই খাবার পরিবেশন করলেন, কারও শুধু মুড়ি, কারও মশলা-মুড়ি, কারও বা নানা স্বাদের বিস্কুট ইত্যাদি। চা যে কি সুস্বাদু, তা বর্ণনা করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়, তবে কাপগুলি অত্যন্ত ছোট ছোট, কাজেই দুই-তিনবার করে সকলে চা নিলেন। আমি আমাদের দেশের মতন অন্য কোথাও এতো ছোট চায়ের কাপ বা খুড়ি দেখিনি (বড়ো পাওয়া যায়, তবে ছোটোগুলির চলই বেশি), কেন যে সেগুলি এতো ছোট হয় তা আমি জানিনা। যাইহোক, প্রাতঃরাশ সারা হলো। এই দোকানটির পাশেই একটা মিষ্টির দোকান ছিল, সেখান থেকে রসগোল্লা কিনে নেওয়া হলো, এবার আমরা আবার রওনা হলাম গন্তব্যের উদ্দেশ্যে।
মান্দ্রো ফসিল মিউজিয়ামটি প্রাচীন উদ্ভিদ জীবনের উপর গবেষণা প্রচারের এবং জনসাধারণের সচেতনতাবৃদ্ধির উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এখানে পাওয়া জীবাশ্মগুলি প্রায় ৬৮ থেকে ১৪৫ মিলিয়ন বছর পুরানো জুরাসিক এবং ক্রিটেসিয়াস যুগের। অর্থাৎ যখন পৃথিবীতে ডাইনোসর ঘুরে বেড়াতো এই জীবাশ্মগুলি সেই সময়কার।
জাদুঘরটি শুধুমাত্র একটি শিক্ষাকেন্দ্র হিসেবেই কাজ করে না বরং ভারতীয় উপমহাদেশে উদ্ভিদ জীবনের বিবর্তন অধ্যয়নরত জীবাশ্মবিদ এবং ভূতাত্ত্বিকদের গবেষণা কেন্দ্র হিসেবেও কাজ করে। প্রদর্শনীগুলি এই অঞ্চলের ভূতাত্ত্বিক ইতিহাস এবং প্যালিওবোটানির বিশ্বব্যাপী জ্ঞানে অবদান রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, তা বলাই বাহুল্য।
যে সকল বিজ্ঞানী এই বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন তাঁদের পরিচয় রয়েছে।
মান্দ্রোর ফসিল মিউজিয়ামে বেশ কিছু প্রদর্শনী রয়েছে যা রাজমহল পাহাড়ের অনন্য প্যালিওবোটানিকাল ঐতিহ্যকে তুলে ধরে। মূল প্রদর্শনীর অন্তর্ভুক্ত:
জীবাশ্মকৃত উদ্ভিদের নমুনা: যাদুঘরটি বিলুপ্ত ফার্ন, সাইক্যাড এবং কনিফারের জীবাশ্মাবশেষ সহ উদ্ভিদের জীবাশ্মের একটি সমৃদ্ধ সংগ্রহালয়। এই নমুনাগুলি লক্ষ লক্ষ বছর আগে বিদ্যমান উদ্ভিদের প্রকারের বিষয়ে ধারণা প্রদান করে।
