খাজুরাহো: পাথরে খোদাই করা ইতিহাস, দর্শন ও সৌন্দর্যের এক অনন্য সফর (Khajuraho: A Journey Through History, Philosophy, and Beauty Carved in Stone)
খাজুরাহো: পাথরে খোদাই করা ইতিহাস, দর্শন ও সৌন্দর্যের এক অনন্য সফর (Khajuraho: A Journey Through History, Philosophy, and Beauty Carved in Stone)
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 4 August 2026
মার্চ মাসের শেষভাগ। মধ্যপ্রদেশের গ্রীষ্ম তখনও পুরোপুরি প্রখর হয়ে ওঠেনি। ২০ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফিরতে ফিরতে মনে হলো অনেক দিন কোথাও যাওয়া হয়ে ওঠেনি, একটু ঘুরে এলে ভালো হয়। যিনি আমায় গাড়ি চালিয়ে প্রত্যহ বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়ে যান, তাঁকে বলতেই তিনি রাজি হলেন, ঠিক হলো আমরা খাজুরাহো দেখতে যাবো, রাত আটটা নাগাদ রওনা হওয়া যাবে। । গন্তব্য এমন এক স্থান, যার নাম শুনলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে মধ্যযুগীয় ভারতের অসামান্য স্থাপত্য কীর্তি, অপরূপ ভাস্কর্য, স্থাপত্য কীর্তি- প্রস্তর নির্মীত এক বিস্ময়কর সভ্যতার কাহিনী।
বালাঘাট থেকে খাজুরাহো-র দূরত্ব প্রায় ৪৯০ কিলোমিটার, সারারাত পথ চলার পর ভোরের কোমল আলো তখন ছড়িয়ে পড়েছে চারিদিকে, আমরা পৌঁছালাম খাজুরাহো। দীর্ঘ যাত্রার ক্লান্তি সত্ত্বেও আমাদের মনে নতুন এক ঐতিহাসিক ভূখণ্ডে পৌঁছানোর প্রবল উত্তেজনা ছিল। খাজুরাহো প্রবেশের পর থেকেই একের পর এক হোটেল রয়েছে, উচ্চ মানের হোটেলের আধিক্যও চোখে পড়ার মতন, অর্থাৎ পর্যটক সমাগম বেশ হয় এই স্থানে। আমাদের প্রথম কর্তব্য হোটেলে উঠে একটু বিশ্রাম নেওয়া। খাজুরাহো-র প্রধান যে আকর্ষণ মন্দির তার নিকটেই একটি হ্রদ রয়েছে, তার উল্টোদিকে একটি হোটেলে আমরা উঠলাম, হোটেলের ঘর সংলগ্ন বারান্দায় বসে কিংবা বিছানায় বসেও হ্রদের দৃশ্য উপভোগ করা যায়। হ্রদের জলে সূর্যের প্রতিফলন, দূরে উড়ে যাওয়া পাখির দল, আর হালকা বাতাসের ছোঁয়ায় মন মুহূর্তেই সতেজ হয়ে উঠল। মনে হলো, ইতিহাসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার আগে প্রকৃতি যেন আমাদের স্বাগত জানালো।
চন্দেলাদের স্বপ্নের নগরী
আজকের খাজুরাহো একটি ছোট্ট শহর। কিন্তু প্রায় এক হাজার বছর আগে এটি ছিল মধ্যভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র। নবম থেকে ত্রয়োদশ শতাব্দীর মধ্যে বুন্দেলখণ্ড অঞ্চলে রাজত্ব করতেন চন্দেলা রাজারা। তাঁদের রাজনৈতিক শক্তির কেন্দ্র ছিল কালিঞ্জর দুর্গ ও মহোবা, কিন্তু খাজুরাহো ছিল তাঁদের আধ্যাত্মিক রাজধানী। চন্দেলা রাজবংশের উৎপত্তি নিয়ে বহু কিংবদন্তি রয়েছে। জনশ্রুতি অনুযায়ী, চন্দ্রদেব ও হেমাবতীর পুত্র চন্দ্রবর্মন ছিলেন এই বংশের প্রতিষ্ঠাতা। যদিও ইতিহাস এই কাহিনিকে পুরোপুরি সমর্থন করে না, তবুও এটি স্থানীয় লোকস্মৃতিতে গভীরভাবে প্রোথিত। [এখানে উল্লেখ্য, এটি একটি ঐতিহাসিক স্থানের ভ্রমণকাহিনী (গবেষণাধর্মী বা গবেষণা নির্ভর ঐতিহাসিক প্রবন্ধ নয়) যার অন্যতম উপাদান স্থানীয় গাইডদের প্রদত্ত তথ্য, প্রচলিত লোককথা, বিশ্বাস ইত্যাদি।] ৯৫০ থেকে ১০৫০ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে চন্দেলা শাসকরা এখানে প্রায় ৮৫টি মন্দির নির্মাণ করেছিলেন। আজ টিকে আছে মাত্র ২০-২৫টি। কিন্তু এই অল্প সংখ্যক মন্দিরই মধ্যযুগীয় ভারতবর্ষ স্থাপত্য এবং শিল্পকলার যে উচ্চ শিখরে আরোহন করেছিল- তার সাক্ষ্য বহন করে। মন্দিরগুলির দিকে তাকিয়ে মনে হয়, এগুলি শুধুমাত্র ধর্মীয় স্থাপনা নয়; এগুলি এক সমৃদ্ধ সভ্যতার আত্মপ্রকাশ।

পাথরে খোদাই করা দর্শন

খাজুরাহো সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচিত বিষয় হলো এর তথাকথিত “কামশিল্প”। কিন্তু খাজুরাহোকে শুধুমাত্র সেই দৃষ্টিতে দেখা আসলে এক বিশাল ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক ভুল। মন্দিরের বহির্ভাগে প্রেম, দাম্পত্য, নৃত্য, সঙ্গীত, যুদ্ধ, শিকার, সামাজিক জীবন এবং মানবিক আবেগের বহুমাত্রিক প্রকাশ দেখা যায়। কামদৃশ্য তার একটি ক্ষুদ্র অংশ মাত্র। ভারতীয় দর্শনে মানুষের জীবনের চারটি প্রধান লক্ষ্য—ধর্ম, অর্থ, কাম ও মোক্ষ। খাজুরাহোর শিল্পীরা যেন এই চার পুরুষার্থকে পাথরের গায়ে রূপ দিয়েছেন। মন্দিরের বাহিরের অংশে রয়েছে জাগতিক জীবনের চিত্র। আর ক্রমশ ভিতরের দিকে এগোতে এগোতে পৌঁছাতে হয় গর্ভগৃহে, যেখানে অবস্থান করেন দেবতা। এটি যেন মানুষের আত্মিক যাত্রার প্রতীক—বাহ্যিক জগতের অভিজ্ঞতা থেকে অন্তরের নীরবতার দিকে অগ্রসর হওয়া। খাজুরাহোর সামনে দাঁড়িয়ে মনে হচ্ছিল, এক হাজার বছর আগে ভারতীয় শিল্পীরা মানবজীবনের যে সামগ্রিক দর্শন উপলব্ধি করেছিলেন, তা আজও সমান প্রাসঙ্গিক।
কারিগরদের বিস্ময়কর কীর্তি
একটি প্রশ্ন বারবার মনে জাগছিল—আধুনিক যন্ত্রপাতি ছাড়া কীভাবে সম্ভব হয়েছিল এমন স্থাপত্য?