পেট্রিফাইড কাঠ: যাদুঘরের প্রধান আকর্ষণগুলির মধ্যে একটি হল এর পেট্রিফাইড কাঠের সংগ্রহ, যেখানে প্রাচীন গাছগুলি লক্ষ লক্ষ বছর ধরে খনিজকরণের প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পাথরে পরিণত হয়েছে। এই নমুনাগুলি গাছের গুঁড়ির বিশদ গঠন প্রদর্শন করে, যার মধ্যে বৃদ্ধির রিং এবং বাকলের ধরণ রয়েছে।
পাতার ছাপ এবং বীজের জীবাশ্ম: জাদুঘরে বিভিন্ন ধরনের পাতার ছাপ এবং বীজের জীবাশ্ম রয়েছে, যা প্রাগৈতিহাসিক যুগের জলবায়ু পরিস্থিতি এবং উদ্ভিদ বৈচিত্র্যের মূল সূচক। এই জীবাশ্মগুলি বিজ্ঞানীদের সময়ের সাথে উদ্ভিদ প্রজাতির বিবর্তন অধ্যয়ন করতে সহায়তা করে।
ভূতাত্ত্বিক এবং প্যালিওবোটানিকাল ডিসপ্লে: জাদুঘরে রাজমহল পাহাড়ের ভূতাত্ত্বিক ইতিহাস, জীবাশ্মায়নের প্রক্রিয়া এবং এই অঞ্চলে পাওয়া জীবাশ্মের তাৎপর্য ব্যাখ্যা করে বিস্তারিত প্রদর্শন রয়েছে। তথ্য প্যানেল এবং চার্ট দর্শকদের এই অঞ্চলের প্রাগৈতিহাসিক পরিবেশের বিষয়ে জ্ঞান প্রদান করে।
সমগ্র উদ্যানটির পরিধি বৃহৎ, আমি প্রথমে হেঁটে হেঁটে ঘুরবো ঠিক করলেও সকলের পরামর্শে আমরা ব্যাটারিচালিত গাড়ি রিসার্ভ করে ঘুরেছিলাম, এতে ঠিকভাবে সমগ্র উদ্যানটি ঘোরা যায়, অন্যথায় অনাবশ্যক অধিক সময় ব্যয় হতে পারে। উদ্যানটি ঘুরে আমাদের বেরোতে প্রায় দুপুর গড়িয়ে গিয়েছিলো। প্রায় ২ টো নাগাদ আমরা নিকটবর্তী একটি বাজারে এক ভাতের হোটেলে এসে মধ্যাহ্নভোজন সারলাম। সত্যি বলতে এই অঞ্চলের রান্নার স্বাদ আমাদের খুবই ভালো লেগেছিলো।
এবার আমাদের গন্তব্য শিবগাদি ধাম, যা প্রায় এখন থেকে ৫০ কিলোমিটার দূরত্বে বোরহেট নামক স্থানে অবস্থিত।
এখানে রয়েছেন ভগবান শিব, শ্রাবণ মাসে এই ধামে খুব ভক্তসমাগম হয়ে থাকে। শিবগাদি ধাম দর্শন করে আমাদের বেরোতে বেরোতে বিকাল গড়িয়ে প্রায় সন্ধ্যা উপস্থিত হলো। আসলে শীতকালের বিকেল খুবই ক্ষণস্থায়ী। আমরা এবার যাবো বিন্দুবাসিনী মন্দির দর্শন করতে। সন্ধ্যা নেমে গিয়েছে, আমি ভেবেছিলাম গতকাল আমরা মতি ঝর্ণা যখন পৌঁছেছিলাম তখন বেলা গড়িয়ে গিয়েছিলো, তাই আজকে আবার সেই স্থান দেখে আসবো। কিন্তু বিন্দুবাসিনী মন্দির দর্শন করে তা আর সম্ভব হলো না। সন্ধ্যা ৭ টার সময় আমরা যখন ফিরছিলাম তখন ঘড়ি না দেখলে অনায়াসে মধ্যরাত বলে মনে হতে পারে, রাস্তাঘাট এতোটাই