খাজুরাহোর অধিকাংশ মন্দির নির্মিত হয়েছে বেলেপাথর দিয়ে। পাথরের খণ্ডগুলিকে এমন নিখুঁতভাবে কাটা ও সংযুক্ত করা হয়েছে যে কোথাও কোথাও মনে হয় যেন সম্পূর্ণ কাঠামোটি একটি মাত্র পাথর থেকে গড়া। প্রতিটি স্তম্ভ, প্রতিটি কার্নিশ, প্রতিটি দেওয়ালে অসংখ্য ভাস্কর্য। কোথাও নর্তকী আয়নায় মুখ দেখছেন, কোথাও সঙ্গীতশিল্পী বীণা বাজাচ্ছেন, কোথাও সৈনিক যুদ্ধে প্রস্তুত। এই সূক্ষ্মতা শুধু শিল্পকলার নিদর্শন নয়; এটি সমাজজীবনেরও দলিল।
যখন আমরা সেই ভাস্কর্যগুলির দিকে তাকিয়ে ছিলাম, তখন মনে হচ্ছিল পাথর নয়, যেন এক হাজার বছরের পুরোনো জীবন আমাদের সামনে জীবন্ত হয়ে উঠেছে।
মন্দির চত্বরে ঘুরতে ঘুরতে আমাদের পরিচয় হয় এক নিরাপত্তারক্ষীর সঙ্গে। সাধারণ পোশাক, অমায়িক ব্যবহার। কথাবার্তায় জানতে পারলাম, তাঁর পরিবারের পূর্বপুরুষেরা বহু বছর আগে পশ্চিমবঙ্গ থেকে এখানে চলে এসেছিলেন। আলাপ যত এগোতে লাগল, ততই বিস্ময় বাড়তে লাগল। তিনি পেশাদার গাইড নন, কিন্তু খাজুরাহোর ইতিহাস, ভাস্কর্য, স্থাপত্য এবং কিংবদন্তি সম্পর্কে তাঁর জ্ঞান ছিল অসাধারণ। স্থানীয় গাইডদের কথা শুনে, বই পড়ে এবং বছরের পর বছর ধরে এই ঐতিহ্যের মধ্যে বসবাস করে তিনি নিজেকে ইতিহাসের এক নিবেদিত পাঠকে পরিণত করেছেন। তাঁর সঙ্গে কথোপকথন ছিল আমাদের এই সফরের অন্যতম স্মরণীয় অভিজ্ঞতা। ইতিহাসের প্রতি মানুষের ব্যক্তিগত ভালোবাসা যে কত গভীর হতে পারে, তিনি তার এক উজ্জ্বল উদাহরণ।
কেন নদীর ক্যানিয়ন: প্রকৃতির অন্য বিস্ময়
মধ্যাহ্নভোজনের পর আমরা রওনা দিলাম কেন নদীর দিকে। এই কেন নদী এবং তার ক্যানিয়ন এই অঞ্চলের আরেক অনন্য সম্পদ। নদীর তীরে পৌঁছে আমরা মুগ্ধ হয়ে গেলাম। পাথুরে উপত্যকা, গভীর খাদ, আর তার মধ্যে দিয়ে বয়ে চলা গাঢ় সবুজ বর্ণের জলধারা—দৃশ্যটি যেন কোনো চিত্রশিল্পীর ক্যানভাস। লক্ষ লক্ষ বছরের ক্ষয়প্রক্রিয়ায় গড়ে ওঠা এই ক্যানিয়ন ভারতের ভূতাত্ত্বিক ইতিহাসের এক জীবন্ত দলিল। চারদিকে নীরবতা। শুধু নদীর কলকল ধ্বনি আর দূরের পাখির ডাক। মনে হচ্ছিল, প্রকৃতি এখানে সময়কে ধীর করে দিয়েছে।
খাজুরাহোর মন্দির মানুষ সৃষ্টি করেছে, কিন্তু কেন নদীর ক্যানিয়ন নির্মাণ করেছে প্রকৃতি। দুটিই শিল্পকর্ম, শুধু শিল্পীর পরিচয় ভিন্ন।


ইউনেস্কোর স্বীকৃতি ও আজকের খাজুরাহো
১৯৮৬ সালে খাজুরাহোর মন্দিরসমূহ ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্য স্থানের মর্যাদা লাভ করে। এই স্বীকৃতি শুধু ভারতের জন্য নয়, সমগ্র মানবজাতির সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতি এক সম্মান। আজ বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে মানুষ এখানে আসেন। কেউ ইতিহাসের সন্ধানে, কেউ স্থাপত্যের টানে, কেউ বা ভারতীয় দর্শনের গভীরতা উপলব্ধি করতে। কিন্তু প্রত্যেকেই এখানে এসে উপলব্ধি করেন যে খাজুরাহো কেবল একটি পর্যটনকেন্দ্র নয়; এটি এক সভ্যতার আত্মপ্রকাশ।