শুনশান, আর অন্ধকার, গাড়ির হেড লাইটই একমাত্র ভরসা। এমন সময় গাড়ি একটি রেল গেটের সামনে এসে দাঁড়ালো, সামনে মালট্রেন, কাজেই মালট্রেন না সরলে আমরা আর এগোতে পারবো না। আমি ড্রাইভার দাদা কে জিজ্ঞেস করলাম, অন্য পথ রয়েছে কিনা কারণ মালট্রেন যে কখন সরবে তা অজানা। উনি বললেন রাস্তা একখানা রয়েছে তবে তা অনেক কিলোমিটার ঘুরে, আমরা বিচলিত হলেও তিনি মোটেই চিন্তিত নন। ক্রমাগত হর্ন বাজাতে লাগলেন। আমরা তো অবাক, হর্ন বাজিয়ে রাস্তায় অন্য গাড়ীকে জায়গা দেওয়ার কথা বলা গেলেও এ যে মালট্রেন, সামান্য গাড়ীর হর্নে সে সরবে কেন ! আমাদের অবাক করে দিয়ে দেখলাম মিনিট দশেক অপেক্ষা করার পর মালট্রেনটি ক্যাচ ক্যাচ শব্দ তুলে চলতে শুরু করলো, কিছুটা সরে গিয়ে সে আমাদের যাওয়ার পথ করে দিলো। আমরা অবাক হয়ে গেলাম, ড্রাইভার দাদা বললেন, এ অঞ্চলে এটাই রীতি। এই অভিজ্ঞতা আমাদের প্রথম।
এবার হোটেলে ফিরে রাত্রিকালীন আহার সেরে আজকের মতন বিশ্রাম।
পরদিন,
সকাল সকাল ঘুম ভাঙলো। স্নান সেরে এবার আমরা রওনা হবো মুর্শিদাবাদের উদ্দেশ্যে। তবে বাকি থেকে গেলো অনেক স্থান, আবার আসবো কখনও। যথা সময়ে গাড়ি এসে পৌঁছলো। পথে প্রাতঃরাশ সারলাম, চা, বিস্কুট, মিষ্টি, মুড়ি-তেলেভাজা নানান কিছু সহযোগে। প্রজাতন্ত্র দিবসের এবং সপ্তাহান্তের ছুটির কারণে মুর্শিদাবাদে হোটেল রিসার্ভ করা বেশ মুশকিল হয়ে গিয়েছিলো, তবে শেষ পর্যন্ত তা সম্ভব হয়েছিল। এবার মুর্শিদাবাদের কাহিনী (অনুগ্রহ করে পড়ুন মুর্শিদাবাদ ভ্রমণ-পর্ব-১, মুর্শিদাবাদ ভ্রমণ-পর্ব-২) [মুর্শিদাবাদ ভ্রমণের এই কাহিনী কিন্তু এইবারের নয়, পূর্বের, তবে আশা করি পাঠক-পাঠিকার ভালো লাগবে। ]
জানুয়ারী, ২০২৪
বি.দ্র. এই ভ্রমণ কাহিনীটি প্রথম আমার ব্লগে ৯ই অক্টোবর ২০২৪ সালে প্রকাশিত হয়েছিল। পুনরায় ভ্রমণ কাহিনীটি এই সাইটে প্রকাশিত হলো।
Travel & Travelogue Blogs
Our Latest Travel & Travelogue Blogs
দীর্ঘদিন অনবরত কাজ করে বেশ হাঁফিয়ে উঠেছিলাম, অনেক দিন পর রাখী বা রক্ষাবন্ধনের ছুটি পাওয়া গেলো, পরদিন আবার রবিবার, কাজেই পরপর দু'দিন কর্মবিরতি, ঠিক করলাম জব্বলপুর থেকে ঘুরে আসবো।.....
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 22 September 2025
বন্ধুদের সাথে ঠিক করলাম, সম্মেলনের শেষ দিনে শেষ হওয়ার পর আমাদের হাতে কয়েক ঘন্টা সময় থাকবে, সেই সময় আমরা একটু ঘুরে দেখবো শহরটা। তবে একদিন একটু পর্যন্ত দুপুরে ঘুরে এলাম চাঙ্গি এয়ারপোর্ট। এই বিমানবন্দরটির মধ্যে রয়েছে একটি ট্রপিকাল ফরেস্টের ছোট সংস্করণ, যা অবশ্যই একটি মনোমুগ্ধকর দ্রষ্টব্য।...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 4 Feb 2025
পূর্বে একাধিকবার উল্লেখ করেছি আমার ভ্রমণ অধিকাংশ সময়েই কর্মসূত্রে। এর একটা অসুবিধা হলো, ওই স্থানের অনেক দ্রষ্টব্য আমার সময়ের সংক্ষিপ্ততায় দেখা হয়ে ওঠেনা, আবার সুবিধা হলো, এমন কিছু দ্রষ্টব্য, বিশেষত ওই স্থান সম্পর্কিত এমন কিছু তথ্য (যা সম্পর্কে আমার আগ্রহ রয়েছে) জানা যায় বা আমার দেখা হয় যা হয়তো কেবলমাত্র পর্যটক হয়ে এলে দেখা হয়ে উঠতো না। গতবৎসর জুন মাসে একটি বিজ্ঞান সম্মেলনে যোগদান করতে গিয়েছিলাম সিঙ্গাপুরে, আর এই ভ্রমণ কাহিনীটি সেই বিষয়ে।...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 3 Feb 2025
ঘুম ভাঙলো প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজের শব্দে। বাইরে তখন খুবই কুয়াশা, হোটেলের ঘরের কাঁচের জানলা বাষ্পে পূর্ণ, কিছুই দৃষ্টিগোচর হচ্ছে না, অবশেষে জানলা খুলে কুচকাওয়াজ দেখছিলাম। তারপর প্রস্তুত হয়ে আমরা আমরা বেরোলাম স্থানীয় বিভিন্ন দ্রষ্টব্যস্থান গুলির উদ্দেশ্যে। গতকাল ছিল ঐতিহাসিক ভ্রমণ, আর আজ আমরা সাক্ষী থাকবো প্রাগৈতিহাসিক কালের কিছু নিদর্শনের। ...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 28 Jan 2025
মালদার নিকট মানিকচক ঘাট থেকে ভেসেলে গঙ্গা পার হয়ে আমরা পৌঁছলাম রাজমহল ঘাটে, তখন প্রায় ১'টা বাজে। মালদা ভ্রমণের পর এবার আমরা রাজমহল ঘুরব। ঝাড়খন্ড রাজ্যের সাহিবগঞ্জ জেলায় রাজমহল অবস্থিত, যা একদা মাল-পাহাড়িয়া উপজাতির গোষ্ঠী মাল রাজা শাসন করতেন। সকালে হোটেল থেকে প্রাতঃরাশ সেরেই বেরিয়েছিলাম আমরা।...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 28 Jan 2025
হাবশী বংশের পরে বাংলার শাসনভার ন্যস্ত হয় হুসেন শাহী বংশের (১৪৯৪ থেকে ১৫৩৮ খ্রিস্টাব্দ) উপর। আলাউদ্দিন হুসেন শাহ ছিলেন এই বংশের প্রতিষ্ঠাতা। বড়ো সোনা মসজিদ বা বারদুয়ারী মসজিদের নির্মাণ কার্য আলাউদ্দিন হুসেন শাহের সময়কালে আরম্ভ হলেও নির্মাণকার্যটি শেষ হয় নাসিরুদ্দিন নসরৎ শাহের আমলে।...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 28 Jan 2025