বিদায়ের মুহূর্ত
সন্ধ্যায় হোটেলে ফিরে হ্রদের ধারে বসে দিনের অভিজ্ঞতাগুলো স্মরণ করছিলাম। পশ্চিম আকাশে সূর্য ধীরে ধীরে অস্ত যাচ্ছিল। জলের উপর লাল আভা পড়েছে। মনে হচ্ছিল, হাজার বছরের ইতিহাস যেন দিনের শেষে নিঃশব্দে বিশ্রাম নিচ্ছে।
পূর্বেই উল্লেখ করেছি দেশ বিদেশের বহু পর্যটক এখানে আসেন, সন্ধ্যেবেলা ঘুরতে ঘুরতে হঠাৎ চোখে পড়লো একটি রেস্তোরাঁয় কোরিয়ান ভাষায় কয়েকটি খাবারের নামোল্লেখ রয়েছে, কি এক অজানা টানে সেখানে গিয়ে উপস্থিত হলাম- হয়তো দীর্ঘ জীবন কোরিয়া দেশে কাটানোর ফলে ওই সংস্কৃতির প্রতি আমরা একটা নিজস্বতা অনুভব করি। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো, রেস্তরাঁটিতে সেইদিন ওই পদগুলি প্রস্তুত করার জন্যে কোনো পাচক উপস্থিত ছিলেন না, কাজেই আমরা অন্য একটা রেস্তোরাঁয় রাত্রিকালীন আহার সেরেছিলাম।
ঘুম ভাঙলো খুব ভোরে, আজ ফিরতে হবে। সকালে প্রাতরাশ সেরে আমরা বালাঘাটের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করলাম। বিকেলের দিকে গন্তব্যে পৌঁছে গেলেও মন রয়ে গেল খাজুরাহোর মন্দিরগুলোর কাছে।
ভ্রমণ মানুষকে নতুন স্থান দেখায়। কিন্তু কিছু ভ্রমণ মানুষকে নতুনভাবে ভাবতে শেখায়। খাজুরাহো আমার কাছে তেমনই একটি অভিজ্ঞতা। এখানে এসে বুঝেছি, ইতিহাস শুধু রাজা-রাজড়ার গল্প নয়; ইতিহাস মানুষের স্বপ্ন, শিল্প, দর্শন এবং সৌন্দর্যবোধেরও গল্প। আর সেই গল্প আজও পাথরের গায়ে খোদাই হয়ে বেঁচে আছে, সহস্র বছর পেরিয়েও।
মার্চ, ২০২৬
Travel & Travelogue Blogs
Our Latest Travel & Travelogue Blogs
মার্চ মাসের শেষভাগ। মধ্যপ্রদেশের গ্রীষ্ম তখনও পুরোপুরি প্রখর হয়ে ওঠেনি। ২০ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফিরতে ফিরতে মনে হলো অনেক দিন কোথাও যাওয়া হয়ে ওঠেনি, একটু ঘুরে এলে ভালো হয়। যিনি আমায় গাড়ি চালিয়ে প্রত্যহ বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়ে যান, তাঁকে বলতেই তিনি রাজি হলেন, ঠিক হলো আমরা খাজুরাহো দেখতে যাবো,..........
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 4 August 2026
দীর্ঘদিন অনবরত কাজ করে বেশ হাঁফিয়ে উঠেছিলাম, অনেক দিন পর রাখী বা রক্ষাবন্ধনের ছুটি পাওয়া গেলো, পরদিন আবার রবিবার, কাজেই পরপর দু'দিন কর্মবিরতি, ঠিক করলাম জব্বলপুর থেকে ঘুরে আসবো।.....
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 22 September 2025
বন্ধুদের সাথে ঠিক করলাম, সম্মেলনের শেষ দিনে শেষ হওয়ার পর আমাদের হাতে কয়েক ঘন্টা সময় থাকবে, সেই সময় আমরা একটু ঘুরে দেখবো শহরটা। তবে একদিন একটু পর্যন্ত দুপুরে ঘুরে এলাম চাঙ্গি এয়ারপোর্ট। এই বিমানবন্দরটির মধ্যে রয়েছে একটি ট্রপিকাল ফরেস্টের ছোট সংস্করণ, যা অবশ্যই একটি মনোমুগ্ধকর দ্রষ্টব্য।...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 4 Feb 2025
পূর্বে একাধিকবার উল্লেখ করেছি আমার ভ্রমণ অধিকাংশ সময়েই কর্মসূত্রে। এর একটা অসুবিধা হলো, ওই স্থানের অনেক দ্রষ্টব্য আমার সময়ের সংক্ষিপ্ততায় দেখা হয়ে ওঠেনা, আবার সুবিধা হলো, এমন কিছু দ্রষ্টব্য, বিশেষত ওই স্থান সম্পর্কিত এমন কিছু তথ্য (যা সম্পর্কে আমার আগ্রহ রয়েছে) জানা যায় বা আমার দেখা হয় যা হয়তো কেবলমাত্র পর্যটক হয়ে এলে দেখা হয়ে উঠতো না। গতবৎসর জুন মাসে একটি বিজ্ঞান সম্মেলনে যোগদান করতে গিয়েছিলাম সিঙ্গাপুরে, আর এই ভ্রমণ কাহিনীটি সেই বিষয়ে।...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 3 Feb 2025
ঘুম ভাঙলো প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজের শব্দে। বাইরে তখন খুবই কুয়াশা, হোটেলের ঘরের কাঁচের জানলা বাষ্পে পূর্ণ, কিছুই দৃষ্টিগোচর হচ্ছে না, অবশেষে জানলা খুলে কুচকাওয়াজ দেখছিলাম। তারপর প্রস্তুত হয়ে আমরা আমরা বেরোলাম স্থানীয় বিভিন্ন দ্রষ্টব্যস্থান গুলির উদ্দেশ্যে। গতকাল ছিল ঐতিহাসিক ভ্রমণ, আর আজ আমরা সাক্ষী থাকবো প্রাগৈতিহাসিক কালের কিছু নিদর্শনের। ...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 28 Jan 2025
মালদার নিকট মানিকচক ঘাট থেকে ভেসেলে গঙ্গা পার হয়ে আমরা পৌঁছলাম রাজমহল ঘাটে, তখন প্রায় ১'টা বাজে। মালদা ভ্রমণের পর এবার আমরা রাজমহল ঘুরব। ঝাড়খন্ড রাজ্যের সাহিবগঞ্জ জেলায় রাজমহল অবস্থিত, যা একদা মাল-পাহাড়িয়া উপজাতির গোষ্ঠী মাল রাজা শাসন করতেন। সকালে হোটেল থেকে প্রাতঃরাশ সেরেই বেরিয়েছিলাম আমরা।...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 28 Jan 2025
হাবশী বংশের পরে বাংলার শাসনভার ন্যস্ত হয় হুসেন শাহী বংশের (১৪৯৪ থেকে ১৫৩৮ খ্রিস্টাব্দ) উপর। আলাউদ্দিন হুসেন শাহ ছিলেন এই বংশের প্রতিষ্ঠাতা। বড়ো সোনা মসজিদ বা বারদুয়ারী মসজিদের নির্মাণ কার্য আলাউদ্দিন হুসেন শাহের সময়কালে আরম্ভ হলেও নির্মাণকার্যটি শেষ হয় নাসিরুদ্দিন নসরৎ শাহের আমলে।...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 28 Jan 2025