গতকাল রেডিওতে গল্প শুনতে শুনতে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। ঘুম ভাঙলো বেশ ভোরে। হোটেলে প্রাতঃরাশ সকাল ৮ টা থেকে ১০ টা পর্যন্ত। আমরা পৌনে ন'টার মধ্যে প্রাতঃরাশ সেরে ন'টা নাগাদ বেরিয়ে পড়লাম। গতকালই আমি অটো-র জন্যে বলে রেখেছিলাম। সঠিক সময়ে আমাদের অটো চালক দাদা এসে গিয়েছিলেন। বর্তমানে মালদা শহরের দক্ষিণে গৌড় এবং উত্তরে রয়েছে পাণ্ডুয়া।...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 28 Jan 2025
সকাল ন'টায় কলকাতা স্টেশন থেকে রওনা হয়ে ১২৩৬৩ কলকাতা-হলদিবাড়ি সুপারফাস্ট সঠিক সময় বিকাল ৩টে-তে মালদা টাউন পৌঁছলো। আর আমরা এসে পৌঁছলাম অতীতের মহানগর গৌড়ে।...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 28 Jan 2025
আজ একটু বেলা করেই উঠলো সবাই। গত কয়েকদিন ধরে বেশ ভোর ভোরই উঠতে হচ্ছিলো সকলকে, আজ একটু বেশিক্ষন বিছানায় কাটানো যাচ্ছে, বেশ লাগছে। গতকাল একটি ফটো আমরা গাড়িতে ফেলে এসেছিলাম, তাই রুডিকে ফোন করে অনুরোধ করলাম সে যেন গতকালের গাড়িটিই আমাদের জন্যে আজকে পাঠায়, সেটিতেই আমরা যাবো পাটায়া।...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 25 Jan 2025
আজ আমাদের ব্যাঙ্কক ঘোরার প্রথম দিন। প্রথমে আমরা যাবো ম্যাকলং রেলস্টেশনে (Maeklong Station)। রেললাইনের দু'পাশে পসরা সাজিয়ে বাজার বসেছে। ট্রেনটি যখন আসে দোকানগুলির উপর থেকে চাঁদোয়াগুলি সরিয়ে নেওয়া হয়, সংকীর্ণ লাইনটি বেয়ে রেলগাড়িটি স্টেশনে আসে।...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 25 Jan 2025
আজও ঘুম ভাঙলো ভোর ৫ টায়। আসলে থাইল্যান্ড সময় দক্ষিণ কোরিয়ার সময়ের থেকে ২ ঘন্টা পিছিয়ে, আমার বায়োলজিক্যাল ক্লক অনুসারে আমি বাড়িতে সকাল ৭ টায় উঠি, কাজেই এখানে তাড়াতাড়ি আমার ঘুম ভেঙে যাচ্ছে। ...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 25 Jan 2025
আজ খুব ভোরে, প্রায় ৫ টা নাগাদ, ঘুম ভেঙে গিয়েছিলো। বাইরে তখনও অন্ধকার, বারান্দায় এসে বসলাম, একটু পরে আলো ফুটবে। বেশ ভালো লাগে ভোর হওয়া দেখতে। ৬টা নাগাদ সবাইকে ডেকে দিলাম, প্রাত্যহিক কাজ সেরে ফ্রেশ হয়ে চা-বিস্কুট খেয়ে আমরা অপেক্ষা করছিলাম। সাড়ে সাতটায় গাড়ি এলো আমাদের নিয়ে যেতে। আজ আমরা অনেকগুলি দ্বীপ ঘুরে দেখবো, সমুদ্র যাত্রা, সমুদ্রস্নান সবই হবে, কাজেই বাড়ি থেকে স্নান সেরে নেওয়ার প্রয়োজন ছিল না।...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 25 Jan 2025
অন্তর্দেশীয় বহির্গমন বিমানবন্দরের তিনতলায় অবস্থিত। পূর্বেই বলেছি এবার আমাদের যাত্রা ফুকেটের উদ্দেশ্যে। বিমানবন্দরে নির্দিষ্ট বিমানের কাউন্টার থেকে বোর্ডিং পাস সংগ্রহ করে, নিরাপত্তা পরীক্ষার পর যখন নির্দিষ্ট দ্বারের সামনে এসে পৌঁছলাম তখন হাতে বেশ কিছুটা সময় ছিল। মা বাবা'রা কলকাতা থেকে অনেক মিষ্টি নিয়ে এসেছিলেন, কয়েকটির সদ্গতি করে বিমানে চড়লাম।...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 25 Jan 2025