গতকাল রেডিওতে গল্প শুনতে শুনতে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। ঘুম ভাঙলো বেশ ভোরে। হোটেলে প্রাতঃরাশ সকাল ৮ টা থেকে ১০ টা পর্যন্ত। আমরা পৌনে ন'টার মধ্যে প্রাতঃরাশ সেরে ন'টা নাগাদ বেরিয়ে পড়লাম। গতকালই আমি অটো-র জন্যে বলে রেখেছিলাম। সঠিক সময়ে আমাদের অটো চালক দাদা এসে গিয়েছিলেন। বর্তমানে মালদা শহরের দক্ষিণে গৌড় এবং উত্তরে রয়েছে পাণ্ডুয়া।...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 28 Jan 2025
সকাল ন'টায় কলকাতা স্টেশন থেকে রওনা হয়ে ১২৩৬৩ কলকাতা-হলদিবাড়ি সুপারফাস্ট সঠিক সময় বিকাল ৩টে-তে মালদা টাউন পৌঁছলো। আর আমরা এসে পৌঁছলাম অতীতের মহানগর গৌড়ে।...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 28 Jan 2025
আজ একটু বেলা করেই উঠলো সবাই। গত কয়েকদিন ধরে বেশ ভোর ভোরই উঠতে হচ্ছিলো সকলকে, আজ একটু বেশিক্ষন বিছানায় কাটানো যাচ্ছে, বেশ লাগছে। গতকাল একটি ফটো আমরা গাড়িতে ফেলে এসেছিলাম, তাই রুডিকে ফোন করে অনুরোধ করলাম সে যেন গতকালের গাড়িটিই আমাদের জন্যে আজকে পাঠায়, সেটিতেই আমরা যাবো পাটায়া।...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 25 Jan 2025
আজ আমাদের ব্যাঙ্কক ঘোরার প্রথম দিন। প্রথমে আমরা যাবো ম্যাকলং রেলস্টেশনে (Maeklong Station)। রেললাইনের দু'পাশে পসরা সাজিয়ে বাজার বসেছে। ট্রেনটি যখন আসে দোকানগুলির উপর থেকে চাঁদোয়াগুলি সরিয়ে নেওয়া হয়, সংকীর্ণ লাইনটি বেয়ে রেলগাড়িটি স্টেশনে আসে।...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 25 Jan 2025
আজও ঘুম ভাঙলো ভোর ৫ টায়। আসলে থাইল্যান্ড সময় দক্ষিণ কোরিয়ার সময়ের থেকে ২ ঘন্টা পিছিয়ে, আমার বায়োলজিক্যাল ক্লক অনুসারে আমি বাড়িতে সকাল ৭ টায় উঠি, কাজেই এখানে তাড়াতাড়ি আমার ঘুম ভেঙে যাচ্ছে। ...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 25 Jan 2025
আজ খুব ভোরে, প্রায় ৫ টা নাগাদ, ঘুম ভেঙে গিয়েছিলো। বাইরে তখনও অন্ধকার, বারান্দায় এসে বসলাম, একটু পরে আলো ফুটবে। বেশ ভালো লাগে ভোর হওয়া দেখতে। ৬টা নাগাদ সবাইকে ডেকে দিলাম, প্রাত্যহিক কাজ সেরে ফ্রেশ হয়ে চা-বিস্কুট খেয়ে আমরা অপেক্ষা করছিলাম। সাড়ে সাতটায় গাড়ি এলো আমাদের নিয়ে যেতে। আজ আমরা অনেকগুলি দ্বীপ ঘুরে দেখবো, সমুদ্র যাত্রা, সমুদ্রস্নান সবই হবে, কাজেই বাড়ি থেকে স্নান সেরে নেওয়ার প্রয়োজন ছিল না।...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 25 Jan 2025
অন্তর্দেশীয় বহির্গমন বিমানবন্দরের তিনতলায় অবস্থিত। পূর্বেই বলেছি এবার আমাদের যাত্রা ফুকেটের উদ্দেশ্যে। বিমানবন্দরে নির্দিষ্ট বিমানের কাউন্টার থেকে বোর্ডিং পাস সংগ্রহ করে, নিরাপত্তা পরীক্ষার পর যখন নির্দিষ্ট দ্বারের সামনে এসে পৌঁছলাম তখন হাতে বেশ কিছুটা সময় ছিল। মা বাবা'রা কলকাতা থেকে অনেক মিষ্টি নিয়ে এসেছিলেন, কয়েকটির সদ্গতি করে বিমানে চড়লাম।...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 25 Jan 2025
প্রায় দীর্ঘ সাড়ে তিন বৎসর পর কয়েকদিনের ছুটিতে সপরিবারে গিয়েছিলাম থাইল্যান্ড। আগামী কয়েকটি পর্বে আমি আমাদের এই ভ্রমণ কাহিনীটি বিস্তারিত লিখব। ...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 25 Jan 2025
উহান আজ বিশ্ববাসীর কাছে খুব পরিচিত নাম। কোভিড-১৯ এই শহরেই প্রথম সংক্রামিত হয়েছিল। আমার এই শহরের সাথে পরিচয় তার কিছু পূর্বে, ২০১৮ খ্রিস্টাব্দের মাঝামাঝি সময়ে। একটি বিজ্ঞান সম্মেলনে যোগদান করতে ওই বছর মে মাসে আমি উহান শহরে যাই।...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 23 Jan 2025
২০১৭ সালের অক্টোবর মাসে গিয়েছিলাম তাজপুর-শঙ্করপুর-দীঘা বেড়াতে। তাজপুর বেড়ানোর অভিজ্ঞতা সম্বন্ধে একটি ব্লগ আমি পূর্বে লিখেছি। আজকের ব্লগে আমি শঙ্করপুর বেড়ানোর অভিজ্ঞতা লিখবো। ...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 20 Jan 2025
বৈচিত্র্যময় ভারতবর্ষের মৃত্তিকার প্রতিটি কণায় কান পাতলে শোনা যায় তার ইতিহাস, লোকসংস্কৃতি, আর দর্শন। এই বৈচিত্র্যময়তার সাথে একাত্মতা অনুভব করেই আমরা সেইস্থানের মাহাত্ম্য অনুধাবন করি।...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 20 Jan 2025
আমি যে খুব ট্রেকিং প্রিয় মানুষ তা নয়, তবে বিগত কয়েক বৎসর ধরে, মানে আমার দক্ষিণ কোরিয়ায় বসবাসের সময়কালের মধ্যে, বৎসরান্তে একবার গবেষণাগারের সকলের সাথে আমি কোনো না কোনো পর্বতে হাইকিং করতে যাই। করোনা মহামারীর পূর্বে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাসে গিয়েছিলাম সোবেকসানে (সোবেক পর্বতে, কোরিয়ান 'সান' শব্দটির অর্থ পর্বত), আবার ২০২২ সালের ডিসেম্বর মাসেও আমরা গিয়েছিলাম ওই পর্বতে।...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 20 Jan 2025
এ ভ্রমণ বৃত্তান্ত আমার ছোটবেলার, আমি তখন পঞ্চম শ্রেণীতে পড়ি। বাবার এক বন্ধুর পরিবারের সাথে আমরা গিয়েছিলাম রাজগীর। বাবাকে কখনওই বেড়ানোর দীর্ঘ পরিকল্পনা করতে দেখিনি, হঠাৎ করেই ঠিক করে ফেলতেন, কখনও টিকিট কেটে এনে বাড়িতে এসে আমাদের নিয়ে রওনা হতেন।...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 20 Jan 2025
মহানগরী মুম্বই, ছত্রপতি শিবাজী মহারাজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যখন এসে পৌঁছলাম দুপুর প্রায় গড়িয়ে গেছে। এবার সোজা হোটেল। সাকিনাকা-তে আমাদের হোটেল, বিমানবন্দর থেকে বেশি দূরে নয়। আমাদের ফেরার ফ্লাইট সকালে, তাই এই জায়গাটা বেশ সুবিধার হলো আমাদের জন্যে। মুম্বই শহরে দীর্ঘদিন আমি কাটিয়েছি, কলেজের পাঠ শেষ করে কর্মসূত্রে এ শহরে আমি এসেছিলাম।...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 20 Jan 2025
পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় বঙ্গোপসাগর উপকূলে অবস্থিত তাজপুর পশ্চিমবঙ্গের সৈকত পর্যটনের তুলনামূলক নতুন সংযোজন। দ্বাদশ পরিকল্পনা অনুসারে পশ্চিমবঙ্গের অন্তর্গত যে চারটি পর্যটন বর্তনী (Circuit) শনাক্তকরণ করা হয়েছিল তার মধ্যে প্রথমটি সৈকত কেন্দ্রিক (দীঘা -শঙ্করপুর - তাজপুর - জুনপুট - মন্দারমনি) আর আমাদের গন্তব্য তাজপুর, জেলে বসতির উপর আধারিত এই পর্যটন কেন্দ্র।...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 20 Jan 2025
সিরাজের মৃত্যুতে অবসান হল আফসার বংশের, ভারতবর্ষের ভাগ্যাকাশে নেমে এলো সূর্যাস্ত। শুরু হল মীর জাফর বংশ, ইতিহাসে যা নাজাফী বংশ বলে পরিচিত। ২৪ শে জুন ১৭৫৭ খ্রিষ্টাব্দে যখন পলাশির যুদ্ধ শেষ হয় আর ২৯শে জুন মীর জাফর মুর্শিদাবাদের সিংহাসনে বসেন, রবার্ট ক্লাইভ যথার্থই বলেছিলেন এই জয় তাঁর নয় বরং এই জয় মীর জাফরের।...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 20 Jan 2025
পড়ন্ত বেলাতেই এসে উপস্থিত হলাম অতীতের মহানগরী ‘মুক্সুবাদ’-এ। নগরীর বাঁ দিক দিয়ে বয়ে চলেছে ভাগীরথী নদী, এই নগরের উত্থান তাকে ঘিরেই। নদীপথে ব্যবসা বাণিজ্যের সুবিধা হেতুই মোঘল সম্রাট ঔরঙ্গজেব নিযুক্ত তৎকালীন বাঙলা, বিহার আর উড়িষ্যার সুবেদার (পরবর্তীকালে ‘নবাব নাজিম’) মুর্শিদকুলী খাঁ ঢাকা থেকে ভাগীরথীর উপকণ্ঠে মুক্সুবাদে রাজধানী স্থানান্তরিত করেন, তাঁর নামানুসারে নগরের নাম পরিবর্তিত হয়ে হল মুর্শিদাবাদ, সূচনা হল ভারতবর্ষের এক নতুন ইতিহাসের।...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 20 Jan 2025
সকাল ১০ টা ১০ র শান্তিনিকেতন এক্সপ্রেস হাওড়া ছেড়ে যখন শান্তিনিকেতন পৌঁছালো তখন বেলা প্রায় সাড়ে বারোটা। বাইরে বেরিয়ে টোটো ধরে হোটেল পান্থনিবাসে পৌঁছলাম প্রায় দেড়টা নাগাদ।...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 20 Jan 2025
সময়ের অপ্রতুলতা জীবনধারণের সবক্ষেত্রে উপলব্ধি করলেও, বোধহয় সর্বাধিক প্রকট হয়ে ওঠে দৈনন্দিন ব্যস্ত জীবনের মধ্যে ভ্রমণের সময় অনুসন্ধানে। পাঁচমাড়ি ভ্রমণের সময়েও এর ব্যতিক্রম হয়নি।...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 13 Jan 2025
আনদং বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইয়ংদেওক বা ইয়ংদক (Yeongdeok, South Korea) সমুদ্র সৈকতের দূরত্ব ৫৫-৬০ কিলোমিটারের মতন, সময় লাগে ঘন্টা খানেক। অপূর্ব সুন্দর সৈকতের পাশাপাশি ইয়ংদক বিখ্যাত তার মৎস বন্দর আর বিশেষত কাঁকড়ার জন্যে। ...
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 13 Jan 2025
যখন হরিদ্বার পৌঁছলাম ‘হর কি পাউরি’ ঘাটে সন্ধ্যারতি শুরু হয়ে গিয়েছে। ব্রহ্মকুণ্ডের সামনে প্রথমে মাতা গঙ্গার বন্দনা আর তারপর পুরোহিতগণ নদীমাতৃকার উদ্দেশ্যে আরতি করেন, অগণিত ভক্ত সেই মঙ্গলারতি দর্শন করে নিজেদের ধন্য মনে করেন।........
- সম্পত ঘোষ (Sampat Ghosh)
- 13 Jan 2025