প্রায় দীর্ঘ সাড়ে তিন বৎসর পর কয়েকদিনের ছুটিতে সপরিবারে গিয়েছিলাম থাইল্যান্ড। আগামী কয়েকটি পর্বে আমি আমাদের এই ভ্রমণ কাহিনীটি বিস্তারিত লিখব। ...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 25 Jan 2025
উহান আজ বিশ্ববাসীর কাছে খুব পরিচিত নাম। কোভিড-১৯ এই শহরেই প্রথম সংক্রামিত হয়েছিল। আমার এই শহরের সাথে পরিচয় তার কিছু পূর্বে, ২০১৮ খ্রিস্টাব্দের মাঝামাঝি সময়ে। একটি বিজ্ঞান সম্মেলনে যোগদান করতে ওই বছর মে মাসে আমি উহান শহরে যাই।...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 23 Jan 2025
২০১৭ সালের অক্টোবর মাসে গিয়েছিলাম তাজপুর-শঙ্করপুর-দীঘা বেড়াতে। তাজপুর বেড়ানোর অভিজ্ঞতা সম্বন্ধে একটি ব্লগ আমি পূর্বে লিখেছি। আজকের ব্লগে আমি শঙ্করপুর বেড়ানোর অভিজ্ঞতা লিখবো। ...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 20 Jan 2025
বৈচিত্র্যময় ভারতবর্ষের মৃত্তিকার প্রতিটি কণায় কান পাতলে শোনা যায় তার ইতিহাস, লোকসংস্কৃতি, আর দর্শন। এই বৈচিত্র্যময়তার সাথে একাত্মতা অনুভব করেই আমরা সেইস্থানের মাহাত্ম্য অনুধাবন করি।...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 20 Jan 2025
আমি যে খুব ট্রেকিং প্রিয় মানুষ তা নয়, তবে বিগত কয়েক বৎসর ধরে, মানে আমার দক্ষিণ কোরিয়ায় বসবাসের সময়কালের মধ্যে, বৎসরান্তে একবার গবেষণাগারের সকলের সাথে আমি কোনো না কোনো পর্বতে হাইকিং করতে যাই। করোনা মহামারীর পূর্বে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাসে গিয়েছিলাম সোবেকসানে (সোবেক পর্বতে, কোরিয়ান 'সান' শব্দটির অর্থ পর্বত), আবার ২০২২ সালের ডিসেম্বর মাসেও আমরা গিয়েছিলাম ওই পর্বতে।...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 20 Jan 2025
এ ভ্রমণ বৃত্তান্ত আমার ছোটবেলার, আমি তখন পঞ্চম শ্রেণীতে পড়ি। বাবার এক বন্ধুর পরিবারের সাথে আমরা গিয়েছিলাম রাজগীর। বাবাকে কখনওই বেড়ানোর দীর্ঘ পরিকল্পনা করতে দেখিনি, হঠাৎ করেই ঠিক করে ফেলতেন, কখনও টিকিট কেটে এনে বাড়িতে এসে আমাদের নিয়ে রওনা হতেন।...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 20 Jan 2025
মহানগরী মুম্বই, ছত্রপতি শিবাজী মহারাজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যখন এসে পৌঁছলাম দুপুর প্রায় গড়িয়ে গেছে। এবার সোজা হোটেল। সাকিনাকা-তে আমাদের হোটেল, বিমানবন্দর থেকে বেশি দূরে নয়। আমাদের ফেরার ফ্লাইট সকালে, তাই এই জায়গাটা বেশ সুবিধার হলো আমাদের জন্যে। মুম্বই শহরে দীর্ঘদিন আমি কাটিয়েছি, কলেজের পাঠ শেষ করে কর্মসূত্রে এ শহরে আমি এসেছিলাম।...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 20 Jan 2025
পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় বঙ্গোপসাগর উপকূলে অবস্থিত তাজপুর পশ্চিমবঙ্গের সৈকত পর্যটনের তুলনামূলক নতুন সংযোজন। দ্বাদশ পরিকল্পনা অনুসারে পশ্চিমবঙ্গের অন্তর্গত যে চারটি পর্যটন বর্তনী (Circuit) শনাক্তকরণ করা হয়েছিল তার মধ্যে প্রথমটি সৈকত কেন্দ্রিক (দীঘা -শঙ্করপুর - তাজপুর - জুনপুট - মন্দারমনি) আর আমাদের গন্তব্য তাজপুর, জেলে বসতির উপর আধারিত এই পর্যটন কেন্দ্র।...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 20 Jan 2025
সিরাজের মৃত্যুতে অবসান হল আফসার বংশের, ভারতবর্ষের ভাগ্যাকাশে নেমে এলো সূর্যাস্ত। শুরু হল মীর জাফর বংশ, ইতিহাসে যা নাজাফী বংশ বলে পরিচিত। ২৪ শে জুন ১৭৫৭ খ্রিষ্টাব্দে যখন পলাশির যুদ্ধ শেষ হয় আর ২৯শে জুন মীর জাফর মুর্শিদাবাদের সিংহাসনে বসেন, রবার্ট ক্লাইভ যথার্থই বলেছিলেন এই জয় তাঁর নয় বরং এই জয় মীর জাফরের।...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 20 Jan 2025
পড়ন্ত বেলাতেই এসে উপস্থিত হলাম অতীতের মহানগরী ‘মুক্সুবাদ’-এ। নগরীর বাঁ দিক দিয়ে বয়ে চলেছে ভাগীরথী নদী, এই নগরের উত্থান তাকে ঘিরেই। নদীপথে ব্যবসা বাণিজ্যের সুবিধা হেতুই মোঘল সম্রাট ঔরঙ্গজেব নিযুক্ত তৎকালীন বাঙলা, বিহার আর উড়িষ্যার সুবেদার (পরবর্তীকালে ‘নবাব নাজিম’) মুর্শিদকুলী খাঁ ঢাকা থেকে ভাগীরথীর উপকণ্ঠে মুক্সুবাদে রাজধানী স্থানান্তরিত করেন, তাঁর নামানুসারে নগরের নাম পরিবর্তিত হয়ে হল মুর্শিদাবাদ, সূচনা হল ভারতবর্ষের এক নতুন ইতিহাসের।...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 20 Jan 2025
সকাল ১০ টা ১০ র শান্তিনিকেতন এক্সপ্রেস হাওড়া ছেড়ে যখন শান্তিনিকেতন পৌঁছালো তখন বেলা প্রায় সাড়ে বারোটা। বাইরে বেরিয়ে টোটো ধরে হোটেল পান্থনিবাসে পৌঁছলাম প্রায় দেড়টা নাগাদ।...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 20 Jan 2025
সময়ের অপ্রতুলতা জীবনধারণের সবক্ষেত্রে উপলব্ধি করলেও, বোধহয় সর্বাধিক প্রকট হয়ে ওঠে দৈনন্দিন ব্যস্ত জীবনের মধ্যে ভ্রমণের সময় অনুসন্ধানে। পাঁচমাড়ি ভ্রমণের সময়েও এর ব্যতিক্রম হয়নি।...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 13 Jan 2025
আনদং বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইয়ংদেওক বা ইয়ংদক (Yeongdeok, South Korea) সমুদ্র সৈকতের দূরত্ব ৫৫-৬০ কিলোমিটারের মতন, সময় লাগে ঘন্টা খানেক। অপূর্ব সুন্দর সৈকতের পাশাপাশি ইয়ংদক বিখ্যাত তার মৎস বন্দর আর বিশেষত কাঁকড়ার জন্যে। ...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 13 Jan 2025
যখন হরিদ্বার পৌঁছলাম ‘হর কি পাউরি’ ঘাটে সন্ধ্যারতি শুরু হয়ে গিয়েছে। ব্রহ্মকুণ্ডের সামনে প্রথমে মাতা গঙ্গার বন্দনা আর তারপর পুরোহিতগণ নদীমাতৃকার উদ্দেশ্যে আরতি করেন, অগণিত ভক্ত সেই মঙ্গলারতি দর্শন করে নিজেদের ধন্য মনে করেন।........
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 13 Jan 2025



